৮ অক্টোবর ২০২৩
নিজস্ব প্রতিবেদক:
অল্প বৃষ্টিতেই সিলেট মহানগরীতে সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতার। তলিয়ে যায় নগরীর গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাঘাট। এতে নগরবাসী পড়েন চরম ভোগান্তিতে। সিলেট সিটি কর্পোরেশনের (সিসিক) জলাবদ্ধতা নিরসনে শত শত কোটি টাকা ব্যয় করেও তেমন সুফল মিলছে না। জলাবদ্ধতার কারণে দোকানপাটে পানি ঢুকে যাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ব্যবসায়ীরা। নষ্ট হচ্ছে বসত বাসাবাড়ি আসবাবপত্র।
সর্বশেষ শুক্রবার মধ্যরাত থেকে টানা মুষলধারে বৃষ্টিতে জলমগ্ন হয়েছে মহানগরীর বিভিন্ন এলাকা। তবে সিলেট সিটি কর্পোরেশন (সিসিক) বলছে মূলত জলবায়ূ পরিবর্তনের কারণে অল্প সময়ে বেশি বৃষ্টি ও মহানগরীর অনেক জায়গায় নিচু হওয়ায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। জলাবদ্ধতা নিরসনে পাম্প ও সুইচ গেইট স্থাপন করা হবে বলে জানায় সিসিক।
শুক্রবার মধ্যরাত থেকে টানা মুষলধারে বৃষ্টিতে নগরীর উপশহর, মির্জাজাঙ্গাল, তালতলা, কাজলশাহ, শেখঘাট, পায়রা, দরগাগেট, চৌহাট্টা, বাগবাড়ি, মেজরটিলা প্যারাগন আবাসিক এলাকাসহ নগরীর অসংখ্য এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়ে। সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল চত্বর ও নিচতলায় পানি জমায় রোগী, তাঁদের স্বজন ও হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। এদিকে নগরীর বাগবাড়িস্থ এতিম স্কুল রোড এলাকায় একটি বাসার দেয়াল ভেঙ্গে ছড়ায় বিলিন হয়ে গেছে।
নগরবাসীর অভিযোগ- জলাবদ্ধতার পেছনে শুধু ভারী বৃষ্টিই দায়ী নয়, এর পেছনে সিটি করপোরেশনের কর্তাদেরও দায় আছে। কোটি কোটি টাকা খরচ করার পরও নগরীতে যখন জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়, তখন সংশ্লষ্ট কাজে গাফিলতি আছে। এছাড়া ছড়া-খাল, নালা-নর্দমা নিয়মমাফিক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন না করাও জলাবদ্ধতার অন্যতম একটি কারণ।
সিলেট সিটি করপোরেশনের গৃহিত প্রকল্পের নথি অনুযায়ী ২০১৩ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত সময়ে জলাবদ্ধতা নিরসন সংশ্লিষ্ট দুইটি প্রকল্পে ৩১৩ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে। এছাড়াও জলাবদ্ধতা নিরসন ও অবকাঠামো উন্নয়ন সংশ্লিষ্ট একটি ১ হাজার ২২৮ কোটি টাকার প্রকল্প চলমান আছে।
সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমান গণমাধ্যমকে জানান, জলবায়ূ পরিবর্তনের কারণে অল্প সময়ে বেশি বৃষ্টি হচ্ছে। যার ফলে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে আবার বৃষ্টি থেমে গেলে সেসব পানি নেমে যাচ্ছে। মহানগরীর নিচু এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে পাম্প ও সুইচ গেইট স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। নগরবাসীকে ভোগান্তি থেকে রেহাই দিতে আমরা কাজ করছি।
আজকের সিলেট / জেকেএস