২ মার্চ ২০২৩


গ্রিসে ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহত বেড়ে ৪৩

শেয়ার করুন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইউরোপের দেশ গ্রিসে গত কয়েক যুগের মধ্যে দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় দুর্ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার গ্রিসের লারিসার মধ্যবর্তীস্থানে একটি মালবাহী ট্রেনের সঙ্গে যাত্রীবাহী ট্রেনের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। ওই সময় ট্রেনটিতে ৩৫০ জনের মতো যাত্রী ছিলেন।

দুর্ঘটনাস্থল থেকে প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, একটি টানেলের ঠিক সামনেই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৪৩ জন মানুষ নিহত হয়েছেন।

ভয়াবহ এ দুর্ঘটনার উদ্ধারকাজ সম্পর্কে খোঁজ-খবর নিতে বুধবার (১ ফেব্রুয়ারি) ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান গ্রিক প্রধানমন্ত্রী কায়রাকোস মিতসোতাকিস। সেখানে তিনি বলেছেন, ‘মানুষের ভুলের’ কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে।

তবে, ঘটনার দায় নিয়ে পদত্যাগ করেছেন পরিবহনমন্ত্রী কোস্টাস কারামানলিস।

বুধবার দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পরই পদত্যাগের ঘোষণা দেন তিনি। বলেন, “এমন মর্মান্তিক ঘটনা যখন ঘটে, তখন তেমন কিছু না ঘটার ভান করে কাজ চালিয়ে যাওয়া অসম্ভব।

“আমি গ্রিক রাষ্ট্রের ব্যর্থতার দায় নিচ্ছি। এক বলে রাজনৈতিক দায়িত্বশীলতা। আর সে কারণেই আমি অবকাঠামো ও পরিবহনমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিচ্ছি।”

ট্রেন দুর্ঘটনার পর স্থানীয় স্টেশন মাস্টারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এছাড়া পদত্যাগ করেছেন গ্রিসের পরিবহনমন্ত্রী। এখনো ট্রেনের ধ্বংসস্তূপের নিচে আহত ও নিহতদের খোঁজ করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী ভয়াবহ এ সংঘর্ষের জন্য মানুষের ভুলকে দায়ী করলেও, এখন পর্যন্ত জানা যায়নি কিভাবে দু’টি দ্রুতগামী ট্রেন একই লাইনে চলে আসল।

সিগন্যালের দায়িত্বে থাকা ওই এলাকার স্টেশন মাস্টার দাবি করেছেন, তিনি কোনো ধরনের ভুল করেননি। তিনি উল্টো বলেছেন, কারিগরি অথবা প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে এমনটি হয়ে থাকতে পারে।

তবে প্রধানমন্ত্রী কায়রাকোস মিতসোতাকিস বলেছেন, ‘সবকিছু ইঙ্গিত দিচ্ছে এটি হয়েছে মানুষের ভুলের কারণে। বিচার তার কাজ করবে। দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে, রাষ্ট্র ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে থাকবে।’

গ্রিসের ট্রেড ইউনিয়ন জানিয়েছে, নানান কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। তবে দুই ট্রেনের মুখোমুখি সংঘর্ষ রেলের চরম অবস্থা তুলে ধরেছে। যার মধ্যে রয়েছে অপর্যাপ্ত কর্মী, ভাঙা সিগন্যাল এবং সেকেলে ব্যবস্থা।

মঙ্গলবার রাতে লারিসা শহরের বাইরে ট্রেন দুটির সংঘর্ষ হয়। যাত্রীবাহী ট্রেনটি এথেন্স থেকে যাচ্ছিল উত্তরের থেসালোনিকি শহরে; আর কার্গো ট্রেনটি উল্টো পথে থেসালোনিকি থেকে যাচ্ছিল লারিসা। সংঘর্ষের কারণ নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

লারিসা শহরের স্টেশন মাস্টারকে গ্রেপ্তার করে তার বিরুদ্ধে দায়িত্বে গাফিলতির কারণে নরহত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে।

৫৯ বছর বয়সী ওই ব্যক্তি ট্রেনের সিগন্যাল দেওয়ার দায়িত্বে ছিলেন। তিনি ভুল কিছু করার কথা অস্বীকার করেছেন এবং দুর্ঘটনার জন্য প্রযুক্তিগত ত্রুটিকে সম্ভাব্য কারণ হিসাবে উল্লেখ করেছেন।

বিবিসি জানায়, লারিসার কাছে সংঘর্ষ হওয়ার সময় ট্রেন দুটি কেন একই লাইনে ছিল সেই কারণ খুঁজে বের করার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা।

গ্রেপ্তার হওয়া স্থানীয় স্টেশন মাস্টার এবং রেলওয়ে কর্মকর্তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন গ্রিসের এক সাংবাদিক।

‘সবাই মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনার কারণ খুঁজছে’ এবং রেল নিরাপত্তার সার্বিক দায় এর ‘হর্তাকর্তাদের’ ওপরই বর্তায় বলে জানিয়েছেন তিনি।

গ্রিসের প্রেসিডেন্ট এই দুর্ঘটনাকে ‘অকল্পনীয় এক মর্মান্তিক ঘটনা’ বলে বর্ণনা করেছে। নিহতদের স্মরণে তিনদিনের জাতীয় শোক ঘোষণা করেছেন তিনি। শোকের এই সময়ে সব সরকারি ভবনে পতাকা অর্ধনমিত থাকবে এবং কোনও অনুষ্ঠানও করা হবে না।

শেয়ার করুন