৩ জুলাই ২০২৩
অমৃত জ্যোতি, মধ্যনগর (সুনামগঞ্জ) : সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মৃত দেহ দাহকার্য্যের ঐতিহাসিক শশ্মান ঘাটের চুলার উপরে নেই ছাওনী।দূর্যোগপুর্ণ দিনে হিন্দু সম্প্রদায়ের মৃত মানুষের শশ্মান যজ্ঞের সময় ব্যাপক ভোগান্তি পোহাতে হয়।বন্যার পানিতে এলাকার সকল শশ্মান নিমজ্জিত থাকলেও এই শশ্মানটিই একমাত্র ভরসা এলাকাবাসীর। মধ্যনগরস্থ গলইখালী শশ্মান ঘাটটিতে আশপাশ সহ দূরদূরান্ত থেকে সৎকারের জন্য নিয়ে আসেন মৃত ব্যাক্তিকে।
কয়েকদিনে মুশলধারায় বৃষ্টি চলমান।ঐ বৈরী আবহাওয়া মধ্যনগর উপজেলা সদর বাজারের বাসিন্দা প্রয়াত জগন্নাথ দে’র সহধর্মিণী মুক্তি রানীদের মৃত লাশের দাহকার্য্য বৃষ্টির জন্যে ছয় ঘন্টার অধিক অপেক্ষা করে বিকল্প ব্যাবস্থা মাধ্যমে চুলায় লাকড়ি দিতে হয়েছে। এরিমধ্যে একাধিক শশ্মান বন্ধুদের সাথে কথা বলে তিনিরা জানান, এটি অনত্যান্ত দুঃখ জনক। উপজেলা সদরের ঐতিহাসিক গলইখলীস্থ শশ্মান ঘাট সামন্য বৃষ্টি হলেই আর চুলায় আগুন জ্বালানো যায়না।এই ভুগান্তি নিরসনে যথাযথ কর্তৃপক্ষের নজরদারী জরুরি দাবী করেন তারা।
শশ্মান পরিচালনা কমিটির সভাপতি দুলাল কিরণ তালুকদার ও সাধারণ সম্পাদক পন্ডিত সুদীপ কুমার ভট্টাচার্য’র সাথে কথা বলে জানা যায়, বিগত দিনে সংসদ সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন রতন ভাইয়ের মাধ্যমে একটি চুলা ও চালা ঘর নির্মাণ হয়েছে।দূর্যোগপুর্ণ দিনে চালা ঘরে শশ্মান বন্ধুরা অবস্থান করতে পারেন।কিন্তু যেখানে মৃতব্যাক্তির দাহকার্য্য সম্পাদন করা হয়, সেখানে ছাওনী না থাকায় ঝঢ় বৃষ্টির দিনে ভোগান্তির স্বীকার হতে হয়। চুলায় আগুন ধরানো যায় না।আগুন ধরলেও সামন্য বাতাসে ও বৃষ্টি এলেই দাহকার্যের আগুন ধপকরে নিভে গিয়ে ঘটে বিঘ্নতা। তাই যথাযথ কর্তৃপক্ষের নজরদারীতে দ্রুততার সহিত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার মাধ্যমে এমন মহান কার্য্যের সমাধান চাই।
ভুক্তভোগীদের একজন মধ্যনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক অনুজ কান্তি দে বলেন, আমর মা যখন পরলোক ধামে চলে গেছেন তাঁর দাহকার্য্য শেষ করতে হবে।তাই বৃষ্টি দিন নতুন টিনের মাধ্যমে ছাউনি দিয়ে দাহকার্য্য শেষ করতে হয়েছে।দূর্যোগের দিনে যা অনেকের পক্ষেই অসম্ভব।আমার মতে দ্রুতই পদক্ষেপ নেওয়া দরকার।
বিষয়টি উল্লেখ করে মধ্যনগর সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সঞ্জীব রনজন তালুকদার টিটু’র সাথে কথা বললে তিনি জানান, বিষয়টি আমার জানা ছিলনা, কিন্তু ঐদিন আমি প্রত্যাক্ষভাবে উপলব্ধি করেছি। আমার পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ গুরুত্বের সহিত দেখছি এবং অতি শিগ্রই এর নিরসনের ব্যাবস্থা গ্রহন করবো। আমার সাধ্যের বাহিরে হলেও প্রয়োজনে উর্ধতন কতৃপক্ষের সহায়তা নেয়া হবে।