৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৩


পথশিশুদের মধ্যে ভয়ংকর রুপে বাড়ছে মাদকাসক্তি

শেয়ার করুন

মোঃ ফারুক মিয়া : সিলেট নগরীতে ছিন্নমূল পথশিশুরা মরণনেশা ড্যান্ডিতে আসক্ত হচ্ছে । যে বয়সে বই-খাতা হাতে নিয়ে পাঠশালায় যাওয়ার কথা সেই বয়সে শিশুরা আসক্ত হচ্ছে নেশাতে। সেই সাথে নেশায় আসক্ত হওয়ার ফলে অকালেই ঝরে পড়ছে শিক্ষার আলো থেকে। সমাজের সুবিধা বঞ্চিতরা এদেরকে দেখছে ভিন্ন চোখে। শৈশবের থেকেই অন্ধকারের চোরাবালিতে হারিয়ে যাচ্ছে সিলেটের অনেক শিশুরা। সিলেট নগরীর অনেক জায়গায় দেখা গেছে নেশায় আসক্ত অধিকাংশ শিশুদের বয়স ৭ থেকে ১২ বছর। শিশু আইনে এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া কঠিন বিধায় জনসচেতনা বাড়ানোর তাগিদ দিচ্ছেন পুলিশ কর্মকর্তারা।

সিলেটের অনেক স্থানে প্রায়ই দলবেঁধে এরা নেশা করে। যেমন সিলেট নগরের ক্বীন ব্রিজ রেলস্টেশন, কাজির বাজার ব্রীজ, তালতলা, জিন্দাবাজার, কৌর্ট পয়েন্টের ওভার ব্রীজ ও চৌহাট্রা এলাকায় দেখা মেলে এসব পথশিশুদের। এসব শিশুদের অনেকের নেই মা বাবা। এসব শিশুরা কখনো আবর্জনার স্তূপ থেকে প্লাষ্টিক, কাঁচের বোতল, লোহা, ফেলে দেওয়া বিভিন্ন জিনিস কুড়িয়ে বেড়ায়। নেশার কবলে পড়ে এসব শিশুরা জড়িয়ে পড়ছে সমাজের বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকান্ডে। মাদক পাচারের ক্ষেত্রেও অনেক সময় এসব শিশুদের ব্যবহার করছে ।

ইদানিং দেখা গেছে চুরি-ছিনতাইয়ের মত অপরাধেও জড়িয়ে পড়ছে পথ শিশুরা যার ফলে দিন দিন বাড়চ্ছে অপরাধ প্রবণতা। সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসলেই নগরের বিভিন্ন স্থানে বসে বসে সেবন করছে ড্যান্ডি নামক এই নেশাদ্রব্য যা সাধারণত জুতা কিংবা ফোমে ব্যবহৃত সলিউশন (আঠা) পলিথিনে ভরে নেশা করেন এসব শিশুরা। মাদক সেবনের টাকার জন্য মারামারি করে খুনোখুনির ঘটনা ঘটছে হরহামেসা।

পথ শিশুদের সাথে কথা বলে জানা যায়, এটি খেলে নাকি তাদের মনে দুঃখ থাকে না ক্ষুধাও লাগে না। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এসব নেশা দ্রব্য ৪০ থেকে ৬০ টাকায় কিনে এনে নেশা করে। সিলেট ক্বীন ব্রীজের নিচে এক পথশিশুর সাথে কথা বলে জানা যায় তার পরিবারের ঠিকানা সে জানে না। সারা বিভিন্ন ময়লা আবর্জনা থেকে কাগজ ও প্লাস্টিক কুড়িয়ে ভাঙারির দোকানে বিক্রি করে কিছু টাকা পায় । আর সেই টাকা দিয়ে নেশা জাতীয় দ্রব্য সেবন করে।

সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (গণমাধ্যম) সুদীপ দাস বলেন, সিলেটের পথশিশুদের মাধ্যমে যারা মাদকদ্রব্য ছড়িয়ে দিচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে আর পুলিশের প্রতিটি সদস্য কাজ করছে মাক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণে ।

শিশু অধিকার আইনে এদের শাস্তির তেমন কোনো ব্যবস্থা না থাকায় সহজেই এরা বিপথগামী হচ্ছে। তবে সমাজের সুশীল সমাজ, বিভিন্ন এনজিও, সমাজ সেবা অধিদপ্তর এসব পথ শিশুদের দায়িত্ব নেয় আর সাংবাদিক মহলের সকলে মিলে ঐক্যবদ্ধ ভাবে সচেতনতা সৃষ্টি করে সকলের প্রচেষ্টায় তাদেরকে ভালো পথে ফিরিয়ে আনা সম্ভব।

যদিও পুলিশের পক্ষ থেকে মাদক দ্রব্যের বিরুদ্ধে বিশেষ নজর দারি রয়েছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, ৮ থেকে ১০ বছর বয়সের শিশুরা সাধারণত গাঁজা, সিগারেট ও গাম সেবন করে। তবে অধিকাংশ পথশিশু ড্যান্ডি নেশায় আসক্ত।

সুশীল সমাজের কয়েকজনের সাথে কথা বলে জানা যায়, পথশিশুরা আমাদের সন্তানদের মত, তাদেরকে ভালো পথে আনার জন্য আমাদের সমাজের দৃষ্টি ভঙ্গি পাল্টাতে হবে বিভিন্ন সমাজ সেবা মূলক এনজিও, সামাজিক সংগঠন, সচেতন মহল এগিয়ে আসতে হবে। আর প্রশাসনকে অবশ্যই দৃষ্টি রাখতে হবে কারা এসব শিশুদের হাতে মাদক তোলে দিচ্ছে। সমাজ বিজ্ঞানীদের মতে এখনই এদের সুপথে ফিরিয়ে না আনলে বাড়বে অপরাধ। ক্ষতিগ্রস্ত হবে সমাজ ও দেশ।

শেয়ার করুন