১৬ মে ২০২৩
গোয়াইনঘাট প্রতিনিধি : সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলা খাদ্য গুদামে ট্রাক যোগে সুনামগঞ্জ থেকে আনা ২৬০ বস্থা ধান অবৈধভাবে মজুদের সময় জব্দ করা হয়েছে। গোয়াইনঘাট উপজেলায় চলতি বছর বোরো ধান সংগ্রহের শুরুতেই সুনামগঞ্জ থেকে ধান ক্রয় করে খাদ্য গুদামে মজুদ কালে ২৬০ বস্তা বোরো ধান জব্দ করেছেন গোয়াইনঘাট উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফারুক আহমদ।
মঙ্গলবার (১৬মে) সকাল ১০টায় উপজেলার পূর্নানগর খাদ্য গুদামে গিয়ে দেখা যায় ট্রাকবর্তী ধান গুদামে লোড করা হচ্ছে। এলাকার কৃষককুল ঐ সংবাদের খবর পেয়ে পূর্নানগর খাদ্যগুদামে জড়ো হন। ঐসময় খাদ্য গুদামের সংশ্লিষ্ট কাউকে সেখানে দেখা যায় নি।
অবৈধভাবে খাদ্য গুদামে ধান মজুদের খবরটি এলাকায় চাউর হলে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে গোয়াইনঘাট উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ফারুক আহমদ উপস্থিত হয়ে ধানগুলো জব্দ করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা আওয়ামী-লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সুবাস চন্দ্র পাল ছানা ও থানার এস আই জহির।
উপজেলা চেয়ারম্যান ফারুক আহমদ বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপস্থিত হয়ে ২৬০ বস্তা ধান জব্দ করা হয়। তিনি বলেন, স্হানীয় কৃষকরা গোয়াইনঘাট খাদ্য গুদামে বোরো ধান বিক্রি করতে চাইলে ধান শুকানোর অজুহাতে তাদেরকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অনেকে তাঁর কাছে অভিযোগ করেন। চেয়ারম্যান ফারুক বলেন, আমি জানার সাথে সাথে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানিয়েছি। নির্বাহী কর্মকর্তা মহোদয় উপজেলার রুস্তমপুর ইউনিয়নে পরিদর্শনে ছিলেন। তাৎক্ষণিক বিষয়টি জেলা প্রশাসনকে জানিয়ে নিজে উপস্থিত হয়ে তদন্ত কমিটি গঠনের কার্যক্রম গ্রহণ করেন। এসময় জেলা খাদ্য কর্মকর্তা এসেও উপস্থিত হন।
এদিকে গোয়াইনঘাটের কৃষকরা তাদের ধান বিক্রি করতে পারছেন না বলে ব্যাপক অভিযোগ রয়েছে। খাদ্য নিয়ন্ত্রক অফিসের দূর্নিতীর কারনে গোয়াইনঘাটের কৃষকদের ধান ক্রয় না করে নিজেরাই ব্যাবসায় জড়িত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। জানা যায় এবছর ৭-শত মেট্রিক টনেরও বেশি বোরোধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও খাদ্য গুদামের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নানা কৌশলে গোয়াইনঘাটের কৃষকদের ধান ক্রয় না করে ফিরিয়ে দেন। এতে করে বঞ্চিত হচ্ছে গোয়াইনঘাটের কৃষকরা। গুদামের দ্বায়িত্বে থাকা ওসিএলএসডি পলি দাস তাহার নিজ এলাকা সুনামগঞ্জ থেকে ধান ক্রয় করে গুদামে মজুদ করতে শুরু করেন।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রায়হান পারভেজ রনি বলেন, ধানগুলো সুনামগঞ্জ থেকে এসেছে ঐ সত্যতা আমি পেয়েছি। বিষটি ইউএনও মহোদয় তদন্ত কমিটি গঠন করে দেখছেন।
এ ব্যাপারে ওসিএলএসডি পলি দাসের সাথে যোগাযোগ হলে তিনি জানান, আমি সিলেট জেলা অফিসে একটা মিটিংয়ে আছি, ধানের বিষয়ে কথা হলে তিনি বলেন ধানগুলো কৃষকরাই দিয়েছে সুনামগঞ্জের নয়। অথচ ট্রাকের হেলপার সাবুল বলেন ২৬০বস্থা ধান ১০হাজার টাকা ভাড়ায় সুনামগঞ্জ থেকে গোয়াইনঘাটে নিয়ে এসেছি। ধানগুলো কে আনিয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার (ওস্তাদ) ড্রাইভার বলতে পারবেন। ঐ সময় ট্রাকের চালককে পাওয়া যায়নি। উপস্থিত গোয়াইনঘাটের কৃষকরা জানান, আমরা গুদামে ধান নিয়ে আসলে ওসিএলএসডি পলি দাস আমাদের ধান রাখেন না, নানা কৌশলে আমাদের ফিরে দেন। পেটের দ্বায়ে নিরুপায় হয়ে ন্যায্য মূল্যের কমে ধানগুলো স্থানীয়ভাবে বিক্রি করতে বাধ্য হই।
গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার তাহমিলুর রহমান জানান, এ বিষয়ে জেলা প্রশাসককে অবহিত করা হয়েছে এবং একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। তদন্ত করে পরবর্তী ব্যবস্হা নেয়া হবে।
গোয়াইনঘাট উপজেলার কৃষকদের প্রত্যাশা সংশ্লিষ্ট দূর্নীতিবাজ কর্মকর্তা/ কর্মচারীদের বিরুদ্ধে সঠিক ব্যাবস্থা গ্রহণ করে কৃষকদের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তির সু- ব্যাবস্থা গ্রহণ করবেন।