২০ মার্চ ২০১৮


গোলাপগঞ্জ ট্রাজেডি : টাকার অভাবে আটকে আছে বাবুলের চিকিৎসা

শেয়ার করুন

গোলাপগঞ্জ প্রতিনিধি : আগুনে পুড়ে গেছে শরীরের প্রায় ৭০ শতাংশ। এখনো আছেন শঙ্কাজনক অবস্থায়। তবু ঠিকমতো চিকিৎসা হচ্ছে না বাবুল আহমদের। টাকার অভাবে আটকে আছে চিকিৎসা।

গত রোববার গোলাপগঞ্জে বজ্রপাতে গ্যাস সিলিণ্ডার থেকে অগ্নিকান্ডের ঘটনায় গুরুতর আহত হন বাবুল আহমদ (৩৫)। এই অগ্নিকান্ডে দগ্ধ হয়ে মারা যান নারী-শিশুসহ ৫ জন।

দগ্ধ অবস্থায় বাবুলকে প্রথমে সিলেট ওসমানী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। ওই হাসপাতালের বার্ণ ইউনিটে চিকিৎসাধীন আছেন বাবুল।

ঢাকায় বাবুল আহমদের সাথে থাকা তার ছোট ভাই শিবলু আহমদ বলেন, বড় ভাইয়ের টাকা পয়সা যা ছিল সব আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এখন তিনি একেবারেই নি:স্ব। অগ্নিকান্ডের পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে যে টাকা দেওয়া হয়েছিল তাও শেষ হয়ে গেছে।

তিনি বলেন, চিকিৎসকরা জানিয়েছেন বাবুল আহমদের শরীরের ৭০ ভাগ আগুনে পোড়ে গেছে। রোগীকে বাঁচানোর জন্য উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন। কিন্তু টাকার জন্য চিকিৎসা করাতে পারছি না আমরা। টানা না পেলে চিকিৎসা করা আমাদের পক্ষে সম্ভব না।

এ ব্যাপারে গোলাপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী মোহাম্মদ শরিফুল ইসলামের বলেন, মঙ্গলবার আহত বাবুল আহমদের পরিবারের নিকট চিকিৎসা বাবত নগদ ২৫ হাজার টাকা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে হস্তান্তর করা হবে। প্রয়োজনে পরে আরো সহযোগিতা করা হবে।

উল্লেখ্য, শনিবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে গোলাপগঞ্জ উপজেলার লক্ষ্মনাবন্দের ক্লাববাজার সংলগ্ন (টিল্লা বাড়ি) লয়লু মিয়ার কলোনিতে বজ্রপাতে গ্যাসের রাইজারে আগুন লেগে গেলে ঘুমন্ত অবস্থায় গোলাপগঞ্জ উপজেলার শরিফগঞ্জ ইউনিয়নের পনাইরচক গ্রামের মছকন্দর আলীর অন্ত:সত্ত্বা স্ত্রী সেবু বেগম (২২), সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলার মোগলাবাজার খালেরমুখ গ্রামের বাবলু মিয়ার অন্ত:সত্ত্বা স্ত্রী তাহমিনা বেগম (৩০), তাঁর শিশু সন্তান তাহসিন আহমদ (২), গোলাপগঞ্জের নোয়াই দক্ষিণভাগ এলাকার মৃত ইসরাইল আলীর পুত্র সেবুল মিয়া (১৬) ও একই এলাকার শাহাব উদ্দিনের পুত্র ইয়া উদ্দিন (১৮) নিহত হন। এতে গুরুতর আহত হন গৃহকর্তা বাবুল আহমদ (৩৫)। বাবুল আহমদের অবস্থা আশংকাজনক হওয়ায় সিলেট থেকে ঢাকা বার্ন ইউনিটে প্রেরণ করা হয়।

(আজকের সিলেট/২০ মার্চ/ডি/এমকে/ঘ.)

শেয়ার করুন