৬ মে ২০২৩
শাহিদ হাতিমী : সিলেটে প্রতিদিনই বাড়ছে নিত্যপণ্যের দাম। একেবারে কমছে না এবং দাম কমার লক্ষনও দেখা যাচ্ছে না। বেশিরভাগ নিত্যপণ্যের দামের ঊর্ধ্বগতিতে সিলেটে বেকায়দায় পড়েছেন গরিব ও নিম্ন আয়ের মানুষজন। রামাজান পরবর্তী ঈদুল ফিতরের দুই সপ্তাহ যেতে না যেতেই চিনি, আলু, সবজি, ডিম, পেঁয়াজ, মসলা ও আদার দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে চলেছে।
বন্দর বাজার, মদীনা মার্কেট, রিকাবী বাজার, শিবগঞ্জ বাজারসহ সিলেট নগরীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এবং ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
জানা যায়, নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের ঘাড়ে চেপে বসেছে নিত্যপণ্যের লাগামহীন বাজর দরের প্রভাব। এরইমধ্যে এগিয়ে আসছে ঈদুল আজহা এবং দূর্গাপূঁজা । সে কারণে বাজারে এই অস্থিরতা শুরু হয়েছে বলে মনে করছেন কেউ কউ। সরকারি হিসেবে এক বছরে খাদ্যপণ্যের দাম সর্বোচ্চ বেড়েছে ১৬৩ শতাংশ । ৪৮টি খাদ্যপণ্যের মধ্যে গেল এক বছরে বেড়েছে ৩৭টির এবং গত এক মাসে বেড়েছে ১৫ টি পণ্যের দাম ।
বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে সিলেট জেলা বাজার কর্মকর্তা আবু সালেহ মো. হুমায়ুন কবির আজকের সিলেট ডটকমকে বলেন, গত সপ্তাহের শেষ দিকে কিছু পণ্যের দাম বেড়েছে। বিশেষ করে পেঁয়াজ, রসুন, আলু বা মসলা জাতীয় পণ্যগুলোর দাম বেড়েছে, যা আমাদের মনিটরিংয়ে রয়েছে।
হঠাৎ কেন এ পণ্যগুলোর দাম বাড়লো এমন প্রশ্নের উত্তরে বাজার কর্মকর্তা বলেন- আমদানী সংকটের কারনে অর্থাৎ পণ্যগুলোর মজুদ শেষ হয়ে যাওয়ায় এবং দ্রুত সময়ে আমদানী করতে না পারায় দাম বেড়েছে বলে মনে হচ্ছে।
সরকারের পক্ষ থেকে প্রতিনিয়ত বাজার নিয়ন্ত্রণে নজরদারি ব্যবস্থা থাকলেও এর সুফল দেখা যাচ্ছে না। কাঁচাবাজারের লাগামহীন মূল্যে নিম্ন আর মধ্যম আয়ের মানুষের জীবন এখন বিপর্যস্ত। ফলে সাধারণ মানুষ; বিশেষ করে খেটেখাওয়া মেহনতি মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে। কিছুদিন আগেও ৪০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া পেঁপের দাম বেড়ে হয়েছে ৭০ টাকা। সব মিলিয়ে সবজি কেনাও এখন সাধারণ মানুষের জন্য কঠিন বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
দিন দিন মূল্যবৃদ্ধির তালিকার বহর আরও দীর্ঘ হচ্ছে। শসা, পেঁপে, লাউ, করলা মতো সবজি থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের আমিষের উৎস হিসেবে পরিচিত ডিম এবং ডালের দামও বেড়েছে। এমনকি চিনি কিনতেও ক্রেতাকে বাড়তি টাকা ব্যয় করতে হচ্ছে। কিছুদিন আগে ১২০ টাকায় বিক্রি হওয়া খোলা চিনির দাম এখন ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা। পেঁয়াজ কেজিতে ১৫ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৫৫-৬০ টাকায়। ভোজ্যতেলের দামও বাড়িয়েছে ব্যবসায়ীরা। ঘোষণা দিয়ে প্রতিলিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ১২ টাকা বাড়ানো হয়েছে।
