৯ জুন ২০২৩
নিজস্ব প্রতিবেদক : এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের একটি নির্মাণাধীন ভবনে কাজ করা নয়ন (২০) নামের এক শ্রমিককে চুরির অপবাদে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া আরও এক শ্রমিককে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত নয়ন নয়নের বাড়ি বিশ্বনাথ উপজেলায় বলে জানা গেছে।
শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে শ্রমিক আটকে নির্যাতনের খবর পেয়ে পুলিশ গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে। পরে হাসপাতালের জরুরী বিভাগে নিয়ে গেলে ডাক্তাররা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে চারজনকে আটক করেছে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ। আটক ব্যক্তিরা হলেন- কুড়িগ্রাম কচাকাঁটা থানার নারায়ণ পুর গ্রামের আমিনুল ইসলাম, আয়নাম, সাবান আলী এবং দিনাজপুর বিরামপুর থানার তেঘারা গ্রামের রুবেল মিয়া।
নির্মাণ শ্রমিকরা জানান, শুক্রবার ভোরে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার আমিনুলের নেতৃত্বে নয়ন ও আইয়ুব আলীকে ঘুম থেকে তুলে একটি কক্ষে হাত পা বেঁধে লোহার রড ও পাইপ দিয়ে পেঠাতে থাকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অন্য কর্মীরা। এ সময় তারা ১ লাখ টাকা ও কয়েকটি মোবাইল চুরির অভিযোগ আনে। এদিকে শ্রমিককে আটকে নির্যাতনের খবর পেয়ে মেডিকেল ক্যাম্পের পুলিশ গুরুতর আহত অবস্থায় নয়নকে সকাল ৯টার দিকে উদ্ধার করে জরুরী বিভাগে নিলে ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে আরেক শ্রমিক আইয়ুব আলীকে আটকে নির্যাতনের বিষয়টি জানতে পেরে পুলিশ তাকেও গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে।
ফখরুল হক নামের এক নির্মাণ শ্রমিক বলেন, ক্যানসার ইনস্টিটিউট থেকে ১ লাখ ২০ টাকা আর মোবাইল চুরি হয়। এ ঘটনার সন্দেহ করা হয় নয়ন ও আইয়ুব আলীকে। তাদের দুজনকে জিজ্ঞাসা করলে তারা এ বিষয়ে কিছু জানে না বলে জানায়। এরপর তাদের কয়েকজন মিলে মারধর করে।
এসএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার (উত্তর) আজবাহার আলী শেখ বলেন, টাকা ও মোবাইল চুরির অভিযোগে নিহত নয়ন ও আইয়ুব নামের দুই শ্রমিককে নির্মাণাধীন ভবনের একটি কক্ষে আটকে লাঠিপেটা করা হয়। নির্যাতনের সময় নয়ন নামের এক শ্রমিক মাটিতে পড়ে গেলে তাকে অন্য শ্রমিকরা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। যাদের পুলিশ আটক করেছে তারা মারপিট করেছিল। এ সময় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জামাল অ্যান্ড কোং এর আরও কয়েকজন ছিল। পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।
কোতোয়ালি থানার ওসি আলী মাহমুদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।