২১ এপ্রিল ২০২৩


পর্যটকদের বরণ করতে প্রস্তুত গোয়াইনঘাট

শেয়ার করুন

সৈয়দ হেলাল আহমদ বাদশা, গোয়াইনঘাট থেকে : পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে ভ্রমণপিপাসুদের নজর কাড়তে জোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে গোয়াইনঘাটের পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে। সবুজ পাহাড়, নদী, চা-বাগান, স্বচ্ছ জল আর পাথরে ঘেরা সিলেটের পর্যটন কেন্দ্র গোয়াইনঘাট। প্রতি বছরই ঈদ মৌসুমে উপজেলার সবক’টি পর্যটন স্পটে লাখো পর্যটকের সমাগম ঘটে পর্যটন স্পটগুলোতে। অন্যান্য বারের মতো এবারও ঈদকে সামনে রেখে ভ্রমণপিপাসুদের নজর কাড়তে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে গোয়াইনঘাটের পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে।

এবার ঈদকে সামনে রেখে পর্যটন কেন্দ্রের আবাসিক হোটেল, মোটেল, রেস্টুরেন্ট ও দোকানগুলো সাজানো হয়েছে ভিন্ন ভিন্ন আমেজে।

পর্যটন কেন্দ্র জাফলং, বিছনাকান্দি, রাতারগুল, মায়াবী ঝর্ণাসহ সব কটি পর্যটনস্পটে নেওয়া হয়েছে বাড়তি নিরাপত্তা।

পাশাপাশি গোয়াইনঘাটের পর্যটন স্পটসমূহে বেড়াতে আসা পর্যটক দর্শনার্থীরা চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি, ইভটিজিং, অজ্ঞান পার্টি, ট্যুরিস্ট গাইড ও ক্যামেরাম্যানদের দ্বারা প্রতারিত না হতে পর্যটন পুলিশ এবং গোয়াইনঘাট থানা পুলিশের কয়েকটি ইউনিট নিরাপত্তা জোরদার করে রাখে। গোয়াইনঘাট উপজেলা প্রশাসন, ট্যুরিস্ট এবং থানা পুলিশের পক্ষ থেকে সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারকরণে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

জাফলং, বিছনাকান্দি, রাতারগুলের পর এবার পানতুমাইয়ে ফ্যাসিলিটিজ সুবিধা বৃদ্ধি করা হয়েছে।

বিভিন্ন হোটেল-মোটেল ও রিসোর্টের ব্যবস্থাপকেরা জানান, অতিথিদের স্বাগত জানাতে হোটেল-মোটেলে সব ধরনের আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে। যদি প্রাকৃতিক দূর্যোগ না আসে তাহলে ব্যাপক পর্যটক আসবেন বলে ধারণা করছেন তাঁরা। ঈদে পর্যটকদের সেবাই থাকবে তাঁদের মূল লক্ষ্য।

এদিকে, গত বছরের ভয়াবহ বন্যায় স্পট বন্ধ থাকায় ব্যবসায়ীদের যে ক্ষতি হয়েছে তা এবারের ঈদে পুষিয়ে ওঠার সম্ভাবনা দেখছেন ব্যবসায়ীরা। পর্যটন ব্যবসায়ীরা জানান, গেল বছর বন্যার কারণে ব্যবসা তেমন হয়নি। তার আগে দুই বছরও করোনার কারণে পর্যটন শিল্প স্থবির হয়ে পড়ে। আশা আছে এ বছর কোন বাধা না থাকায় পর্যটকের সমাগম বৃদ্ধি পেলে সকল ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা যাবে।

পর্যটন ব্যবসায়ী শাহআলম আহমেদ বলেন, ঈদে বিপুল সংখ্যক পর্যটক আসার সম্ভাবনা রয়েছে। গেল বছর বন্যার কারণে ব্যবসা তেমন হয়নি। এ বছর সেই আলোকে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে প্রস্তুতী রয়েছে।

জাফলং গ্রীণ রিসোর্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বাবলু বখ্ত জানান, এবারের ঈদকে সামনে রেখে আমাদের রিসোর্টে সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে। পর্যটকেরা যাতে এখানে এসে কম খরচে নিরাপদে থাকতে পারেন সেদিকে লক্ষ্য রয়েছে।

জাফলং টুরিস্ট পুলিশের ইনচার্জ মো. রতন শেখ জানান, এবারের ঈদে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত পর্যটকদের সেবার মান বৃদ্ধি করতে টুরিস্ট পুলিশ কাজ করবে। পর্যটকদের সেবা দিতে পর্যটন স্পটে সার্বক্ষণিক টুরিস্ট পুলিশ নিয়োজিত থাকবে।

গোয়াইনঘাটের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তাহমিলুর রহমান জানান, বর্তমানে প্রচণ্ড তাপদাহ চলছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্র মতে ঈদের সময় প্রচণ্ড বৃষ্টিপাত হতে পারে। সেই লক্ষ্যে গোয়াইনঘাটের পর্যটন স্পটসমূহে পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তা বিধানে এবং তাদের ভ্রমণ নির্বিঘ্নকরণে উপজেলা প্রশাসন পদক্ষেপ নিয়েছে। বৃষ্টিপাত ও বর্ষণমুখর পরিবেশে আমাদের গোয়াইনঘাটের পর্যটন স্পটগুলো আপন রূপ মেলে ধরে। প্রকৃতির রূপ লাবণ্যতায় মুখরিত হয়ে উঠে প্রতিটি পর্যটন স্পট। জাফলং, বিছনাকান্দি, রাতারগুলের পর এবার পর্যটন ফ্যাসিলিটিজ বাড়ানো হয়েছে পান্তুমাইয়ে।

শেয়ার করুন