৭ মার্চ ২০১৮
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি : অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবালের ওপর হামলাকারী ফয়জুর রহমান ওরফে ফয়জুল (২৪) সালাফি মতাদর্শী। কুয়েতপ্রবাসী দুই চাচার প্রভাবেই এই মতাদর্শ গ্রহণ করেন বলে জানিয়েছেন তার গ্রামের কয়েকজন প্রতিবেশী।
সালাফি মতাদর্শীরা বাংলাদেশে ‘ওহাবি’, ‘আহলে হাদিস’ বা ‘লা মাজহাবি’ (মাজহাববিরোধী) হিসেবে পরিচিত। মুসলিম বিশ্বে সালাফি মতাদর্শ প্রচারের ক্ষেত্রে সৌদি রাজপরিবার পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে আসছে বলে ধারণা করা হয়। তবে বাংলাদেশে মুসলমানদের অধিকাংশই হানাফি মাজহাবের অনুসারী।
জঙ্গিবাদবিরোধী কার্যক্রমে জড়িত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তাদের মতে, যারা পারিবারিক সূত্রে নয়, নতুন করে সালাফি হয়েছেন, তাদের মধ্যে উগ্রতা বেশি।
এদিকে জাফর ইকবালের ওপর হামলাকারী ফয়জুর সুনামগঞ্জের দিরাইয়ের নিজ গ্রামে ‘লা মাজহাবি’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। এমন কি সালাফি মতাদর্শীদের মতো নামাজ পড়াকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের সঙ্গে ফয়জুরের বাগ্বিতণ্ডাও হয়।
একই গ্রামের বাসিন্দা ও জগদল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মিজানুর রহমান বলেন, কুয়েতপ্রবাসী দুই চাচা লা মাজহাবি হওয়ায়, তাদের দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে ফয়জুরও ওই মতাদর্শ গ্রহণ করেন।
তিনি আরো বলেন, এক সময় চাচাদের মতো ভিন্ন কায়দায় নামাজ পড়তে শুরু করেন ফয়জুর। এ নিয়ে গ্রামের অনেকের সঙ্গে তার বাগ্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে গ্রামবাসী তাকে জানিয়ে দেয়, সে যেন গ্রামের অন্য কাউকে তার মতাদর্শে উদ্বুদ্ধ না করে। আর একারণে ফয়জুরের পরিবারের সঙ্গেও গ্রামের লোকজনের খুব একটা উঠাবসা ছিল না।
গ্রামের লোকজন জানায়, ফয়জুর রহমানের বাবা আতিকুর রহমান ১৫ বছর আগে দিরাই ছেড়ে স্বপরিবারে সিলেটে চলে যায়। সেখানে একটি মাদ্রাসায় শিক্ষকতা শুরু করেন। পুরো পরিবারই নিয়ে তিনি সিলেটে থাকতেন। তিন ভাই ও দুই বোনের মধ্যে ফয়জুর তৃতীয়। বড় ভাই এনামুল ঢাকার একটি তৈরি পোশাক কারখানায় চাকরি করেন। আরেক ভাই আবুল ছয় মাস আগে কুয়েতে চলে গেছেন। তার দুই চাচা আবদুল জাহের ও আবদুল সাদিক কুয়েতপ্রবাসী। বাড়িতে আছেন আরও দুই চাচা আবদুল কাহের ও আবদুল বাতেন।
এদিকে মাঝেমধ্যে নিজ গ্রামে আসতেন ফয়জুর। এসময় তাকে স্থানীয় বাজারে লুঙ্গি-গামছা ফেরি করে বিক্রি করতেও দেখা যায়। সর্বশেষ প্রায় ৩ মাস আগে ফয়জুর দিরাই উপজেলার জগদল ইউনিয়নের কলিয়ার কাপন গ্রামে নিজ বাড়িতে এসেছিলেন বলে প্রতিবেশীরা জানান।
এদিকে সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহ বলেন, ‘আমরা গ্রামবাসীর সঙ্গে কথা বলে জেনেছি, শুধু ফয়জুর রহমানই আহলে হাদিসের তরিকায় নামাজ পড়তেন, পরিবারের অন্যরা নয়। এ কারণে পরিবারের লোকজনও তার ওপর অসন্তুষ্ট ছিল।’
(আজকের সিলেট/৭ মার্চ/ডি/কেআর/ঘ.)