৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৩
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি : হাওরে বোরো চাষাবাদের জন্য কৃষকদের মধ্যে ২৮ কোটি টাকা ১ হাজার ৮শ ৪০ জন কৃষকের মধ্যে ঋণ বিতরণ করা হয়েছে। এতে কৃষকরা বোরো চাষাবাদে আগ্রহী হয়ে উঠেছে।
জানা যায়, হাওর অধ্যুষিত মৌলভীবাজার জেলায় দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম হাকালুকি হাওর সহ ছোট বড় ৮টি হাওর রয়েছে। জেলার সিংহভাগ মানুষ হাওরের এক ফসলি বোরো ধানের উপর নির্ভরশীল। বিশেষ করে হাওর পারের লোকজন বোরো চাষাবাদ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। এটাই হাওর অঞ্চলের কৃষকদের আয়ের একমাত্র উৎস।
এদিকে, দেশের চলমান অর্থনৈতিক সংকটে হাওর অঞ্চলের কৃষকরা অতি কষ্টে দিনাতিপাত করছেন। পরিবারের প্রয়োজনীয় খরচ চালানোর পরে অর্থের অভাবে কৃষিতে ধান উৎপাদনের উদ্যোগ নিতে পারছেন না। আবার কেউ দাদন ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে টাকা এনে সম্বল হারিয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে সরকারি ব্যাংকগুলো কৃষকদের পাশে দাঁড়ানোয় কিছুটা স্বস্তি পেয়েছেন কৃষকরা।
ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, চলতি অর্থ বছরে হাওরে বোরো চাষাবাদের জন্য কৃষকদের মধ্যে জেলায় সোনালী ব্যাংক ১৬টি শাখার মাধ্যমে ৬ কোটি ২৫ লাখ টাকা ও কৃষি ব্যাংক ১৫টি শাখার মাধ্যমে ২১ কোটি ৫৫ লাখ টাকা ১ হাজার ৮শ ৪০ জন কৃষকের মধ্যে ঋণ বিতরণ করেছে। তবে এ পরিমাণ প্রয়োজনের তুলনায় অনেকটা কম।
মৌলভীবাজার সদর উপজেলার কৃষক আনছার আহমদ ও দীপেস চন্দ্র সহ একাধিক কৃষক জানান, কৃষি ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে আমরা বোরো ধান চাষ করতে পারছি। ব্যাংক থেকে টাকা নেয়ার কারণে অন্যের কাছ থেকে ধার-দেনা করতে হয়নি। অন্যথায় আমাদের দাদন ব্যবসায়ীদের ধারস্থ হতে হতো।
সোনালী ব্যাংক মৌলভীবাজার আঞ্চলিক কার্যালয়ের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার দোলন কান্তি চক্রবর্তী জানান, জেলায় সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে কৃষকদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ঋণ দেয়া হচ্ছে।
কৃষি ব্যাংক মৌলভীবাজারের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মমিনুল ইসলাম জানান, এবার ১ হাজার ৮শ ৪০ জন কৃষকের মধ্যে বোরো উৎপাদনে ২১ কোটি ৫৫ লাখ টাকা বিতরণ করা হয়েছে। প্রকৃত কৃষকরা ঋণ নিতে আসলে তাদেরকে ফিরিয়ে দেয়া হচ্ছে না।