১৭ জুন ২০২৩
‘যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে তবে একলা চলো রে’- গানের এই উক্তির বাস্তব উদাহরণ হচ্ছেন সিলেটের স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী শাহজাহান মিয়া। ছবি : শাওন চৌধুরী
শিপন চন্দ জয় : ‘যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে তবে একলা চলো রে’- গানের এই উক্তির বাস্তব উদাহরণ হচ্ছেন সিলেটের স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী শাহজাহান মিয়া। সিলেট সিটি কর্পোরেশন (সিসিক) নির্বাচনে যখন সবাই দামি গাড়ী বহরে নির্বাচনী প্রচারণা ব্যস্ততম সময় পার করছেন তখন বাইসাইকেল নিয়ে একে একে সিসিকের ৪২ ওয়ার্ডের ভোটারদের কাছে ভোটের জন্য ছুটে চলছেন তিনি। এর আগে ২০১৮ সালে জাতীয় নির্বচনে সিলেট ১ আসন থেকে বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন এর সাথে নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চেয়েছিলেন শাহজান মাস্টার । কিন্তু জাতীয় নির্বাচনে মনোনয়ন দাখিলের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পাঁচ হাজার ভোটারের স্বাক্ষর সংগ্রহ করতে না পারায় তিনি তখন মনোনয়ন দাখিল করতে পারেননি।

এদিকে নগরীর সাধারণ জনগন বলছেন, এমন সৎ মানুষ নগর ভবনের দ্বায়িত্ব ফেলে মহানগরীর উন্নয়ন হবে। একজন অসহায় মানুষ আরো একজন অসহায়ের দুঃখ বুজবে। রাজন ইসলাম নামে এক ব্যবসায়ী বলেন, শাহজান মাষ্টার মানুষের সহায়তায় এতটুকু এগিয়ে এসেছেন। আমাদের সবার আরোও একটু সহযোগিতা ফেলে তিনি বিজয়ী হবেন ইনশা আল্লাহ। তরুণ ভোটার শামিম বলেন, প্রথমে আমি একটু অবাক হই শাহাজন মাস্টারের প্রতিদন্ধিতা করছেন দেখে। কিন্তু সব মিলিয়ে দেখলাম উনি তৃণমূল থেকে উটে এসেছেন। আমরা সবাই শাহজান মিয়াকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই।
এদিকে শহজান মিয়া’র সাথে কথা বলে জানা যায়, তিনি ২০০০ সালে সিলেটে আসেন। কীভাবে এসেছিলেন তাও মনে নেই তার। সিলেটে আসার পর জীবন জীবিকার তাগিদে কাজ খোঁজতে থাকেন শাহজাহান। অনেক খোঁজাখুজি করে প্রথমে নগরের চৌহাট্টাস্থ আইলফাইন রেস্টুরেন্টে ওয়েটারের কাজ শুরু করেন তিনি। এর পর সিলেটের প্রায় ৮০টি রেস্টুরেন্টে ওয়েটার বয় থেকে শুরু করে পার্টনার হয়ে কাজ করেন। তিনি কাজের ফাঁকে ফাঁকে জীবন সংগ্রামের অংশ হিসেবে লেখা পড়াও চালিয়ে যান। দিনে কাজ করে রাতে সিলেট সিটি কর্পোরেশন পরিচালিত ভোলানন্দ নৈশ হাই স্কুলে লেখাপড়া করেন। পাশাপাশি ময়মনসিংহ মডেল স্কুল থেকে এসএসসি, কিশোরগঞ্জ ডিগ্রি কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট ও সিলেট মদনমোহন কলেজ থেকে সমাজ বিজ্ঞানে বিএসএস ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। তখন থেকে সবাই তার নামের সাথে মাস্টার বলে ডাকতে শুরু করেন। বর্তমানে শাহজান মাষ্টার ভুষিমালের দোকানে মোমবাতি, সেলুনে ব্লেড ও ফার্মেসীতে ঔষধ সাপ্লাইয়ের কাজ করেন।
তিনি আরও বলেন, মোটামুটি সিলেট নগরের সবশ্রেণি ও পেশার মানুষের সাথে আমার ভালো পরিচয়। নগরজীবনের হালচাল,সমস্যা, সমাধান সব বিষয়েই আমি পরির্পূণ অবগত। তাই নগরের মানুষের আর্থসামাজিক উন্নয়নের ব্রত নিয়ে এবার আমি সিলেট সিটি মেয়র পদে বাস গড়ী প্রতীক নিয়ে নগরীর মানুয়ের দারে দারে ছুটে যাচ্ছি। নগরের মানুষজন আন্তরিকভাবে ও আর্থিকভাবে আমাকে অনেক সহায়তা করেছেন এবং শেষ পর্যন্ত করবেন বলে আমি আশাবাদী। তাই সিলেট সিটির আপামর জনগনের পক্ষ হয়ে আমি মেয়র পদে লড়াই চালিয়ে যাব ইনশা আল্লাহ।

নগরীর অবহেলিত জনগন যদি ভোট দিয়ে আমাকে মেয়র নির্বাচিত করেন। তবে আমি জনগনের মতামতের ভিত্তিতে নগরীর অসম্পূর্ণ সকল কাজ সম্পন্ন করবো। জনগণ আমার সাথে আছেন এবং আমি আশাবাদী শেষ পর্যন্ত জনগন আমার সাথে থাকবেন।
এর আগে মনোনয়নপত্রের সঙ্গে সম্পদ বিবরণী ও আয়কর রিটার্নের কপি জমা না দেওয়ায় শাহজাহান মিয়ার মনোনয়নপত্র বাতিল হয়। পরে আপিল শুনানির আগে সম্পদ বিবরণী ও আয়কর রিটার্নের কপি জমা দেওয়ায় তিনি প্রার্থিতা ফিরে পান। প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার পর থেকে তিনি তার বাইসাইকেল নিয়ে বাস প্রতীকে ভোট চাইতে সবার দারে দারে পৌছাচ্ছেন।