৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৩
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি : দিনদিন জনপ্রিয় হচ্ছে সমলয় পদ্ধতিতে উচ্চ ফলনশীল জাতের বোরো আবাদ। এই পদ্ধতিতে চারা উৎপাদন থেকে শুরু করে ফসল ঘরে তোলা পর্যন্ত ব্যবহার করা হয় আধুনিক যন্ত্রপাতি। ফলে কৃষক স্বল্প সময়ে বেশি ফসল উৎপাদন করতে পারছেন। মৌলভীবাজার জেলায়ও বোরো আবাদের ফলন বাড়াতে সমলয় পদ্ধতিতে যন্ত্রের মাধ্যমে আবাদ শুরু হয়েছে।
শনিবার দুপুরে সদর উপজেলা কৃষি অফিসের আয়োজনে গিয়াসনগর ইউনিয়নের মাঠে রবি মৌসুমে ব্লক প্রদর্শনী স্থাপন করে সমলয় পদ্ধতিতে যান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় বোরো চারা রোপণের উদ্বোধন করেন মৌলভীবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য নেছার আহমদ।
সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা শরীফ উদ্দিনের সভাপতিত্বে এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা চেয়ারম্যান কামাল হোসেন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক সামসুদ্দিন আহমদ, সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এস এম নাগিব মাহফুজ প্রমুখ।
সমলয় পদ্ধতিতে চাষাবাদে কৃষকরা অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবেন বলে জানিয়েছেন কৃষি কর্মকর্তারা। তারা জানান, সদর উপজেলার শ্রীমঙ্গল গ্রামের একশ কৃষক প্রণোদনার মাধ্যমে পাচ্ছে আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ। দেড়শ বিঘা জমিতে সমলয় পদ্ধতিতে তৈরি করা হচ্ছে বোরো ধানের বীজতলা।
কৃষি কর্মকর্তা এস এম নাগিব মাহফুজ জানান, সর্বাধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহারে উচ্চ ফলনশীল একই জাত ব্যবহার, ট্রেতে বীজ বপন, কম বয়সের চারা রোপণ, চারা রোপণে রাইস ট্রান্সপ্লান্টার ব্যবহার, সুষম সার ব্যবহার, আইল ফসল, ধান কর্তনে কম্বাইন হারভেস্টার ব্যবহার করে উৎপাদন বাড়ানো, উৎপাদন খরচ সাশ্রয় করা, কৃষি যান্ত্রিকীকরণের মাধ্যমে ভরা মৌসুমে কৃষি শ্রমিকের সঙ্কটের সমাধান সম্ভব হবে এই সমলয় চাষাবাদে।
এদিকে, আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করার মাধ্যমে কৃষকদের সাশ্রয় হচ্ছে অর্থ ও সময়। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের সহযোগিতায় বীজতলা তৈরি, রোপণ ও ধান কাটার এই পদ্ধতিতে খুশি স্থানীয় চাষিরা।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক সামসুদ্দিন আহমদ বলেন, আগে বিঘা প্রতি যেখানে ১২ থেকে ১৩ হাজার টাকা খরচ হতো এখন সেটা কমে এসেছে ৭ থেকে ৮ হাজার টাকার মধ্যে। কৃষকের শ্রমও কমছে, খরচও বাঁচবে।
সংসদ সদস্য নেছার আহমদ বলেন, সমলয় পদ্ধতিতে চাষাবাদের জন্য যন্ত্রপাতি ও শস্য কর্তন থেকে শুরু করে সব কাজে সরকার কৃষকের পাশে থাকবে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের মাধ্যমে কৃষককে সহায়তা দেওয়া হবে।