৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৩
মেলায় পাপড়ি ও শব্দকথা প্রকাশনীর স্টলে পাঠকদের ভিড়। ছবি: আজকের সিলেট
শাহিদ হাতিমী : সিলেট চলছে বইমেলা। মেলার প্রথম দিন থেকেই মেলায় বইপ্রেমিদের আমেজ উৎসাহ লক্ষ্য করা গেছে। প্রথম আলো বন্ধুসভা সিলেটের উদ্যোগে ও সিলেট সিটি করপোরেশনের সহযোগিতায় অষ্টমবারের মতো এ বইমেলা আয়োজন করা হয়েছে। গতকাল রোববার বিকেলে সিলেট নগরের চৌহাট্টাস্থ কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার চত্বরে বইমেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বইপ্রেমি বা পাঠকরা স্টল ঘুরে ঘুরে পছন্দের বই কিনেছেন। জটলা বেঁধে লেখকরা জমিয়েছেন আড্ডা। জটলা, ভিড় আর সাংস্কৃতিক আয়োজনে মুখর বইমেলার স্পট সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বর।
জানা যায়, প্রথম দিন মেলার উদ্বোধন করেন সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। প্রধান আলোচকের বক্তব্য দেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কবি শামীম রেজা। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সঞ্চালন করেন প্রথম আলো সিলেটের নিজস্ব প্রতিবেদক সুমনকুমার দাশ।
উদ্বোধকের বক্তৃতায় মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, পাঠাভ্যাস বাড়াতে প্রথম আলো বন্ধুসভার আয়োজিত বইমেলা গত আট বছর ধরে সিলেটে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। আগামীতে আরও বড় পরিসরে নগরের সুরমা নদীর পাড়ে এ বইমেলা আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। অন্যদিকে প্রধান আলোচকের বক্তৃতায় শামীম রেজা পাঠক তৈরি করতে সিলেট নগরের পাড়া-মহল্লায় বইমেলা আয়োজনের বিষয়ে উদ্যোগী হওয়ার জন্য সিটি কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানান।উদ্বোধনী পর্বের পর বিশিষ্ট কবি ও গবেষক মোস্তাক আহমাদ দীনকে ‘সাহিত্য সম্মাননা পদক ২০২৩’ প্রদান করা হয়। এ সময় পুরস্কৃত লেখকের হাতে সম্মাননা-স্মারক ও নগদ ১০ হাজার টাকা তুলে দেন অতিথিরা।

মেলায় ঢাকা ও সিলেটের ২০টি প্রকাশনা সংস্থা অংশ নিয়েছে। অংশগ্রহণকারী প্রকাশনা সংস্থাগুলো হচ্ছে প্রথমা, কথা প্রকাশ, অন্বেষা প্রকাশন, উৎস প্রকাশন, অ্যাডর্ন পাবলিকেশন, বাবুই, নাগরী, বাসিয়া প্রকাশনী, ঘাস প্রকাশন, পাণ্ডুলিপি প্রকাশন, পাপড়ি, অভ্র প্রকাশন, বুনন প্রকাশন, মাছরাঙা প্রকাশন, জসিম বুক হাউস, স্বপ্ন ’৭১, নগর, নোভা বুকস অ্যান্ড পাবলিশার্স, গাঙুড় প্রকাশন এবং শব্দকথা প্রকাশন।আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মেলা চলবে। প্রতিদিন বেলা দুইটা থেকে রাত নয়টা পর্যন্ত মেলা বইপ্রেমীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন, লেখক আড্ডাসহ নানা কর্মসূচি মেলায় রয়েছে।
মেলাস্থলে আজকের সিলেট ডটকমের এ প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা হয় বন্ধুসভার সাবেক সেক্রেটারি শাকেরের সাথে। তিনি বলেন, প্রথমদিকে আমরা খুব সাড়া না পেলেও এখন ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। আমাদের কোনো ব্যবসায়িক টার্গেট নেই, আমরা চাই বইমেলার মাধ্যমে পাঠক তৈরি করা।
মেলায় আলাপ হয় সিলেটের বিশিষ্ট সাংবাদিক- কলামিস্ট আফতাব চৌধুরীর সাথে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, না, যেভাবে আশা করছিলাম তারচে উপস্থিতি সংখ্যা কম। এটা বাড়াতে হবে। আমি বইমেলাকে জ্ঞানের মেলা হিসেবে অভিহিত করি। সিলেটের সর্বস্তরের লেখক-পাঠকদেরে বইমেলায় আসা উচিত।
এ প্রসঙ্গে প্রথম আলো আয়োজিত বইমেলায় স্টলদাতা পাপড়ি প্রলাশনীর সত্ত্বাধিকারী কামরুল আলম আজকের সিলেট ডটকমকে জানান, সন্ধ্যা হলে মেলায় ভিড় জমে। প্রথম দিনের মতো আজকেও বিকিকিনি ভালো হচ্ছে। তবে মাত্র ১০দিনে একটি বইমেলা শেষ হয়ে যাবে এটা বেমানান। আমরা প্রত্যাশা করি আগামিতে অন্তত মাসব্যাপী বইমেলার আয়োজন করা হবে।
শব্দকথা প্রকাশনী স্টলের মডারেটর মো. ফারুক জানান, বইমেলায় উৎসবের আমেজ লক্ষণীয়। তবে দিনের বেলা বইপ্রেমি ক্রেতা বা পাঠকদের কম দেখা যায়। আমাদের প্রকাশনী এবার এই মেলায় নতুন, একটা মেলায় অংশ নিলে অভিজ্ঞতা বাডবে। বইমেলা শেষ হলে অভিজ্ঞতাগুলো আগামীতে কাজে লাগবে।