২২ এপ্রিল ২০২৩
নিজস্ব প্রতিবেদক : ব্যাপক উৎসাহ ,উদ্দীপনা ও আনন্দঘন কোলাহলের মধ্যদিয়ে শনিবার সারাদেশে উদযাপিত হয়েছে মুসলিম উম্মাহর সর্ববৃহৎ উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর। এর আগে ২৯ রমজান শেষে শুক্রবার সন্ধ্যায় জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি বাংলাদেশের আকাশে চান্দ্রবছরের শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখার বিষয়টি নিশ্চিত করে।
সারাদেশের ন্যায় সিলেটেও ব্যাপক উৎসাহ ও আনন্দ-উদ্দীপনার মধ্যদিয়ে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হয়েছে।
ঈদ উদযাপনের প্রধান আনুষ্ঠানিকতা সিলেটে ঈদের প্রধান জামায়াত সকাল সাড়ে ৮টায় ঐতিহাসিক শাহী ঈদগাহ ময়দানে অনুষ্ঠিত হয়েছে। নামাজের জামাতে ইমামতি করেন নগরের বন্দরবাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব মাওলানা আবু হুরায়রা। এর আগে বয়ান পেশ করেন নাইওরপুল জামে মসজিদের খতিব মাওলানা নাজিম উদ্দীন।
শাহী ঈদগাহে ঈদের জামাতে শরিক হয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন, সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, সংসদ সদস্য, জনপ্রতিনিধি ও কেন্দ্রীয় এবং স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাসহ লাখো মুসল্লি।
সিলেটে দ্বিতীয় সর্ববৃহৎ ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয় হজরত শাহজালাল (র.) মাজার মসজিদে সকাল সাড়ে ৮টায়। এখানে ঈদের জামাতে ইমামতি করেন দরগাহ মসজিদের ইমাম ও খতিব হাফেজ মাওলানা আসজাদ হোসেন।
নগরীর বন্দরবাজারস্থ কুদরত উল্লাহ জামে মসজিদে পবিত্র ঈদুল ফিতরের তিনটি জামায়াত অনুষ্ঠিত হয়।প্রথম জামায়াত সকাল সাড়ে ৭টায়, দ্বিতীয় জামায়াত সকাল সাড়ে ৮টায় এবং তৃতীয় জামায়াত সকাল সাড়ে ৯ টায়।
এদিকে আঞ্জুমানে খেদমতে কোরআন সিলেটের উদ্যোগে পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সিলেট সরকারি আলিয়া মাদরাসা মাঠে ঈদের জামাত সকাল ৮টায় অনুষ্ঠিত হয়। আলাদা ব্যবস্থা থাকায় মহিলারাও ঈদের জামাতে অংশ গ্রহণ করেন।
ঈদ উৎসব নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল রাখতে বাড়তি সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ নেয় সিলেট মহানগর পুলিশ (এসএমপি)। এর আগে বৃহস্পতিবার (২০ এপ্রিল) বিকেলে শাহী ঈদগাহ ময়দানে সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও নামাজের প্রস্তুতি ঘুরে দেখেন এসএমপি কমিশনার মো. ইলিয়াছ শরীফ।
এসএমপি ও জেলা পুলিশের তথ্য মতে, ঈদুল আজহায় সিলেট মহানগর ও জেলার ছোট-বড় ৩ হাজার ২৬৯ ঈদগাহ ও মসজিদে ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এরমধ্যে ৪৫৫ ঈদগাহ ও ২ হাজার ৮৪১ মসজিদে ঈদের নামাজ আদায় করেন মুসল্লিরা। সিলেট জেলা ও মহানগর পুলিশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
ঈদের জামাতে যাওয়ার আগেই গরীব-মিসকীনদের মধ্যে ফিতরাহ বণ্ঠন পর্ব শেষ করেন রোযাদার ও তাদের পরিবার পরিজন। ঈদের জামাত শেষে আনন্দে মেতে ওঠেন সমাজের আবাল বৃদ্ধ বণিতা সবাই। তারা একে অন্যের সাথে আলিঙ্গন কোলাকুলি সহ ঈদশুভেচ্ছা বিনিময় করতে থাকেন। একে অন্যেরে ঘরে আসা-যাওয়া সালাম বিনিময় এবং একে অন্যকেমিষ্টিমুখ করতে ও করাতে থাকেন। এর আগে থেকেই ঈদশুভেচ্ছা বিনিময়ে ডিজিটাল ও সোস্যাল মিডিয়া সরগরম হয়ে ওঠে।
ঈদ ও শবেকদর উপলক্ষে গত বুধবার থেকে টানা ৫ দিন সরকারি ছুটি। এ উপলক্ষ্যে কারাগার হাসপাতাল ও শিশু সদনগুলোতে বিশেষ ও উন্টনতমানের খাবার পরিবশেন করা হয়েছে।
এতিমখানা ও শিশু সদনগুলোতে সরকারী ও বেসরকারী উদ্যোগে জামা-কাপড় সহ ঈদ উপহার সামগ্রী বিতরণ করা হয়।