৩ মার্চ ২০১৮
বালাগঞ্জ প্রতিনিধি : সিলেট-সুলতানপুর-বালাগঞ্জ সড়কের বেহাল দশার কারণে যাত্রী সাধারণের কাছে সড়কটি নরক যন্ত্রনায় পরিণত হয়েছে। অসংখ্য খানাখন্দে পরিপূর্ণ সংস্কারহীন সড়কটি এখন যানবাহন চলাচলের প্রায় অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। কর্তৃপক্ষ দায় এড়াতে কিছু কিছু স্থানে পিচের সড়কে ইটসলিংয়ের মাধ্যমে সংস্কার করায় দূর্ভোগ আরো
বৃদ্ধি পেয়েছে। সড়কটির প্রস্থতা বৃদ্ধিসহ সংস্কার কাজের মাধ্যমে যাতায়াতকারী চার উপজেলার জনসাধারণের লাঘবের জন্য প্রধানমন্ত্রী দৃষ্টি কামনা করেছেন এলাকাবাসী।
তবে স্থানীয় সংসদ সদস্য মাহমুদ উস্ সামাদ চৌধুরী অবশ্য বিভিন্ন সভা-সমাবেশে সড়কটি শীত মৌসুমে ৭২ কোটি টাকা ব্যয়ে সংস্কার করা হবে বলে জানিয়েছেন।
সড়ক ও জনপদ বিভাগ সিলেটের প্রধান নির্বাহী প্রকৌশলী উৎপল সামন্ত জানান, এ সড়ক প্রস্তকরণ ও মেরামতের জন্য ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বরাবর প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে।
জানা গেছে, সিলেট-সুলতানপুর-বালাগঞ্জ ২৯ কিলোমিটার সড়কের বিভিন্ন স্থানে কার্পেটিং উঠে গিয়ে ছোট বড় অসংখ্য খানাখন্দের সৃষ্টি হয়ে নাজুক অবস্থা বিরাজ করছে।
বিশেষ করে সিলাম ইউনিয়নের শেখপাড়া-টিকরপাড়া সংলগ্ন, সিলাম মাঝপাড়া জামে মসজিদের সামন, বিবির মোকাম থেকে আনন্দবাজর প্রকাশিত আখড়াবাজার, চারকাটি রাস্তারমূখ, সিলাম ইউনিয়ন পরিষদের সামন, কলা বাগানবাজার, বটেরতল, জালালপুর ইউনিয়নের ডাকির মহল জামে মসজিদের সামন, আজমতপুর, পিড়িলা-কোনা, দেওয়ানবাজার ইউনিয়নের নশিওরপুর, নর্থইস্ট বালাগঞ্জ কলেজের সামন, খাঁপুর রাস্তারমুখ, মোরারবাজার, চাম্পার কাঁন্দি, জামালপুরসহ বেশ কয়েকটি স্থানে কার্পেটিং উঠে গেছে। সড়কে মাকড়সাড় জালের মতো রয়েছে অসংখ্য খানাখন্দ।
যানবাহন চলাচল প্রায় অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সড়কের বেহাল দশার কারণে ঝুঁকি নিয়ে চলছে যানবাহন। প্রায়ই দূর্ঘটনায় শিকার হয়ে ক্ষতির সম্মুখিন হচ্ছে যানবাহন ও যাত্রী সাধারণ।
২০১৪ সালে সড়কের দায়সারা সংস্কার হলেও মোরারবাজার থেকে স্থানীয় জান-মোহাম্মদ খালের বেইলী ব্রীজ পর্যন্ত সংস্কারহীন থেকে যায় সড়কটি। গতবছর কিছু স্থানে কার্পেটিং উঠিয়ে ইট সলিং দ্বারা সংস্কার করা হয়। পরবর্তীতে ইটসলিং দ্বারা সংস্কার করা স্থান গুলো আরো ঝুকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
ইতিমধ্যে সড়কটি সংস্কারের দাবিতে মানববন্ধন, সংশিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে স্মারকলিপি এমনকি সড়কটির বেহাল দশার চিত্র তুলে ধরে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হলেও কর্তৃপক্ষের কোন সাড়া নেই সড়কটির দিকে।
সরেজমিনে পরির্দশকালে দেখা গেছে, সড়কের পিচ উঠে গেছে। মাকড়সাড় জালের মতো রয়েছে অসংখ্য গর্ত। ঝুকি নিয়েই চলছে যানবাহন গুলো। সড়কের সার্বিক পরিস্থিতি যানবাহন চলাচলের প্রায় অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
আলাপকালে ট্রাক পিকআপ ও কাভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়ন বালাগঞ্জ উপজেলা শাখার সহসভাপতি মো. ছালামত খান, গহরপুর রিকসা শ্রমিক সংগঠনের সভাপতি ও সাবেক ইউপি সদস্য নেছাওর আলী, অটোরিকসা (সিএনজি) চালক বাবুল মিয়া, নোমান আহমদ, অটোরিকসা শ্রমিক ইউনিয়র মাদ্রাসাবাজার শাখার সভাপতি আবুল কালাম ছানা, মোরারবাজার স্ট্যান্ডের ম্যানেজার সাহেদ আলী সমসুরে বলেন, বড় বড় গর্ত আর
