২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৮
জৈন্তাপুর প্রতিনিধি : জৈন্তাপুর উপজেলায় ওয়াজ নিয়ে সুন্নী মতাদর্শী ও ওয়াহাবি মতাদর্শীদের মধ্যে সংঘর্ষের রেশ এখনো কাটেনি। পুরো এলাকাজুড়ে এখনো থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
এদিকে, এ ঘটনা খতিয়ে দেখতে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) শহিদুল ইসলাম চৌধুরীকে প্রধান করে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন- অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) সন্দীপ কুমার সিংহ ও জৈন্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মৌরিন করিম। কমিটিকে সাত কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
তদন্ত কমিটির প্রধান, অতরিক্তি জেলা প্রশাসক শহিদুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, আজ (মঙ্গলবার) থেকেই তদন্ত কমিটি কাজ শুরু করেছে। আজ সকালেই আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি।
মঙ্গলবার রাতে একটি ওয়াজ মাহফিলকে কেন্দ্র সুন্নী ও ওয়াহবি মতাদর্শীদের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে। এতে সুন্নি অনুসারী এক মাদ্রাসা ছাত্র নিহত হন। আহত হন অন্তত ৫০ জন। এ ঘটনায় জৈন্তাপুরের আমবাড়ি এলাকার অন্তত ৪০ বাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও ভাংচুর করা হয়। এ ঘটনায় এখনও এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন- হেমু পাখিটিখি গ্রামের আব্রু মিয়ার ছেলে আবুল কালাম (২৩), কানাইঘাট উপজেলার বড়বন্দ গ্রামের আব্দুর রহমানের ছেলে এনাম (১৮), জৈন্তাপুর উপজেলার উপরশ্যামপুর গ্রামের আব্দুল মান্নানের ছেলে মাছুম (২০), দরবস্ত গর্দনা গ্রামের মতসিন আলীর ছেলে রুহুল আমিন (২০), কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার কামাল বস্তি গ্রামের বদরুল আলমের ছেলে হোসেইন আহমদ (১৮), গোয়াইনঘাট উপজেলার তোয়াক্কুল গ্রামের মৃত শফিকুর রহমানের ছেলে আলীম উদ্দিন (২৪), সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার রাধানগর গ্রামের আব্দুল করিমের ছেলে আশরাফ আলী (১৮), জৈন্তাপুর উপজেলার সেনগ্রামের মুহিবুর রহমানের ছেলে দেলোয়ার (২২), গোয়াইনঘাট উপজেলার লহর গ্রামের আখলু মিয়ার ছেলে শিহাব উদ্দিন (২৩), কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার কামালবস্তি গ্রামের ডাক্তার শফিকুর রহমানের ছেলে নুরুজ্জামান (২২), গোয়াইনঘাট উপজেলার সিটিংবাড়ী গ্রামের আব্দুল কাদির (২৫), জৈন্তাপুর উপজেলার উপরশ্যামপুর গ্রামের আইয়ুব আলীর ছেলে ফরিদ আহমদ (২৫), সিলেট সদর জালালাবাদ পাটিনুরা গ্রামের রশিদ আলীর ছেলে মাসুক আহমদ (২২), কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার মৃত সিকন্দর আলীর ছেলে আব্দুল বাছিত (২৫), জৈন্তাপুর উপজেলার হরিপুর উৎলার পার গ্রামের আব্দুর রবের ছেলে মাসুক আহমদ (৪০), জৈন্তাপুর উপজেলার হেমু হাউদপাড়া গ্রামের ইমাম উদ্দিনের ছেলে বিলাল আহমদ (৩৪), কানাইঘাট উপজেলার কাজির পাতন গ্রামের মাহমুদ আলীর ছেলে আরিফ আহমদ (২১), জৈন্তাপুর উপজেলার খারুবিল গ্রামের মোঃ আব্দুল্লার ছেলে রেজওয়ান করিম (২০), জৈন্তাপুর উপজেলার দরবস্ত ভিতর গ্রামের আজির উদ্দিনের ছেলে দেলোয়ার হোসেন (২২), আইয়ুব আলীর ছেলে ফখরুল ইসলাম (২৩), দরবস্ত ডেমা গ্রামের মুনতাসির (২২), নুরুজ্জামানের ছেলে মোহাম্মদ আলী (২৫), জৈন্তাপুর উপজেলার খারুবিল গ্রামের ইস্রাক আলীর ছেলে মাওলানা আব্দুস সালাম (৫৫), গোয়াইনঘাট উপজেলার পাঁচপাড়া গ্রামের নুর উদ্দিনের ছেলে নিজাম উদ্দিন (২২), জৈন্তাপুর গ্রামের মাওলানা আজির উদ্দিন (৪০), দরবস্ত গর্দনা গ্রামের শামসুল হকের ছেলে আব্দুস সালাম (২০)।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মামলা দায়ের হয়নি, কাউকে আটকও করা হয়নি বলে জানান জৈন্তাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খান মো. মঈনুল জাকির। তিনি বলেন, মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। নিহতের জানাযা শেষে মাদ্রাসার পক্ষ থেকে মামলা করা হবে। তবে এলাকার পরিস্থিতি শান্ত আছে বলে জানান ওসি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়- সোমবার রাতে জৈন্তাপুর উপজেলার বাংলাবাজার আমবাড়ি এলাকায় ওয়াজ মাহফিলের আয়োজন করে সুন্নী মতাদর্শের লোকজন। ওয়াজ চলাকালে রাত ১১টার দিকে সুন্নীবিরোধি ওয়াহাবি মতাদর্শের লোকজন হামলা চালালে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। কিছুক্ষণের মধ্যেই এ সংঘর্ষ বৃহৎ আকার ধারণ। দু’পক্ষের হাজারো লোক ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। সংঘর্ষের জেরে ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয় এলাকার অন্তত ৪০টি বাড়িঘর। এতে হরিপুর মাদ্রাসা ছাত্র মোজাম্মেল হোসেন নিহত হন। আহত হয়েছেন প্রায় অর্ধশত। আহতদের সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
বর্তমানে এলাকার থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এলাকায় বিপুল পরিমাণ পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
(আজকের সিলেট/২৭ ফেব্রুয়ারি/ডি/এসটি/ঘ.)