৫ জুলাই ২০২৩


জগন্নাথপুরে নলজুর নদীর দুই সেতুতেই যান চলাচল বন্ধে লাখো মানুষের দুর্ভোগ

শেয়ার করুন

সজিব শর্ম, জগন্নাথপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি : জগন্নাথপুরে নলজুর নদীর দুটি সেতুতেই যান চলাচল বন্ধে উপজেলার লাখো মানুষের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। গত সোমবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) রিয়াদ বিন ইব্রাহিম ভূঞার সভাপতিত্বে ও উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) সোহরাব হোসেনের পরিচালনায় এক জরুরি সভায় ডাকবাংলা সেতু দিয়ে যান চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হয়। অব্যাহত বৃষ্টিপাতের কারণে নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নলজুরের বিকল্প বেইলি সেতু পানিতে নিমজ্জিত হওয়াতে গত সোমবার থেকে সবধরণের যানচলাচল বন্ধ হয়ে ঘোষণা করা হয়। পরে মঙ্গলবার সকাল থেকে সদরের ডাক বাংলো সেতু দিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সদরের এ দুইটি সেতু দিয়ে যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় লাখো মানুষের ভোগান্তি বেড়েছে। তবে বিকেলের দিকে প্রশাষনের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে যানচলাচল করতে দেখা গেছে।

স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, বিকল্প সেতুটি তৈরির সময় এলাকাবাসী শঙ্কা প্রকাশ করেন এটি বর্ষায় ডুবে যাবে। সেতুটি আরো উঁচু করার দাবি জানিয়েছিলেন তারা। তবে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর এলজিইডি বিষয়টি আমলে নেয়নি।

এদিকে ১৯৮৮ সালে নলজুর নদীর ওপর ডাকবাংলো সেতুটির কাজ শুরু করে ১৯৯৬ সালে শেষ হয়। পরে ২০২১ সালে নলজুর নদী খনন কালে সেতুর পিলারের কাছ থেকে খনন যন্ত্র দিয়ে মাটি কাটার সময় সেতুর দুটি অংশ দেবে যায়। এক বছর যান চলাচল বন্ধ থাকার পর গত ২৩ মার্চ স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর ও জগন্নাথপুর পৌরসভার সেতুর দেবে যাওয়া অংশে ষ্টীলের পাটাতন বসিয়ে সেতুটি চালু করে। এদিকে দুই সেতু দিয়ে যান চলাচল ব্যাহত হওয়াতে পায়ে হেঁটে নদী পারাপার করতে হচ্ছে জনসাধারণকে।

রাজিব নামে এক ব্যাক্তি বলেন, নদীর পূর্বপাড়ে সরকারী অফিস, হাসপাতাল,সহ গুরুত্বপূর্ণ সেবামূলক প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এছাড়া নদীর ওই পূর্বপাড় দিয়ে প্রতিদিন সিলেটে শহরে শত শত মানুষ যাতায়াত করতে হয়। দু’ই সেতুই অচল হয়ে পড়ায় সীমাহীন ভোগান্তিতে পড়েছি আমরা।

সুমিত নামে এক যুবক বলেন, জগন্নাথপুর পৌর-সভা, জগন্নাথপুর থানা ও সদরের প্রধান হাট জগন্নাথপুর বাজারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। দুই পাড়ের মানুষের যোগাযোগের বন্ধন হচ্ছে দুইটি সেতু। আর প্রতিনিয়ত দুই সেতু দিয়ে চলাফেরা করে আসছেন লাখো মানুষ। সেতু চলাচলে অনুপযোগি হওয়াতে দুর্ভোগ বেড়েছে।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী সোহরাব হোসেন বলেন, অতিরিক্ত বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে পানি বেড়ে যাওয়ায় বিকল্প বেইলি সেতুর সংযোগ সড়ক ও সেতুটি ডুবে গেছে সেতুতেও পানি উঠেছে। তবে জনসাধারণের চলাচলের সুবিদার্থে সংযোগ সড়কে বালির বস্তা ফেলে উপযোগি করা হচ্ছে। এছাড়া বড়ধরণের দুর্ঘটনা এড়াতে ঝুঁকিপূর্ণ ডাক বাংলা সেতু দিয়ে যান চলাচল আমরা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

শেয়ার করুন