ভাঙাচুরার কারণে প্রতিদিন গাড়ীর ক্ষতি সাধিত হচ্ছে। প্রায় প্রতিদিনই গাড়িতে কাজ করাতে হয়। সড়কের বেহাল দশার কারণে প্রায় গাড়ী বিকল হলে সড়কে গাড়ি আটকা পড়ে যানযটের সৃষ্টি করে।
বালাগঞ্জ উপজেলা শ্রমিকলীগের সভাপতি মো. আব্দুল আহাদ বলেন, গুরুত্বপূর্ণ এই সড়ক দিয়ে বালাগঞ্জ, দক্ষিণ সুরমা, রাজনগর ও ওসমানীনগর উপজেলার বিভিন্ন স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসার ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক, চাকুরীজীবী, শ্রমিকসহ সকল শ্রেণীর হাজার হাজার যাত্রীসাধারণ যাতায়াত করেন। সড়কের নাজুক অবস্থার কারণে বর্তমানে দ্বি-গুন ভাড়া দিতে হচ্ছে এবং যাত্রীদের সময়ের অপচয় হচ্ছে। বেহাল দশার কারণে দীর্ঘদিন ধরে সড়কটিতে বাস-চলাচল বন্ধ রয়েছে।
মাদ্রসাবাজারের ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম, সেলিম আহমদসহ বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ী বলেন, রাস্তা অবস্তা খারাপ থাকায় পণ্য সামগ্রী আনা নেওয়া করতে অনেক দূর্ভোগ পোহাতে হয়। অধিক হারে আমাদেরকে পরিবহন ভাড়া বহন করতে হচ্ছে। কর্তৃপক্ষে কাছে ব্যবসায়ীরা এ রাস্তা মেরামতের জন্য জোরদাবি জানান।
দেওয়ানবাজার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নাজমুল আলম জানান, এ সড়কের কথা বলতে বলতে আমরা ক্লান্ত, জানিনা কবে সংস্কার হবে।
সাবেক চেয়ারম্যান আফম শামীম বলেন, আমরা ৩ ইউনিয়নবাসী চরম অবহেলিত। আমাদের ভোটের অধিকার থাকলেও নাগরিক হিসেবে ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত। দীর্ঘদিন যাবত হাজার হাজার মানুষ দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। এ সড়ক মেরামত ও প্রস্তকরণ আমাদের প্রাণের দাবি।
দেওয়ানবাজার ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. দুদু মিয়া বলেন, সড়ক কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব অবহেলা ও অনিয়মের কারণে এ সড়কে যাত্রী সাধারণ প্রতিদিন চরম দূর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। প্রসুতি নারী, শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ্য রোগীদের বাড়তি কষ্ট পোহাতে হচ্ছে। তাই মানুষের দূর্ভোগ লাঘবে জরুরী ভিত্তিতে সড়কটির সংস্কার কাজের ব্যবস্থা গ্রহণে জন্য এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী, জননেত্রী শেখ হাসিনার দৃষ্টি কামনা করছি।
যাত্রী অধিকার সংরক্ষণ কমিটির সদস্য সচিব ও সিলেট জেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট জুয়েল আহমদ জানান, সিলেট-সুলতানপুর সড়ক সংস্কার ও প্রশস্থকরণ দাবি আদায়ে আমরা অনড়। যোগ্য নেতৃত্বের অভাবে এ সড়কের করুন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। যাত্রী সাধারণের কাছে এ সড়ক এখন নরক হয়ে পড়েছে।
মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রধান সেনাপতি, সাবেক মন্ত্রী এমএজি ওসমানী’র এপিএস ও স্কটল্যান্ড আওয়ামী লীগের সহসভাপতি শাহনূর চৌধুরী বলেন, দীর্ঘদিন যাবত এ সড়ক অবহেলায় রয়েছে। এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী, যোগাযোগ মন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে জোরদাবি জানান।
(আজকের সিলেট/৩ মার্চ/ডি/এমকে/ঘ.)