জনি নামে রিকাবী বাজারের এক দোকানদার বলেন, ঈদের পর কয়েকটি পণ্যের দাম বেড়েছে। আর অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে মসলার দাম। জনি বলেন, আমদানী মসুর ডাল ১৪০ টাকা, দেশি মসুর ডাল ১৩০ টাকা, খেসারির ডাল ৮০ টাকা, ভাঙা মাসকলাই ১৬০ টাকা, ছোলা বুট ৮০ টাকা, বুটের ডাল ৯০ টাকা, এ্যাংকার ডাল ৭০ টাকা ও মুগডাল ১৩০ টাকা। এছাড়া মরিচের গুঁড়া ১০০ টাকা বেড়ে ৪৪০ টাকা, হলুদ গুঁড়া ৮০ টাকা বেড়ে ২০০ টাকা, জিরা ২০০ টাকা বেড়ে ৮০০ টাকা, ধনিয়া ৮০ টাকা বেড়ে ২০০ টাকা ও চিনি ১৩০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।
ব্যবসায়ীরা বলেন, ঈদের পর থেকে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চিনি ও তেলের দাম। পাশাপাশি পেঁয়াজ, রসুন, আলু, আদাসহ অধিকাংশ নিত্যপণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী। আমদানি কম ও চাহিদা বেশি হওয়ায় এসব পণ্যের দাম বেড়েছে। পেঁয়াজ ৫০ টাকা, আদা ২০০ টাকা, আলু ৪০ টাকা, রসুন ১৬০-২২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
শিবগঞ্জ বাজারের মুরগি বিক্রেতা বলেন, ঈদের দুই দিন আগেও ব্রয়লার মুরগির দাম ১৯০ থেকে ২০০ টাকা কেজি ছিল। চাঁদ রাত থেকেই ব্রয়লার মুরগির দাম বাড়তে শুরু করে। এখন ব্রয়লার মুরগি ২৫০ টাকা, সোনালী মুরগি ৩৪০ টাকা ও সাদা কক ৩০০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।
শহরতলীর শাহপরাণ মাজার গেইটে খোকন নামে বাজারের এক সবজি বিক্রেতা বলেন, বেশ কয়েক প্রকার সবজির দাম বেড়েছে। বেগুন ৫০ টাকা, পটল ৫০ টাকা, চিচিঙ্গা ৫০ টাকা, কুমড়া ৫০ টাকা পিস, ঢেঁড়স ৫০ টাকা, করলা ৬০ টাকা, কাকরোল ৭০ টাকা, মুলা ৪০ টাকা, টমেটো ৪০ টাকা, বাঁধাকপি ৬০ টাকা পিস, ফুলকপি ৮০ টাকা কেজি, বরবটি ৬০ টাকা, কাঁচামরিচ ৬০-৮০ টাকা, পেঁপে ৪০-৫০ টাকা, গাজর ৪০-৬০ টাকা, ঝিঙ্গা ৬০ টাকা, লাউ ৬০ টাকা ও শশা ৬০-৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
ডিমের বাজার কেন বারবার অস্থিরতা বাড়ছে এ বিষয়ে বন্দরবাজারস্থ বারুতখানার কয়েকজন পল্ট্রি ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা হয় এ প্রতিবেদকের। এতে জানা যায়- পোলট্রি খাদ্যের দাম না কমলে ডিমের দাম আরও বাড়বে। মুরগির খাবারের দাম বাড়ায় অনেক খামারি ব্যবসা বন্ধ করে দিয়েছেন। যার প্রভাব ডিমের বাজারে দেখা দিচ্ছে। লোকসানের কারণে একের পর এক খামার বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে এবং পোলট্রি খাদ্যের দাম না কমলে আগামী কিছুদিনের মধ্যে ডিমের দাম আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।