৭ এপ্রিল ২০২৩
শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি : মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল পৌরসভার চালের মার্কেট জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। প্রতিনিয়ত খসে পড়ছে ছাদের প্লাস্টার। ভেঙে পড়ছে সিঁড়ির রেলিং। পৌর কর্তৃপক্ষ মার্কেটটি ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য একাধিকবার স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব বরাবর পত্র দিয়েছে। কিন্তু এখনও এটি সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে যেকোনো সময় ধসে পড়ে প্রাণহানি ঘটার শঙ্কায় রয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত শ্রীমঙ্গল উপজেলা সদরের বাজারটি সিলেট বিভাগের মধ্যে বড় বাজারগুলোর মধ্যে একটি। ১৯৮৯-৯০ সালের দিকে চাল বাজারের শেড নির্মাণ করা হয়েছিল। প্রায় সাড়ে তিন দশকের পুরনো এই শেড বর্তমানে জরাজীর্ণ অবস্থায় আছে। যেকোনো সময় ধসে পড়তে পারে। এতে ব্যাপক ক্ষতি হতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন পৌর কর্তৃপক্ষ, ক্রেতা এবং ব্যবসায়ীরা।
সরেজমিনে শ্রীমঙ্গল শহরের চাল বাজারে গিয়ে দেখা যায়, বাজারের চাল মার্কেটের অংশের সিঁড়ির রেলিং ভেঙে পড়েছে। ছাদের প্লাস্টার খসে পড়ছে ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের মাথার ওপর।
বাজারের চাল ব্যবসায়ী বাবুল দেবনাথ বলেন, ‘বাজারটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। প্রায়ই ছাদের প্লাস্টার ও ছাদের কার্নিশ খসে পড়ে ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটছে। আমরা জীবন ও জীবিকার তাগিদে ঝুঁকি নিয়ে দোকান খুলে বসে থাকি। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।’
শ্রীমঙ্গল পৌরসভার চালের মার্কেট
একই বাজারের ব্যবসায়ী মো. সুফিয়ান মিয়া বলেন, ‘বাজারের শেডে শতাধিক ব্যবসায়ী রয়েছেন। প্রতিদিন গড়ে তিন সহস্রাধিক মানুষ এখানে কেনাকাটা করতে আসেন। ক্রেতা-বিক্রেতা সবাই সবসময় আতঙ্কে থাকেন।’
বাজারের ব্যবসায়ী মিলন মিয়া বলেন, ‘এখন ঝড়-বৃষ্টির মৌসুম। গত দুই-তিন বছর ধরে ঝড়-বৃষ্টি হলে আমরা ভয়ে দৌড়ে পার্শ্ববর্তী নতুন বাজার জামে মসজিদের বারান্দায় বা আড়তগুলোতে আশ্রয় নিই। এবারও তাই করতে হবে। এখানে আমাদের জীবনের কোনও নিরাপত্তা নেই।’
শ্রীমঙ্গল পৌরসভার মেয়র মো. মহসিন মিয়া মধু বলেন, ‘বাজারের শেড ভাঙার জন্য স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের অনুমোদন লাগে। মার্কেটটি খুবই ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকার কারণে যেকোনো সময় ধসে পড়ে জানমালের ব্যাপক ক্ষতি হতে পারে। বিষয়টি উল্লেখ করে আমরা ২০১৮ সালের ১২ মার্চ, ২০১৯ সালের ১৯ আগস্ট মন্ত্রণালয়ে পত্র দিয়েছি। কিন্তু দুইবার পত্র দেওয়া হলেও কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এ অবস্থায় গত সোমবার পুনরায় মন্ত্রণালয়ে পত্র দিয়েছি। বারবার পত্র দিয়েও মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন না পাওয়ায় বাজারের ঝুঁকিপূর্ণ বাজারের শেড ভেঙে নতুন শেড তৈরি করতে পারছি না। অনুমোদন পেলে দ্রুত জরাজীর্ণ শেড ভেঙে নতুন শেড করা হবে।’