৬ সেপ্টেম্বর ২০২৩


ওসমানীনগরে বিদ্যুতের অসহনীয় লোডশেডিং : সড়ক অবরোধ

শেয়ার করুন

ওসমানীনগর (সিলেট) প্রতিনিধি : সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলা এ যেন লোডশেডিং এর নৈরাজ্য, প্রতিনিয়ত ঘন্টায় ঘন্টায় চলে লোডশেডিং, প্রচন্ড ভ্যাপসা গরমে গত প্রায় মাসখানেক ধরে ঘন্টায় ঘন্টায় করা হচ্ছে লোডশেডিং। প্রতিদিন গভীর রাতে একটু পরপরই চলে যায় বিদ্যুৎ। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন গ্রাহকরা ইতিমধ্যেই ফুসে উঠেছে ওসমানীনগরের পল্লী বিদ্যুতের সকল গ্রাহক।

উপজেলা জুড়ে পল্লী বিদ্যুতের এই চরম দুর্ভোগ এখন টক অব দা টাউন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সহ সবখানেই চলছে পল্লী বিদ্যুতের অমানবিক অত্যাচার নিয়ে আলোচনা সমালোচনা।

লোডশেডিং এর যন্ত্রণায় অতিষ্ট হয়ে মঙ্গলবার প্রায় ২ শতাধিক মানুষ ওসমানীনগর উপজেলার পল্লী বিদ্যুতের কাশি কাপন জোনাল অফিসের সামনে ঢাকা – সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করেন।অবরোধের ফলে দীর্ঘ যানজট এবং সেখানে ঘটে একটি মারাত্মক সড়ক দুর্ঘটনাও।

অবরোধ চলাকালীন সময়ে ঢাকা থেকে সিলেটগামী একটি ট্রাক পিছন দিক থেকে শেরপুর থেকে সিলেটগামী একটি লোকাল বাসকে যাত্রী সহকারে সজুড়ে ধাক্কা দিলে লোকাল বাসটি ছিটকে পড়ে ঢাকা থেকে সিলেটগামী লন্ডন এক্সপ্রেস পরিবহনের উপর এতে ঘটনা ঘটনা স্থলে লোকাল বাসের ড্রাইভার গুরুতর আহত হন এবং অন্যান্য কয়েকজন যাত্রী আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

উদ্বুদ্ধ পরিস্থিতিতে ঘটনাস্থলে দ্রুত ওসমানীনগরের থানা পুলিশের একটি টিম আসলে পল্লী বিদ্যুৎ অফিস ঘেরাও করার জন্য বিক্ষুব্ধ জনতা পরবর্তীতে ওসমানীনগর জোনাল অফিস ঘেরাও করার আল্টিমেটাম দিয়ে মহাসড়ক ত্যাগ করে চলে যায় এতে প্রায় ২ ঘন্টা যান চলাচল বন্ধ ছিল।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পল্লী বিদ্যুতের একাধিক বিশ্বস্ত সূত্র নিশ্চিত করেছে যে বর্তমান সময়ে ওসমানীনগর উপজেলায় পল্লী বিদ্যুতের চাহিদা অনুসারে ৫০ শতাংশ এর কম বিদ্যুৎ প্রদান করা হচ্ছে যার ফলে তৈরি হয়েছে এই অসহনীয় বিদ্যুৎ বিভ্রাট, এবং আগামী দুই মাসের মধ্যে ও এই সমস্যার তেমন কোন উন্নতি হবে না বলে তারা ধারণা করছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেন আমরা যদি চাহিদা মত বিদ্যুৎ সরবরাহ না পাই তাহলে কিভাবে উপজেলার বিদ্যুতের চাহিদা পূরণ করবো।আমরা কতটুকু বিদ্যুৎ পাই এবং কতটুকু বিদ্যুৎ প্রয়োজন সেই হিসাব প্রকাশ করতেও আমাদের উপর ওলিখিত নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

