১৩ জুলাই ২০২৩


সুনামগঞ্জ-তাহিরপুরে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

শেয়ার করুন

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি : তিন দিনের টানা বৃষ্টি ও নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানি বৃদ্ধি পাওয়া সুনামগঞ্জের সঙ্গে তাহিরপুর উপজেলার সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এছাড়া জেলার দোয়ারা বাজার উপজেলায় পাহাড়ি ঢলের পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে তাহিরপুর ও দোয়ারা বাজার উপজেলার নদ নদীর ও নিম্নাঞ্চলে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে।

জানা যায়, জেলার তাহিরপুর উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের বিভিন্ন নদ-নদীর পানি বাড়ায় নিম্নাঞ্চলের মানুষ পানিবন্দি আছে। গ্রামীণ সড়কগুলো তলিয়ে গেছে। তাই বাধ্য হয়ে নৌকা দিয়ে জেলা ও উপজেলায় জরুরি কাজে, চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ও নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে হাট বাজারে যাচ্ছেন বাসিন্দারা।

এদিকে, পানিতে ডুবে আছে তাহিরপুর-বাদাঘাট সড়ক ও তাহিরপুর-সুনামগঞ্জ সড়কের কৈয়ারকান্দা (১শ মিটার ) সড়ক। তাহিরপুর সুনামগঞ্জ সড়কের দুর্ঘাপুর ১শ মিটার ( কৈয়ারকান্দা) ও আনোয়ারপুর সড়ক পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় এই দুটি সড়কে সরাসরি যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। এছাড়াও যাদুকাটা, বোলাই ও পাঠলাই নদীর পানি বেড়েছে। পানিতে ডুবেছে নিম্নাঞ্চলের সড়কসহ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।

অপরদিকে, পাহাড়ি ঢলের পানি বৃদ্ধি পাওয়া আমবাড়ি, আনন্দনগর লতিফপুর নিশ্চিতপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পানি প্রবেশ করেছে। এছাড়াও বিন্নারবন, শান্তিপুর, পুরানঘাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ নিম্নাঞ্চলের ১০-১৫ বিদ্যালয়ে পানি কাছাকাছি থাকায় বিদ্যালয়ে ছাত্র ছাত্রীদের উপস্থিত এক বারেই কম।

তাহিরপুর উপজেলার দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলী আহমদ মোরাদ বলেন, গত তিন দিনে টানা বৃষ্টি ও নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানি আরও বৃদ্ধি পাওয়া বাড়ি ঘরের কাছাকাছি চলে এসেছে। আর আমার ইউনিয়ন হাওর বেষ্টিত। প্রতিটি গ্রামের চার পাশেই এখন পানি থৈ থৈ করছে।

তাহিরপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সৈয়দ আবুল খায়ের জানান, উপজেলার কয়েকটি বিদ্যালয়ে পানি প্রবেশ করেছে। কিছু কিছু স্কুলে পানি কাছাকাছি থাকায় শিক্ষার্থীদের আগমন কম তবে পাঠদান স্বাভাবিক আছে।

তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুপ্রভাত চাকমা জানান, গত দু দিন বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে পানি কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে বন্যার আশঙ্কা নেই। তাহিরপুর সুনামগঞ্জ সড়কে সরাসরি যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে।

শ্রেণি কক্ষের ভেতর পানি, নিম্নাঞ্চল প্লাবিত
পানি উঠে পড়েছে বেশ কয়েকটি বিদ্যালয় আঙ্গিনা ও শ্রেণি কক্ষের ভেতর। শিক্ষার্থীরা পানি ভেঙ্গে বিদ্যালয়ে আসলেও পাঠদান করাতে পারছেন না শিক্ষক শিক্ষিকারা।

উপজেলার শ্রীপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের সরকারী প্রথমিক বিদ্যালয় আনন্দ নগর। বৌলাই নদী ও পাঠলাই নদীর মোহনায় আনন্দ নগর গ্রামের সামনে বিদ্যালয়টি অবস্থান। ভারী বৃষ্টিপাতে হাওরের পানি বেড়ে ও শনি হাওরের দক্ষিণা বাতাসে সৃষ্ট ঢেউয়ের পানি বিদ্যালয় ভবনের ভেতর উঠে পড়ে। গত দু’দিন ধরে পানিবন্ধি অবস্থায় বিদ্যালয়ের শিক্ষক শিক্ষিকারা বিদ্যালয় চলাকালীন সময় পর্যন্ত অবস্থান করেন।

বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষিকা মাম্পি চৌধুরী বলেন, ক্লাস রুমের ভেতর পানি থাকায় দু চারজন শিক্ষার্থী আসলেও আমরা পাঠদান করাতে পারছি না।

একই অবস্থার কথা জানালেন তাহিরপুর সদর লক্ষীপুর সরকারী প্রথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অমর ভৌমিক। তিনি জানান, গত ১৫দিন আগে হাওরে যখন বন্যা শুরু হয় তখন থেকেই বিদ্যালয় ভবন পানিতে নিমজ্জিত। বিদ্যালয়ে কোন শিক্ষার্থী আসতে পারছে না। বিষয়টি তিনি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানিয়েছেন।

একই অবস্থায় রয়েছে বাদাঘাট ইউনিয়নের ইসলাম, পিরিজপুর, দক্ষিন বড়দল ইউনিয়নের আমবাড়ি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়।

অপরদিকে তাহিরপুর সুনামগঞ্জ সড়ক ও তাহিরপুর বাদাঘাট সড়ক পানিতে নিমজ্জিত থাকার কারণে জেলা সদরেরর সাথে ও উপজেলা সদরের সাথে সড়ক পথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় আছে। সুলেমানপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় স্কেচ ম্যাপ এলাকার বাসিন্দা ও ছাত্র অভিবাবক আলমগীর হোসেন বলেন, বিদ্যালয়ের শ্রেণি কক্ষের ভেতর পানি, ছেলে মেয়েদের বিদ্যালয়ে পাঠাতে সাহস পাচ্ছি না।

ইসলামপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক দেবব্রত সরকার দেবল বলেন, যাদুকাটা নদী দিয়ে পাহাড়ি ঢলের পানি নামলেই বিদ্যালয় আঙ্গিনা পর্যন্ত চলে আসে। কখনো কখনো এ পানি শ্রেণি কক্ষেও প্রবেশকরে।

তাহিরপুর উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা কামরুজ্জামন বলেন, অপেক্ষাকৃত নীচু এলাকার দু চারটি বিদ্যালয়ে আঙ্গিানায় পানি উঠার বিষয়টি শিক্ষরা আমাকে জানিয়েছেন। এর মধ্যে আনন্দ নগর ও লক্ষীপুর সরকারী প্রথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণি কক্ষে ঢলের পানি প্রবেশ করেছে বলেও তিনি জানান।

শেয়ার করুন