৪ জুলাই ২০২৩


সিসিকের ‘হোটেল বিলাস’ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া

শেয়ার করুন

ডেস্ক রিপোর্ট : গতকাল সোমবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে শপথ নিয়েছেন সদস্য সমাপ্ত সিলেট সিটি কর্পোরেশনের নবনির্বাচিত মেয়র ও কাউন্সিলররা। তবে শপথ ও পূর্ববর্তী মহড়ার জন্য দু’দিন আগে তারা ঢাকায় পৌঁছে পাঁচ তারকা হোটেলে অবস্থান নেন। তবে অন্য সব সিটি মেয়র, কাউন্সিলর, কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠজনরা ঢাকার বিভিন্ন হোটেল এবং স্বজনদের বাসাবাড়িতে উঠলেও ব্যতিক্রম কেবল সিলেট সিটি করপোরেশন।

সিকিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, প্রধান প্রকৌশলী, ৫৬ জন কাউন্সিলরসহ প্রায় শ’খানেক লোক এই দু’দিন অবস্থান করেন পাঁচ তারকা হোটেল সোনারগাঁওয়ে। হোটেল সোনারগাঁয়ে নবনির্বাচিত মেয়রও ছিলেন। তবে মেয়র ও তার সঙ্গী-সাথীদের হোটেলের খরচ তিনি সিটি করপোরেশন থেকে নেননি, নিজেই ব্যবস্থা করেছেন।

কিন্তু প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, প্রধান প্রকৌশলী ও ৫৬ জন কাউন্সিলরসহ ৬০ জনের বিলের ৮ লাখ টাকা সিটি করপোরেশনের তহবিল থেকে পরিশোধ করা হয়।

সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী নুর আজিজুর রহমান হোটেল সোনারগাঁয়ে থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় হোটেল সোনারগাঁয়ের কাছাকাছি হওয়ায় এবং ৫০% ডিসকাউন্ট পাওয়ায় এটিকে বেছে নেয়া হয়েছে। ৬০ জনের বিল বাবদ ৮ লাখ টাকা পরিশোধ করেছে সিটি করপোরেশন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একজন উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তার সুপারিশে হোটেল কর্তৃপক্ষ অর্ধেক টাকা ডিসকাউন্ট দিয়েছে।

তিনি জানান, মেয়র ও তার সঙ্গী-সাথীদের বিল তিনি নিজেই বহন করেছেন।

এদিকে, জনপ্রতনিধি ও কর্মকর্তাদের ফাইভস্টার হোটেল সোনারগাঁয়ে দুই রাত অবস্থান করার বিষয়টি অনেকেরই দৃষ্টি ও মনযোগ আকর্ষণ করেছে। কেউ কেউ বিরুপ মন্তব্য করতেও দেখা গেছে।

তাদের মতে, দেশের এই আর্থিক সংকটের সময়ে ফাইভ স্টার হোটেলে না থেকে একটি সাধারণ মানের ভালো হোটেলে থাকতে পারতেন। এই অর্থ গরীব-দু:খীদের মাঝে বিলিয়ে দিলে জনপ্রতিনিধিদের সুনাম ও মর্যাদা বৃদ্ধি পেতো।

কেউ কেউ বলছেন, সরকারের সেবাধর্মী এই প্রতিষ্ঠানটির অর্থনৈতিক কাঠামো তেমন একটা শক্ত নয়। সেই সিসিকের টাকায় জনপ্রতিনিধিদের যাত্রার শুরুতে এমন বিলাসিতা অনেকটা হতাশার। প্রধানমন্ত্রী যেখানে কৃচ্ছতা সাধনের জন্য খুবই আন্তরিক। সেখানে নতুন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের সিটি করপোরশেনের খরচে পাঁচ তারকা হোটেলে দু’দিন থাকা ‘হোটেল বিলাস’ ছাড়া কিছুই নয়।

অনুসন্ধানে জানা যায়, বরিশাল ও গাজীপুর সিটির মেয়র-কাউন্সিলররা সম্পূর্ণ নিজস্ব তত্ত্বাবধানে শপথ মহড়া ও শপথ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন। খুলনা ও রাজশাহী সিটি মেয়র নিজস্ব তত্ত্বাবধানে ঢাকায় ছিলেন। খুলনা সিটির কাউন্সিলর ও কর্মকর্তারা উঠেছেন হোটেল ৭১-এ। আর রাজশাহী সিটির কাউন্সিলর ও কর্মকর্তারা অবস্থান করেন হোটেল ভিক্টরিতে।

শেয়ার করুন