২ এপ্রিল ২০১৮
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি : চায়ের রাজধানী শ্রীমঙ্গলের প্রতিটি চা বাগানে এখন হাসছে নতুন কুঁড়ি। কয়েকদিনের বৃষ্টিপাতে চোখ মেলেছে দু’টি পাতা একটি কুঁড়িরা। সবুজে সবুজময় হয়ে উঠেছে শ্রীমঙ্গলের চা জনপদের প্রাকৃতিক অপরূপ শোভা। যেদিকে চোখ যায় শুধুই ঘন সবুজের অস্তিত্ব।
বছরের একটা নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট মাপের ভিত্তিতে চা গাছগুলোতে প্রুনিং (ছাঁটাই) করা হয়। বসন্তকাল আসলেই সাধারণ নিয়মেই কুঁড়ি ছাড়ে। কিন্তু বৃষ্টিপাত হলে সেই কুঁড়ি খুব দ্রুত অঙ্কুরিত হয়। এভাবেই আগাম বৃষ্টিপাত চায়ের উৎপাদনে শুভবার্তা বয়ে নিয়ে আসে।
শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের সিনিয়র পর্যবেক্ষক আনিসুর রহমান বলেন, এই কয়েকদিনে ৪৯ দশমিক ৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। গত ২৫ মার্চ ভোর ৫টা থেকে ৩১ মার্চ সকাল ৯টা পর্যন্ত এই বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। এটিই এ মৌসুমের জেলার প্রথম বৃষ্টিপাত।শ্রীমঙ্গলের চা বাগানগুলোতে গজিয়েছে নতুন কুঁড়ি।
বাংলাদেশি চা সংসদের সিলেট ব্রাঞ্চের চেয়ারম্যান এবং সিনিয়র টি-প্লান্টার গোলাম মোহম্মদ শিবলি বলেন, এই বৃষ্টিপাত চায়ের জন্য অত্যন্ত উপকারী। এর ফলে চা গাছে দ্রুত কুঁড়ি গজাবে। ফলে পাতা চয়ন (পাতা উত্তোলন) আরও আগে করা সম্ভব হবে।
তিনি আরও বলেন, সব ফসলের জন্যই বৃষ্টিপাত উপকারী। কিন্তু চায়ের জন্য আরও বেশি উপকারী। কারণ বৃষ্টিপাত ছাড়া চা গাছগুলোকে বাঁচানো সম্ভব না। তবে আরেকটি বিষয় হলো, বৃষ্টির সময় যদি বৃষ্টি না হয় অর্থাৎ বৃষ্টির গ্যাপ-পিরিয়ড যদি বেড়ে যায় তখন আবার বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেয়।
চায়ের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং আনুষঙ্গিক সুবিধার জন্য প্রতিটি চা বাগানে বাৎসরিক প্রুনিং (ছাঁটাই) পদ্ধতি পালন করা হয়। এর ফলে চা গাছের আগাগুলো সুনির্দিষ্ট পরিমাণে ছাঁটাই করে দেওয়া হয়। মৌসুমের প্রথম বৃষ্টিতে সেই ছাঁটাই করা চা গাছগুলোতে প্রকৃতির স্বাভাবিক নিয়মে বৃষ্টির পরশ পেয়ে জন্ম নেয় দু’টি পাতা একটি কুঁড়ি বলে জানান গোলাম মোহম্মদ শিবলি।
(আজকের সিলেট/২ এপ্রিল/ডি/এসসি/ঘ.)