৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৮


সিলেটে প্রকাশ্যে অস্ত্র হাতে ছাত্রলীগ

শেয়ার করুন

ডেস্ক রিপোর্ট : এমসি কলেজসহ বিভিন্ন ক্যাম্পাসে নিজেদের মধ্যে আধিপত্য নিয়ে সংঘর্ষে প্রায়শ অস্ত্রের মহড়া দিলেও এবার রাজপথে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহার করেছে ছাত্রলীগ ক্যাডাররা। পুলিশের উপস্থিতিতেই প্রকাশ্যে অস্ত্র বের করে প্রতিপক্ষকে গুলি করার ঘটনায় তোলপাড়ও চলছে সিলেটে। পুলিশ বলছে, এ ঘটনায় যারা অস্ত্র ব্যবহার করেছিল তাদের খুঁজছে তারা।

বৃহস্পতিবার বিকেলে নগরীর বন্দর বাজার এলাকায় বিএনপি-ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সাথে ধাওয়া ধাওয়ীর সময় আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগের পক্ষের চারজনকে প্রকাশ্যে অস্ত্রের ব্যবহার করতে দেখা গেছে। অস্ত্রধারীদের মধ্যে জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সিনিয়র সহসভাপতি পিযুষ কান্তি দে’ও ছিলেন। এর আগেও একাধিক বার প্রকাশ্য অস্ত্র নিয়ে নগরীতে মহড়া দিয়ে আলোচিত হয়েছিলেন তিনি।

বেলা আড়াইটা থেকে তিনটা পর্যন্ত পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ধাওয়ীর পর বিএনপি-ছাত্রদল নেতাকর্মী সেখান থেকে সটকে পড়েন। পরে পুরো বন্দর বাজার এলাকার দখল নেয় আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। সংঘর্ষে ২ জন গুলিবিদ্ধসহ অন্তত ১০ জন আহত হন বলে বিএনপি দাবি করেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য মতে, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে রায় ঘোষণার পরপরই সিলেট আদালত এলাকায় অবস্থান নেওয়া বিএনপি-ছাত্রদল নেতাকর্মীরা মিছিল বের করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।

ওই সময় জেলা পরিষদ কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেওয়া সশস্ত্র আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগ নেতাকর্মী মিছিল নিয়ে বের হলে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় ককটেল ও গুলির শব্দও পাওয়া যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ সদস্যরা গুলি, টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। সংঘর্ষে বিএনপি-আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলেও জানায় পুলিশ।

সংঘর্ষ চলাকালে হলুদ শার্ট পরিহিত এক ব্যক্তিকে এক নলা বন্দুক নিয়ে প্রকাশ্য গুলি ছুঁড়তে দেখা গেছে। এসময় দুজন পুলিশ সদস্য তার পাশেই অবস্থান করছিলেন। একই ভাবে আদালতের প্রধান ফটকের পাশে জ্যাকেট এবং হ্যালমেট পরিহিত আরেক যুবককে পিস্তল হাতে নিয়ে ‍কোর্ট অভ্যন্তরের দিকে গুলি ছুঁড়তে দেখা যায়। এছাড়া পিযুষকে অস্ত্র হাতে নিয়ে দৌড়াতে দেখা গেছে।

সিলেট কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গৌসুল হোসেন বলেন, আমরা অস্ত্রধারী ব্যক্তিদের খোঁজ নিচ্ছি। তবে এখনো তাদের সনাক্ত করা যায়নি।

একটি সূত্র জানিয়েছে- অস্ত্রধারী হলুদ শার্ট পরিহিত ওই যুবকের নাম মুনিম আহমদ। তার হাতে একটি একনলা বন্দুক দেখা গেছে।  এই অস্ত্রটি তার নিজের নামে লাইসেন্স করা। ছাত্রদলকর্মীদের সাথে ছাত্রলীগের সংঘর্ষ চলাকালে তিনি এই অস্ত্র নিয়ে আসেন। তবে, পিস্তল নিয়ে গুলি বর্ষণকারী অন্য জনের পরিচয় জানা যায়নি।

প্রসঙ্গত, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ৫ বছর ও দলটির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ অপর পাঁচ আসামির ১০ বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। দুপুরে ঢাকার বকশীবাজার কারা অধিদপ্তরের প্যারেড গ্রাউন্ডে স্থাপিত বিশেষ আদালতে বিশেষ জজ ৫ এর বিচারক ড. মো. আখতারুজ্জামান এ রায় দেন।

শেয়ার করুন