১০ জুলাই ২০২৩
শাহ্ মাশুক নাঈম, দোয়ারাবাজার (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি : একটা সময় ঝাঁকিজাল ছিল গ্রামীণ সমাজে মাছ ধরার মূল উপকরণ। আষাঢ় মাস আসলেই মাছ ধরার জন্য জাল বুনতে ব্যস্ত হয়ে পড়তেন। তার মধ্যে ঝাঁকিজাল, ধর্ম জাল ও ঠেলা জালসহ নানা রকমের জাল। তবে এ ঝাল বুনার দৃশ্যটা শুধু গ্রামাঞ্চলে বেশি দেখা যায়।
কেউ বাণিজ্যিক উদ্দ্যেশ্য কেউ শখ করে জাল বুনেন নিজে মাছ ধরার জন্য। কিন্তু মানুষ ডিজিটালের দিকে ধাবিত হওয়ায় আগের ঐতিহ্যের প্রতি আগ্রহ হারাচ্ছে। আগের মতো ঝাঁল বুনার দৃশ্য যেখানে-সেখানে চোখে পড়েনা।
সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলা মহব্বতপুরবাজারে শনিবার সকালে দেখা যায়, একটি মুদির দোকানে সোলায়মান নামক একজন ব্যবসায়ী, ব্যবসার পাশাপাশি ঝাঁকিজাল বুনছেন। জানতে চাইলে তিনি বলেন? আবহমান কাল থেকে বাংলার মানুষ মাছ ধরার জন্য জাল ব্যবহার করে আসছে। তার মধ্য ঝাঁকিজাল অন্যতম। এক সময় ঝাঁকি জালের চাহিদা গ্রামে ছিল ব্যাপক। জাল বুনায় দক্ষ করিগরও ছিল অনেক। বস্তুত কার্পাস তুলার সুতার উৎপাদন কমে যাওয়ায় ইদানিং হাতে বুনা ঝাঁকিজাল কেনাবেচা হ্রাস পেয়েছে। অন্যদিকে মেশিনে তৈরি নাইলনের জালের ব্যবহার বেড়েছে। তাই জাল দিয়ে মাছ ধরার সৌখিনতাও কমে গেছে।
তিনি আরও বলেন, আমরা ছোট বেলায় দেখেছি, দাদা, দাদি ঝুঁকিজাল বুনতেন তারা একটি জাল বুনতে সময় লাগতো ৭-৮ দিন
তখন থেকে জাল বুনার কৌশলটা শিখেছি। আমার
৫-৭ হাত লম্ভা ঝাঁকিজাল বোনতে ১০-১২ দিন সময় লাগে। ব্যবসার করি তার ফাঁকে-ফাঁকে জাল বুনি, এর জন্য একটি জাল বোনতে সময় লেগে যায় ১৫ -২০ দিন।
প্রবীণ জেলে আব্দুল রাজ্জাক আজকেরসিলেটকে বলেন, ঝাঁকিজাল বুনা এক সময় মানুষের জীবিকা নির্বাহের অন্যতম উৎস ছিল। এ জাল বুনা দেখতে যতটা সহজ মনে হয়, প্রকৃতপক্ষে তা বেশ কঠিন কাজ। আগে হাতের তৈরি জাল বুনন হতো বলে বেশ মজবুত এবং টেকসই হতো। তবে এখন মেশিনের তৈরি জাল বের হওয়ার ফলে হাতের তৈরি জালের চাহিদা কমেছে।
দোয়ারাবাজার উপজেলায় মৎস্য কর্মকর্তা সায়েম আজকেরসিলেটকে বলেন, এখন আগের মতো খাল-বিল পুকুর নদী নালায় সে ধরনের মাছ নেই, যা কেবল ঝাঁকিজালেই ধরা পড়ত। কর্মহীন অনেক পরিবার ঝাঁকিজাল দিয়ে মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করতো। একসময় মাছ ধরার জন্য উৎসবমুখর আয়োজন থাকলেও কালের বিবর্তনে সেটা বিলুপ্তির দারপ্রান্তে।