৮ মার্চ ২০২৩
ডেস্ক রিপোর্ট : দক্ষিণ সুরামায় উত্তরাধিকারভাবে প্রাপ্ত জায়গা-জমির ভাগ-বাটোয়ারা করার তাগিদ দেয়ায় প্রবাসফেরত ভাইসাজ্জাদ আলীকে (৩৫) হত্যা করে লাশ বস্তায় ভরে সুরমা নদীর তীরে ফেলে দেয় ছোট ভাই জাহাঙ্গীর আলী (২৭)। হত্যাকাণ্ডের পক্ষকাল পর এ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন ঘরে পুলিশ। নিহতের ছোট ভাই জাহাঙ্গীর আলী আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে।
সিলেট মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) সুহেল রেজা পিপিএম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ভাইকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার অভিযোগ এনে দক্ষিণ সুরমা থানায় মামলা দায়ের করেন জাহাঙ্গীর আলী। মামলা দায়েরের পর পুলিশের তদন্তে সাজ্জাদ আলী হত্যার নেপথ্যে জাহাঙ্গীর আলীর জড়িত থাকার তথ্য পায় পুলিশ। ভাই হত্যার দায় স্বীকার করে মঙ্গলবার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন তিনি। প্রবাসফেরত সাজ্জাদ আলী হত্যার ঘটনায় পুলিশ ইতোমধ্যে ৩ জনকে গ্রেফতার করেছে।
তিনি আরও জানান, এই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত নিহত সাজ্জাদ আলীর ভাই জাহাঙ্গীর আলী ও সিরাজ আলী। মূলত নিহত সাজ্জাদ আলী উত্তরাধিকারভাবে প্রাপ্ত জায়গা-জমির ভাগ-বাটোয়ারা করার তাগিদ দেয়ায় তাদের মধ্যে মনোমালিন্যের সৃষ্টি হয়। এর জেরেই হত্যা করা হয় তাকে। ঘটনা আড়াল করার জন্য জাহাঙ্গীর আলী নিজেই বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেন। হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন মামলার বাদী জাহাঙ্গীর আলী।
এ হত্যাকাণ্ডে গ্রেফতারকৃতরা হলেন- লক্ষীপুর সদর থানার রাজাপুর গ্রামের মৃত ছিদ্দেক আলীর ছেলে শাহজাহান (৩৯), জালালাবাদ থানাধীন বস্তন্তরগাঁও এলাকার মৃত ছোরাব আলীর ছেলে সিরাজ আলী (৪২) ও জাহাঙ্গীর আলী (২৭)।
পুলিশ জানায়, ২০ ফেব্রুয়ারি সকালে দক্ষিণ সুরমায় বরইকান্দির টেকনিক্যাল রোডের একটি অটো রাইস মিলের সামনের নদীর তীর থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় প্রবাসফেরত সাজ্জাদ আলীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নদী থেকে লাশ উদ্ধারের খবর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানতে পেরে নিখোঁজ ভাইয়ের সন্ধানে থানা ও ওসমানী মেডিকেলে যান জাহাঙ্গীর আলী। তিনি লাশ শনাক্তের পাশাপাশি থানায় অজ্ঞাতদের আসামি করে ২২ ফেব্রুয়ারি হত্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্তের এক পর্যায়ে সন্দেহভাজন হিসেবে লক্ষীপুর সদর থানার রাজাপুর গ্রামের মৃত ছিদ্দেক আলীর ছেলে শাহজাহানকে জিজ্ঞাসাবাদ করেও কোনো তথ্য পায়নি পুলিশ।
তখন পুলিশের তদন্ত অন্যদিকে মোড় নেয়া শুরু করে। পুলিশ তদেন্ত নেমে নিহত সাজ্জাদ আলীর বসতঘরে গিয়ে তার কোনো কাপড় পায়নি। পরবর্তীতে বাসার ছাদের উপরে কাপড় শুকানোর রশির কিছু অংশ সংগ্রহ করে নিহত সাজ্জাদ আলীর হাত-পা বাঁধার রশির সাথে মিল পায় পুলিশ। এরপর পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হত্যা মামলার বাদী জাহাঙ্গীর আলীকে থানায় নিয়ে যায়। এসময় তিনি পুলিশকে প্রাথমিকভাবে নিহত সাজ্জাদ আলীকে হত্যার কথা জানালে তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দা জালালাবাদ থানাধীন বস্তন্তরগাঁও এলাকার কবরস্থান থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। সেই সাথে রশিও উদ্ধার করা হয়।