৫ এপ্রিল ২০১৮


কেমন আছেন হাওরের শ্রমজীবী নারীরা?

শেয়ার করুন

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি : সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চল দিরাই ও শাল্লার শ্রমজীবী নারীরা ভালো নেই। কঠোর পরিশ্রম করেও তারা উপযুক্ত মজুরি পাচ্ছেন না। ১০-১২ ঘন্টা কাজ করে দিনশেষে তাদের ভাগ্যে জুটছে শ’ খানেক টাকা। হতদরিদ্রের জন্য সরকারের গৃহিত বিভিন্ন কর্মসংস্থান কর্মসূচিতেও প্রকৃত হতদরিদ্ররা সুযোগ পাচ্ছেন কম।

গ্রামের শ্রমজীবী নারী হালিমা বেগম, নাজু আক্তার, রুহেনা আক্তার, রাজিয়া খাতুন, হামিদা বেগম, সেনু বেগম, জাহেদা, রেহেনা বেগম, সাহেদা বেগমসহ অনেক নারী শ্রমিক হাওরে কাজ করে বাড়ি ফেরার পথে কথা বলেন- এ প্রতিবেদকের সাথে।

তারা জানান, শাল্লা উপজেলার কাদিরপুর গ্রামের পাশের জলভাঙ্গা হাওরে রান্নার জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত কালোমাটি সংগ্রহের কাজ করেন। ৪জন একটি গর্ত থেকে প্রতিদিন ১০০ বস্তা কালোমাটি উত্তোলন করেন। বিনিময়ে তারা দিন শেষে পান ১২০ টাকা মজুরি। কিন্তু মহাজনরা এসব কালোমাটি প্রতি বস্তা ৮০ টাকা থেকে ২০০ টাকা দরে বিক্রি করছেন। বেঁচে থাকার তাগিদে রাত পোহালেই কাজের সন্ধানে বের হতে হয় এসব নারীদের। তাদের গ্রামের বাড়ি উপজেলার ধামপুর গ্রামে। এই গ্রামের শতাধিক নারী হাওরে কাজে যান। হতদরিদ্রদের জন্যে সরকারের গৃহিত কর্মসৃজন কর্মসূচিতে সুযোগ পাচ্ছেন কি-না জানতে চাইলে তারা জানান, আমরা এসব কিছুই পাচ্ছি না। এসব পায় চেয়ারম্যান-মেম্বারদের লোকজন।

কালোমাটির বস্তা মাথায় নিয়ে পঞ্চাশোর্ধ নারী রেহেনা বেগম হাওরে কাজ করে বাড়ি ফিরছিলেন।

তিনি বলেন- অভাবের সংসারে টানাপোড়েনের মধ্যে মেয়ে জাহেদাকে বিয়ে দিলেও সংসার টেকেনি। একারণে মেয়ে আবার বাবার বাড়ি ফিরে এসেছে। রেহেনা বেগম বলেন, কোন কাজ না পেয়ে কালোমাটি তোলার কাজ করছেন। একই গ্রামের নারী শ্রমিক সাহেদা বেগম জানান- তার দুই বাচ্চা বাকপ্রতিবন্ধী হলেও প্রতিবন্ধী ভাতা পাচ্ছেন না।

একসময় হাওরপাড়ের মানুষ রান্নার জ্বালানি হিসেবে কাঠ-খড়ের ওপরই নির্ভরশীল ছিলেন। কিন্তু দিরাই-শাল্লার হাওরপাড়ের অভাবী পরিবারের লোকজন এখন রান্নার জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করছেন কালোমাটি।

এসো কাজ করি মহিলা সমিতির সভাপতি জাহানারা বেগম বলেন- নারী শ্রমিকদের শ্রমের ন্যায্য মজুরি প্রদান নিশ্চিত করতে হবে।

(আজকের সিলেট/৫ এপ্রিল/ডি/এসটি/ঘ.)

শেয়ার করুন