প্রতিদিন এই বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের কারণে ইতিমধ্যে চলমান এইচএসসি পরীক্ষায় ফলাফল বিপর্যয়ের আশঙ্কা করেছেন অনেক অভিভাবক, অনেক ছাত্রছাত্রীরা বিদ্যুতের অভাবে অন্ধকারে পরীক্ষার জন্য ভালো প্রস্তুতি নিতে পারেনি, এছাড়াও উপজেলার একাধিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অনেক ছাত্র-ছাত্রী ক্লাসরুমের মধ্যে প্রচন্ড ভ্যাঁপসা গরমে বিদ্যুৎ না থাকার ফলে অসুস্থ হয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গিয়েছে। বিশেষ করে উপজেলার বয়স্ক ব্যক্তি ও শিশুরা সারা রাত্রে বিদ্যুৎ বিহীন থাকার কারণে বিভিন্নভাবে প্রচন্ড গরমে আরো বেশি অসুস্থ হয়ে পড়ছেন বলে জানা গেছে।

ইতোমধ্যে উপজেলা জুড়ে অধিকাংশ মানুষই জ্বর সর্দি কাশি ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন। ফলে স্থানীয় হাসপাতাল সহ অন্যান্য চিকিৎসা কেন্দ্রে বাড়ছে রোগাক্রান্ত মানুষের ভিড়। উপজেলার কয়েকজন গ্রাহক জানান দিনে ১০ থেকে ১৫ বার বিদ্যুৎ বিভ্রাট যেন স্বাভাবিক ব্যাপারে পরিণত হয়েছে, দ্রুত এই ব্যবস্থার উন্নতি না হলে উপজেলার মানুষের মনে সরকার বিরোধী মনোভাব তৈরি হবে। অনেকেই মনে করছেন বর্তমানে বিভিন্ন টেলিভিশন ও প্রিন্ট মিডিয়াতে বিদ্যুতের সংকটের কোন খবর নেই তাহলে আমাদের উপজেলা জুড়ে কেন প্রতিদিন এই অসহনীয় ঘন্টায় ঘন্টায় লোডশেডিং? সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত এমন কোন কর্মকর্তা অথবা জনপ্রতিনিধি কেউই এ ব্যাপারে কথা বলছেন না যার ফলে মানুষের বিরুপ ধারণার সৃষ্টি হচ্ছে, যা এই উপজেলায় আগামী নির্বাচনে ভুল সংকেত প্রদান করতে পারে তাই এ ব্যাপারে সরকারি ঊর্ধ্বতন মহলের দ্রুত হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।

বেশ কিছুদিন আগে সিলেটের সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী আনুয়ারুজ্জামান চৌধুরীর হস্তক্ষেপে সিলেট সিটিতে লোডশেডিং মুক্ত হয়। সেই সময়ে ওসমানীনগর উপজেলা সম্পূর্ণভাবে লোডশেডিং মুক্ত ছিল কিন্তু নির্বাচন শেষ হওয়ার পরপর আবারো শুরু হয় অসহনীয় লোডশেডিং।

বর্তমানে অন্যান্য উপজেলায় সহনীয় মাত্রায় লোডশেডিং থাকলেও ওসমানীনগর উপজেলার উপর করা হচ্ছে মাত্রারিক্ত অত্যাচার যার ফলে ফুসে উঠছে এলাকার সর্বস্তরের জনগণ।

এ বিষয়ে উপজেলার পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএম জনাব নাঈম হাসানের সাথে কথা বললে তিনি জানান প্রাপ্ত চাহিদা মত বিদ্যুৎ না পাওয়ার কারণে এই লোডশেডিং চলছে এ ব্যাপারে আমার করণীয় কিছুই নেই। কবে নাগাদ এই লোডশেডিং বিপর্যয় কাটবে জানতে চাইলে এ ব্যাপারে তিনি কোন মন্তব্য করেননি।

শেয়ার করুন