৩ মে ২০২৩


ব্রি-৮৯ ও ৭৪ নতুন জাতের ধান চাষ করে সফল কৃষক তৈয়বুর

শেয়ার করুন

সৈয়দ হেলাল আহমদ বাদশা, গোয়াইনঘাট থেকে : গোয়াইনঘাট উপজেলায় নতুন জাতের ব্রি-ধান ৮৯ ও ব্রি-৭৪ ধান চাষে সফলতা পেয়েছেন কৃষক তৈয়বুর রহমান। দীর্ঘদিন থেকে উপজেলার চাষিরা ব্রি-২৮,২৯ জাতের ধান চাষ করে থাকলেও এবছর অনেক চাষীরা উচ্চ ফলনশীল ধান ব্রি- ৮৯,৭৪, ৯২ জাতের ধান সহ ছক্কা হাইব্রিড আবাদ করেছেন। বিকল্প হিসেবে উচ্চ ফলনশীল ব্রি-ধান ৮৯ জাতের বেশি ফলনে কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে। তার মধ্যে একজন উপজেলার নন্দিরগাঁও ইউনিয়নের নওয়াগাঁও গ্রামের কৃষক তৈয়বুর রহমান।

গোয়াইনঘাট উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি বোরো মৌসুমে উপজেলায় ৮ হাজার ৬শত ৮৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষের লক্ষ্যে মাত্রা নির্ধারণ করা হয়। তা ছাড়িয়ে এবার ৯ হাজার ৭শত ৭২ হেষ্টর জমিতে বোরো ধান আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে ব্রি-৭৪ ধান ব্রি-৯২ ধান ও ব্রি-৮৯ ধানও চাষ করা হয়েছে। বর্তমানে ব্রি-ধান ৮৯ এবার অন্যান্য ধানের তুলনায় ফলন হয়েছে বাম্পার।

উপজেলার নওয়াগাঁও গ্রামের কৃষক তৈয়বুর রহমান জানান, তিনি এবার পরীক্ষামূলক ব্রি-ধান ৮৯ ও ৭৪ আবাদ করেছেন ৬ বিঘা (কিয়ার) জমিতে। কিয়ার (বিঘা) প্রতি ২৫ থেকে ৩০মণ ফলন হয়েছে। উপজেলার অনেক কৃষকরা এ বছর আগাম জাতের ব্রি-২৮ ধান চাষ করে ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে।কিন্তু তিনি ব্রি-৭৪ ও ৮৯ জাতের ধান চাষ করে ভালো ফলনে খুশি। তিনি জানান, ব্রি-ধান ৮৯ এর জীবন কাল ব্রি-ধান ২৯ এর চেয়ে ৩-৫ দিন এবং ব্রি-৭৪ আরো কম সময় লাগে এবং ফলনও বেশি। তাই কৃষকেরা ব্রি-ধান ৮৯ ও ৭৪ জাতের দিকে ঝুঁকে পড়েছে। তিনি আরো বলেন, গ্রামের অনেক কৃষকরা এসে তার জমির ধান ক্ষেত দেখছে ও তার কাছ থেকে পরামর্শ নিচ্ছে।তিনিও সবাইকে ব্রি-২৮,২৯ ধান চাষ না করে, বাজারে অনেক জাতের হাইব্রিড ধানের বীজ আছে।কৃষি অফিসের সাথে যোগাযোগ করে ভালো জাতের হাইব্রিড ধান চাষ করার জন্য কৃষকদের উদ্বুদ্ধ ও পরামর্শ দিচ্ছেন। তিনি বলেন দীর্ঘদিন থেকে কৃষকরা একই জাতের ব্রি-২৮ ও ২৯ চাষ করার ফলে রোগবালাইয়ের আক্রমণে পড়ছে এবং ফলন কম হচ্ছে। হাইব্রিড জাতের ভালো ধান চাষ করলে কম জমিতে রোগবালাই মুক্ত কম খরচে ও পরিশ্রমে বেশি ফলন পাওয়া যায়।

একই কথা বলেছেন কৃষক নকুল ইসলাম। তিনি হাইব্রিড জাতের ছক্কা ধান চাষ করে এক বিঘায় ২৫ মন ধান পেয়েছে বলে জানান।

গোয়াইনঘাট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ রায়হান পারভেজ রনি জানান, ব্রি-৮৯ ধান সহ কাছাকাছি কয়েকটি জাত সম্প্রসারণে কৃষকদের বিনামূল্যে বীজ ও সার দেওয়া হয়েছে। কয়েকটি নতুন জাতের প্রদর্শনী দেওয়া হয়েছে কৃষকদের। নতুন জাতগুলোতে ফলন বেশি বলে বর্ধিত জনসংখ্যার খাদ্য চাহিদা পূরণে সহায়ক। কৃষি কর্মকর্তা আরো বলেন এদিকে ফলন বেশি হওয়ায় কৃষকদের মধ্যে নতুন নতুন জাতের ধান চাষের আগ্রহ বেড়েছে। আমরাও উপজেলার কৃষকদের এরকম পরামর্শ দিচ্ছি।

শেয়ার করুন