১৪ জুলাই ২০২৩
ডেস্ক রিপোর্ট : রাজনৈতিক দল হিসেবে নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধন হারানো জামায়াতে ইসলামীর সাত নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। আটকদের মধ্যে পাঁচ জনের নাম জানা গেছে। তারা হলেন, জেলার বিয়ানীবাজার উপজেলার খশির গ্রামের সিদ্দিক আহমদের ছেলে জামায়াত কর্মী আজিজুল ইসলাম (৪৩), নগরের উত্তর বাগবাড়ি এলাকার মৃত এরফান উদ্দিনের ছেলে আবুবকর সিদ্দিক (৫৮) ও শান্তিগঞ্জ উপজেলার বাগেরকোনা গ্রামের মৃত আব্দুল জব্বারের ছেলে সাইদুল ইসলাম (৩৮), বালাগঞ্জ উপজেলার নূরপুর গ্রামের আব্দুস সাত্তারের ছেলে ছাত্রশিবিরের কর্মী এএসএম রুবেল (২৩), কানাইঘাটের বড়দেশ গ্রামের আলী আহমদের ছেলে মারুফ আহমদ (১৮)।
শুক্রবার সকাল ১১টার দিকে নগরীর রেজিস্টারি মাঠ থেকে তাদের আটক করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শুক্রবার নগরের রেজিস্টারি মাঠে কর্মসূচিস্থল পরিদর্শনে আসামাত্র জামায়াতের নেতাকর্মীদের আটক করে পুলিশ। এ সময় সমাবেশস্থল তালাবদ্ধ করে রাখা হয়।
এসএমপির উপ-কমিশনার (উত্তর) আজবাহার আলী শেখ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি রক্ষার স্বার্থে পুলিশ ও সিআরটির যৌথ দল নগরের কয়েকটি সড়কে মহড়া চালিয়েছে। এ সময় জামাত-শিবিরের সাতজন নেতাকর্মীকে আটক করা হয়েছে। তাদের কোতোয়ালি থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। জামায়াত সমাবেশের অনুমতি পেলে করবে। তবে এখনও অনুমতি পেয়েছে কিনা সে বিষয়ে জানা নেই।
উল্লেখ্য, শনিবার সিলেটে সমাবেশের ঘোষণা দিয়েছে ইসির নিবন্ধন হারানো রাজনৈতিক দল জামায়াতে ইসলামী। এ নিয়ে পুলিশ প্রশাসনের অনুমতি চাইলেও এখন পর্যন্ত তারা পায়নি। তবে অনুমতি না পেলেও জোর করে সমাবেশ করার কথা জানিয়েছিলেন দলটির একাধিক নেতা।
একাত্তরের মানবতা বিরোধী অপরাধের দায়ে অভিযুক্ত দলটি দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতির মাঠে অনুপস্থিত। সরকারের কঠোর অবস্থানের কারণে প্রকাশ্যে কোনো কর্মসূচি পালন করতে পারছে না তারা। ঝটিকা মিছিল আর গোপন সভার মধ্যেই সীমাবদ্ধ তাদের সাংগঠনিক কার্যক্রম।
তবে গত ১০ জুন প্রশাসনের অনুমতি নিয়েই রাজধানীতে কর্মসূচি পালন করেছিল তারা। ওই কর্মসূচির পর সিলেটে সমাবেশ আহ্বান করে দলটি। ১৫ জুন দুপুরে সিলেট নগরের রেজিস্টারি মাঠে এই সমাবেশ ডাকা হয়েছে। সমাবেশ আয়োজনের অনুমতি চেয়ে ৫ জুলাই এসএমপিতে আবেদন করে জামায়াত। তবে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে জামায়াতকে কিছু জানানো হয়নি।
এসএমপি কমিশনার মো. ইলিয়াছ শরীফ বলেছেন, জামায়াতের আবেদন পেয়েছি। তবে তাদের সমাবেশে নাশকতার আশঙ্কা রয়েছে। তাই জামায়াতকে সমাবেশের অনুমতি না দেওয়ার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।