১৩ জুলাই ২০২৩
ডেস্ক রিপোর্ট : হোটেল শ্রমিক তানিম হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে ১৩জুলাই’২৩ বিকেল ৪.৩০ টায় সিলেট জেলা হোটেল শ্রমিক ইউনিয়নের প্রতিবাদ মিছিল সুরমা পয়েন্ট থেকে শুরু হয়ে নগরীর গুরুত্বপুর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে কোট পয়েন্টে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সংগঠনের জেলা শাখার সভাপতি মো.ছাদেক মিয়ার সভাপতিত্বে ও দপ্তর সম্পাদক বদরুল আজাদের পরিচালনায় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
মৌলভীবাজারের কুসুমবাগ এলাকার খানদানী রেস্টুরেন্টের কিশোর শ্রমিক তানিম কতিপয় দুষ্কৃতকারীর হাতে নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়ে অকালে মৃত্যুবরণ করে। মাত্র ১৪-১৫ বছরের এমন ফুটফুটে কিশোরের মৃত্যুতে সমস্ত হোটেল রেস্টুরেন্ট শ্রমিকরা বিক্ষুব্ধ হয়ে ২৬শে জুন মৌলভীবাজার শহরে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও কর্মক্ষেত্রে শ্রমিকের সার্বিক নিরাপত্তা এবং তানিমের পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদানের দাবি জানায়।
কিন্তু পরিতাপের বিষয় এই যে, ঘটনার ১৭ দিন অতিক্রান্ত হয়ে গেলেও এখনো হত্যাকারী সকল অপরাধীকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। পরিবারের অভাব অনটনের কারণে কিশোর তানিম এক মাস আগে শহরের খানদানী রেস্টুরেন্টে কাজ নেয়। তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরিকল্পিতভাবে ২৪শে জুন খানদানী রেস্টুরেন্টের সামনের পান দোকানদার কয়েকজনের সহযোগিতায় নির্মমভাবে অত্যাচার করে তানিমের মাথায় ও অÐকোষে গুরুতর জখম করে। পরবর্তীতে মুমূর্ষু তানিমকে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ঘটনার শুরু থেকে খানদানী রেস্টুরেন্টের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ ঘটনা ধামাচাপা দিতে চেষ্টা করে। এমন কী মৃত্যুপথযাত্রী তানিমকে তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও যোগাযোগ করতে দেয়া হয় নি।
মৌলভীবাজার হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরও তানিমের অবস্থার উন্নতি না হয়ে আরও অবনতি হতে থাকে।
পরদিন সকালে মৃত্যুপথযাত্রী তানিম সদর হাসপাতালে তার পাশের সিটের রোগীর মোবাইলে তার পিতাকে জানালে পরিবারের সদস্যরা তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতালে ছুটে আসেন। তানিমের পিতাসহ পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালে এসে তানিমের গুরুতর অবস্থা দেখে তাকে সিলেট ওসমানী হাসপাতালে নেয়ার উদ্যোগ নেন। গুরুতর অবস্থায় এম্বুলেন্সেই তানিম তার পিতার সঙ্গে শেষ কথা বলে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। দুপুরে ওসমানী হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তানিমকে মৃত ঘোষণা করেন। তানিম হত্যার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে খানদানী রেস্টুরেন্টের কর্তৃপক্ষসহ ইতিমধ্যে হত্যাকাণ্ডে যাদের নাম এসেছে তাদের সকলকে জিজ্ঞাসাবাদ করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও তানিমের পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদান করার পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রে সকল শ্রমিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানানো হয়।
সমাবেশে অথিতি ছিলেন জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট সিলেট জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক শাহীন আলম , বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ সিলেট জেলা শাখার যুগ্ম সম্পাদক রমজান আলী পটু, শাহপরান থানা কমিটির সভাপতি খুকন আহমদ ,জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট শাহপরান থানা কমিটির সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হোসেন।
আরো উপস্থিত ছিলেন সিলেট জেলা হোটেল শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ইমান আলী, শাহপরান থানা কমিটির সভাপতি মো.জয়নাল মিয়া, বন্দরবাজার আঞ্চলিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক ইমাম উদ্দিন, আম্বরখানা আঞ্চলিক কমিটির সভাপতি রাশেদ আহমদ ভ্ইূয়া, তালতলা আঞ্চলিক কমিটির আহবায়ক সাহাবুদ্দিন মিয়া, চন্ডিপুল আঞ্চলিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক সুনু মিয়া সাগর প্রমুখ।