৪ জুলাই ২০২৩


শিল্পবর্জ্যে অস্তিত্ব সংকটে সুতাং নদী

শেয়ার করুন

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি : হবিগঞ্জে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের দূষিত বর্জ্যে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে সুতাং নদী। গত ১৫ বছরে বেসরকারি উদ্যোগে জেলার অলিপুর এলাকায় গড়ে উঠা ছোট বড় অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠানের নিষ্কাষিত দূষিত বর্জ্যে সুতাং নদীর পানি কালো রং ধারণ করে তার স্বাভাবিক সৌন্দর্য হারিয়েছে। নদী তীরবর্তী বিভিন্ন গ্রামের হাজার হাজার মানুষ চর্মরোগ, শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন রোগে চরম স্বাস্থ্যঝুঁকিতে ভুগছেন।

এ নদীর পানি পান করে গবাদি পশু, হাঁস মুরগি মরে যাওয়া ছাড়াও নদী থেকে হারিয়ে গেছে দেশীয় প্রজাতির মাছ। সেচ কার্যে নদীর বিষাক্ত পানি ব্যবহার করায় ফসল উৎপাদনও আশঙ্কাজনকভাবে হ্রাস পেয়েছে।

লাখাই প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আশিষ দাশ গুপ্ত জানান, বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান থেকে নিষ্কাষিত বর্জ্য শৈলজুড়া খাল হয়ে সুতাং নদীতে পড়ে বিস্তীর্ণ এলাকায় পরিবেশ বিপর্যয়ের সৃষ্টি হয়েছে। প্রতি বছর ফাল্গুন মাসের শেষে সুতাং নদীর বেলেশ্বরী নামক স্থানে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ঐতিহ্যবাহী পুণ্যস্নান করাও এখন দুষ্কর হয়ে পড়েছে।

সম্প্রতি রিভার অ্যান্ড ডেল্টা রিসার্চ সেন্টার (আরডিআরসি) এর উদ্যোগে দেশের ৫৬টি প্রধান নদ-নদীর দূষণ নিয়ে এক বছর ব্যাপী গবেষণা করা হয়। গবেষণায় ৫৬টি নদীর মধ্যে ৩টি নদী সবচেয়ে দূষিত বলে উল্লেখ করা হয়েছে। দূষিত ৩টি নদীর মধ্যে রয়েছে হবিগঞ্জের সুতাং, গাজীপুরের লবণদহ ও নরসিংদীর হাঁড়িধোয়া নদী। শিল্পকারখানার বর্জ্য, প্লাস্টিক ও ময়লা ফেলার স্থান হিসেবে এ নদীগুলো ব্যবহার করায় মারাত্মক দূষণের কারণে নদীগুলোতে জলজপ্রাণীর অস্তিত্বও হুমকির সম্মুখীন।

গবেষকরা বলছেন, নদীগুলোকে আগের রূপে ফিরিয়ে দিতে শিল্পকারখানা, পয়ঃনিষ্কাশন ও বর্জ্য নিষ্কাশনের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার উপর গুরুত্ব দিতে হবে।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল সোহেল লাখাই উপজেলায় সুতাং নদী তীরবর্তী বিভিন্ন এলাকা সরেজমিনে প্রত্যক্ষ করে জানান, দেশের বৃহৎ অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান অপরিকল্পিতভাবে এবং গোপনে শৈলজুড়া খালের মাধ্যমে বর্জ্য নিষ্কাশন করে সুতাং নদীতে ফেলায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। নদীর তলদেশে বিষাক্ত ও দুর্গন্ধযুক্ত বর্জ্যরে স্তর পড়েছে। সুতাং নদী দূষণের জন্য দায়ী শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।

তিনি জানান, ইদানীং শৈলজুড়া খাল পুনঃখননের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। যদি এই খাল পুনঃখনন করা না হয় তাহলে উপকার না হয়ে অপূরণীয় ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।

জেলা বাপা সভাপতি অধ্যক্ষ ইকরামুল ওয়াদুদ জানান, সংকটে পড়া সুতাং নদীকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে না আনতে পারলে বিস্তীর্ণ এলাকার পরিবেশ ও জীব বৈচিত্র্যে দীর্ঘ মেয়াদী বৈরী প্রভাব পড়বে।

শেয়ার করুন