১২ সেপ্টেম্বর ২০২৩
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি : সুনামগঞ্জ শহরে পৌরসভার নিবন্ধিত অটোরিকশা ৭৫০টি। কিন্তু চলাচল করছে ৫ হাজারেরও বেশি। ফলে শহরের ব্যস্ততম সড়কগুলোতে প্রতিনিয়ত সৃষ্টি হচ্ছে যানজট। এতে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন ১০ লাখ মানুষ।
সুনামগঞ্জ পৌরসভার আয়তন ২২.১৭ বর্গকিলোমিটার। ২০০৯ সালে সর্বপ্রথম এই জেলার পৌরশহরে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচল শুরু হয়। সময়ের পরিক্রমায় এখন শহর দখল করে রেখেছে ব্যাটারিচালিত এসব অটোরিকশা। পৌরশহরের আলফাত স্কয়ার পয়েন্ট, কালীবাড়ি পয়েন্ট, ডিএসরোড, পুরাতন বাস-স্টেশন, কোর্ট পয়েন্টসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে নিবন্ধনবিহীন এসব অটোরিকশার বিশৃঙ্খলভাবে চলাচলে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত শহরে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। এতে একদিকে যেমন দুর্ঘটনা ঘটছে অন্যদিকে চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন জেলার সাধারণ মানুষ।
জানা যায়, ২০১০ সালে ৩৫০টি অটোরিকশা জেলা শহরে চলাচলের অনুমতি দেয় পৌর কর্তৃপক্ষ, এরপর ২০১১ থেকে ২০২৩ পর্যন্ত আরও ৪০০টি অটোরিকশার অনুমোদন দেওয়া হয়। কিন্তু গত ১৩ বছরে পৌর শহরে নিবন্ধিত ৭৫০টি ছাড়াও অবৈধভাবে ৫ হাজার অটোরিকশা চলাচল করছে। ফলে সময়ের ব্যবধানে ভাটির শহর এখন যানজটের শহর হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।
যানজটের কবলে পড়ে ৫ মিনিটের গন্তব্যে যেতে হচ্ছে ২৫ মিনিটে। ফলে অনেকে নিরুপায় হয়ে হেঁটেই গন্তব্যে ছুটছেন।
পৌর বাসিন্দা মনিরুল ইসলাম বলেন, প্রতিনিয়ত শহরে যানজট লেগে আছে। কোনো জায়গায় সঠিক সময়ে পৌঁছানো সম্ভব হয় না এই জটের কারণে।
হুমায়ুন কবির নামের আরেকজন বলেন, শহরে অতিরিক্ত অটোরিকশা। এগুলোর কারণে প্রতিনিয়ত যানজট হচ্ছে। এতে আমরা ভোগান্তিতে রয়েছি। শহরকে সুন্দর করতে হলে যানজটমুক্ত করতে হবে।
তাহিরপুর উপজেলা থেকে শহরে আসা হাবিবুল্লাহ বলেন, বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ কাজে সুনামগঞ্জ জেলা শহরে এসেছিলাম। কিন্তু যানযাজটের কারণে গন্তব্যে সঠিক সময়ে পৌঁছাতে না পারায় কাজটি হয়নি। ফুটপাত দখলমুক্ত ও অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসলে যানজট কমবে।
সুনামগঞ্জ জেলা ইজিবাইক মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের সভাপতি সোহেল আহমদ জানান, শহরে লাইসেন্সবিহীন যে অটোরিকশাগুলো চলাচল করছে সেগুলোর বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হোক। এগুলোর বিরুদ্ধে সঠিক ব্যবস্থা নিলেই শহরে যানজট কমে আসবে।
যানজটের দায় স্বীকার করে সুনামগঞ্জ পৌরসভার মেয়র নাদের বখত জানান, ইজিবাইক ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার কারণে শহরে প্রতিনিয়ত যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। লাইসেন্সবিহীন অটোরিকশাগুলো আইনের আওতায় আনা হবে।