১২ জুন ২০২৩


কুষ্ঠ রোগের রেড জোন মৌলভীবাজার

শেয়ার করুন

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি : কুষ্ঠরোগ বা হ্যানসেনের রোগ (এইচডি) নামেও পরিচিত। মাইকোব্যাক্টেরিয়াম লেপ্রি বা মাইকোব্যাক্টেরিয়াম লেপ্রোমাটোসিস ব্যাকটেরিয়া দ্বারা দীর্ঘমেয়াদী সংক্রমণ। সংক্রমণটি স্নায়ু, শ্বাস প্রশ্বাসের নালী, ত্বক এবং চোখের ক্ষতি করতে পারে। বর্তমানে মৌলভীবাজারকে মাইকোব্যাক্টেরিয়াম লেপ্রোমাটোসিস ব্যাকটেরিয়া বা কুষ্ঠ রোগের রেড জোন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সচেতনতার অভাবে কুষ্ঠ রোগে বেশি আক্রান্ত হওয়ার উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছেন মৌলভীবাজারের চা শ্রমিকরা।

জেলা সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে জানা যায়, মৌলভীবাজারে মাইকোব্যাক্টেরিয়াম লেপ্রোমাটোসিস ব্যাকটেরিয়া বা কুষ্ঠ রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৬৬০জন। সিলেট বিভাগে কুষ্ঠ রোগে আক্রান্তদের প্রায় ৯৮ শতাংশ রোগী এ জেলার। তবে হীড বাংলাদেশের হিসাবে জেলার সাত উপজেলায় কুষ্ঠ রোগীর সংখ্যা ২৪০ ও বর্তমান রোগী আছে ১২৬ জন।

কুষ্ঠ রোগে আক্রান্ত জেলার কুলাউড়া উপজেলার হিঙ্গাজিয়া চা বাগানের উপর লাইনের নারী চা শ্রমিক গীতা মৃধা বলেন, ‘কাজে গেলে শরীর ঝিনঝিন করে। মে মাসে হাসপাতালে গেলে আমার কুষ্ঠ ধরা পড়ে। একই বাগানের আরেক রোগী মুন্নি দাস (৩২) বলেন, ৮ মাস ধরে চর্মরোগ মনে করে চিকিৎসা নিচ্ছিলাম। বাগানের হাসপাতালে পরীক্ষা নিরীক্ষায় ধরা পড়ে কুষ্ঠ রোগ। এখন নিয়মিত শ্রমিক হিসেবে কাজে যেতে হচ্ছে। অনেকে আমাকে এড়িয়ে চলে।তখন খুব খারাপ লাগে।

বাংলাদেশ চা শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক চা শ্রমিক নেতা দীপঙ্কর ঘোষ বলেন, ‘অধিকাংশ চা বাগানের শ্রমিকরা অজ্ঞ তারা কুষ্ঠ রোগ সম্পর্কে সচেতন নয়। তারা নিম্নমানের জীবনযাপন করতে হয়। এ কারণেই চা শ্রমিকরা কুষ্ঠ রোগে বেশী সংক্রমিত হচ্ছে।

মৌলভীবাজারের সিভিল সার্জন চৌধুরী জালাল উদ্দিন মুর্শেদ বলেন, ‘কুষ্ঠ রোগে আক্রান্তদের পরিসংখ্যায় মৌলভীবাজার শীর্ষে। এই জেলায় কুষ্ঠ রোগী আছেন ৬৬০ জন। এদের মধ্যে অপ্রাপ্ত বয়স্করাই বেশি। এই জেলাকে কুষ্ঠ রোগের রেড জোন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে আক্রান্তের ৯৮ শতাংশই চা বাগান অধ্যুষিত এলাকায়। রোগ নিয়ন্ত্রণের জন্য মাঠ পর্যায়ে কাজ অব্যাহত রয়েছে।

হীড বাংলাদেশের প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর জিয়াউদ্দিন বলেন, ‘মৌলভীবাজার জেলার চা বাগানগুলোতে গড় হিসাবে প্রতি ১০০ জন শ্রমিকের মধ্যে দুই জন কুষ্ঠ রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। কুষ্ঠ রোগ নির্মূলে ২০১৪ সালের জানুয়ারি মাস থেকে নতুনভাবে লেপ্রসি ইন্টিগ্রেশন প্রজেক্ট কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বর্তমানে মৌলভীবাজার জেলায় কুষ্ঠ রোগীর সংখ্যা ২৪০ জন। এর আগে অসংখ্য রোগী পরিপূর্ণ সুস্থ হয়ে উঠেছেন। তিনি আরও বলেন, ‘২০২২ সালে রোগী ছিলেন ১০৫ জন, ২০২১ সালে ২৫৭ জন, ২০২০ সালে ১৯১ জন ও ২০১৯ সালে ৩৫৪ জন। ২০২০ ও ২০২১ সালে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে মাঠ পর্যায়ে কার্যক্রম সীমিত থাকায় রোগীর তথ্য পরিপূর্ণ করা সম্ভব হয়নি।’

শেয়ার করুন