২৯ জানুয়ারি ২০১৮
ছাতক (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি : সুনামগঞ্জের ছাতকস্থ সিলেট পাল্প এন্ড পেপার মিলস আদর্শ দাখিল মাদ্রাসা বিভাগের মধ্যে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করলেও ৩৫ বছরে ঠিকানা খুঁজে পায়নি প্রতিষ্ঠানটি। দেড় যুগ ধরে জরাজীর্ণ একটি কর্মচারী ক্লাবেই চলছে মাদ্রাসার পাঠদান কার্যক্রম।
নিজস্ব ভবন, প্রয়োজনীয় উপকরণও শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ না থাকায় মাদ্রাসার ৪ শতাধিক শিক্ষার্থীর শিক্ষা কার্যক্রমে দেখা দিয়েছে চরম অচলাবস্থা। এব্যাপারে সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করছেন এলাকাবাসী।
জানা যায়, ১৯৮৩ সালে সিলেট পাল্প এন্ড পেপার মিলস হাইস্কুলের একটি একতলা ভবনে মাদ্রাসার শিক্ষা কার্যক্রম চালু হয়। এরপর ১৯৯৪ সালে দাখিল পরীক্ষার অনুমতি, ১৯৯৫ সালে একাডেমিক স্বীকৃতি ও ২০০০ সালে এটি এমপিওভুক্ত হয়। ১৯৯০ সাল থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত ইবতেদায়ি বৃত্তি পরীক্ষায় উপজেলাভিত্তিক বৃত্তিসহ পর্যায়ক্রমে ৫০টি ও ১৯৯৪ সাল থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত নিম্ন মাধ্যমিক পরীক্ষায় আরও ৯টি বৃত্তি লাভ করে ওই মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা।
একপর্যায়ে মাদ্রাসাটি ১৯৯৫ সালে দাখিল পরীক্ষায় সিলেট বিভাগের মধ্যে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করে। ২০০০ সালে প্রতিষ্ঠানের একজন পরীক্ষার্থী দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ মেধা তালিকায় ১৮তম স্থান অধিকার করে।
২০০৪ সালের পর থেকে অদ্যাবধি পর্যন্ত ইবতেদায়ি, জেডিসি ও দাখিল পরীক্ষায় ট্যালেন্টপুল, জিপিএ-৫ ও সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি লাভসহ পরীক্ষার্থীরা কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফল অর্জন করে যাচ্ছে। ২০১৭ সালে ইবতেদায়ি সমাপনী পরীক্ষায় ৩৪ জনের মধ্যে ৩২ জন, জেডিসি পরীক্ষায় ৩৬ জনের মধ্যে ৩৫ জন পাস করে।
২০০৩ সালে জাতিয় শিক্ষা সপ্তাহ উপলক্ষে উপজেলা, জেলা ও সিলেট বিভাগের মধ্যে প্রতিষ্ঠানটি সর্বোচ্চ শ্রেষ্ঠত্বের সম্মানে ভূষিত হয়। এখনো এ সাফল্য ধরে রেখেছে প্রতিষ্ঠানটি। কিন্তু ঈর্ষণীয় সাফল্যের ধারা অক্ষুণ্ণ রাখলেও প্রতিষ্ঠানে পাহাড়সম সমস্যা বিরাজমান।
২০০১ সালে হাইস্কুলের একতলা ভবন ছেড়ে মাদ্রাসাটি আপন ঠিকানার খোঁজে বের হয়ে ১৯৮৩ সালে মান্ধাতা আমলের জরাজীর্ণ সিলেট পাল্প এন্ড পেপারমিলস্ কর্মচারী ক্লাবে স্থানান্তরিত হয়।
২০০২ সালের ৩১ নভেম্বর সিলেট পাল্প এন্ড পেপারমিল পে-অফ ঘোষণার পর মাদ্রাসাটি নানাবিধ সমস্যার কবলে পড়ে। মাদ্রাসার নিজস্ব সরকারি কোন একাডেমিক ভবন না থাকায় জরাজীর্ণ কর্মচারী ক্লাবেই পাঠদান চালু রাখা হয়েছে।
৪ শতাধিক শিক্ষার্থীদের কর্মচারী ক্লাবে পাঠদান সম্ভব না হওয়ায় সামনের বারান্দায় চাটাইয়ের মধ্যে বসেই কোমলমতি শিশুরা লেখাপড়া করছে। পেছনের বারান্দায় বাথরুমের পাশেই চলছে আরও দু’টি ক্লাস। এছাড়া ক্লাবের ভেতরে পার্টিশন না থাকায় পাশাপাশি চলছে ৭টি ক্লাস।
এতে শব্দ দূষণের কবলে পড়ে শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ক্লাস চলাকালে তীব্র শব্দ দূষণে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা একে অপরের কথাবার্তা এমনকি পড়ালেখার বিষয়াদি বুঝতে মারাত্মক সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। মাদ্রাসার নিজস্ব ৭১ শতক ভূমি থাকলেও এখানে নিজস্ব কোন সরকারি একাডেমিক ভবন নেই। ফলে বাধ্য হয়েই জরাজীর্ণ কর্মচারী ক্লাবেই পাঠদান চালিয়ে যাচ্ছেন তারা। মাদ্রাসায় ১২ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা ও ৩ জন কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন।
মাওলানা শরিফুল ইসলাম জানান, প্রতিষ্ঠা থেকেই মাদ্রাসাটির সাফল্যের ধারা ছিল ঈর্ষণীয়। শুধু ভবন না থাকায় সুষ্ঠু পাঠদানে মারাত্মক ব্যাঘাত সৃষ্টি হচ্ছে। ভবন নির্মিত হলে মাদ্রাসাটি আরও সাফল্য অর্জন করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
পরিচালনা কমিটির সভাপতি সাইফুর রহমান চৌধুরী খোকন জানান, মাদ্রাসা উন্নয়নে লক্ষ্যে স্থানীয় সংসদ সদস্যসহ বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন করা হয়েছে।
পৌর কাউন্সিলর ধন মিয়া জানান, সুরমা নদীর দু’পারের বৃহত্তর এলাকার প্রায় ২০টির অধিক গ্রামের শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় শিক্ষার একমাত্র অবলম্বন হচ্ছে এ মাদ্রাসাটি। এজন্যে তিনি দ্রুত ভবন নির্মাণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণে সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার পুলিন রায় মাদ্রাসাটি এযাবৎ কোন বিল্ডিং পায়নি জেনে অবাক হয়ে বলেন, এমপি মহোদয়ের সাথে এলাকার লোকজন যোগাযোগ করলে এসমস্যা সমাধান হতে পারে।
(আজকের সিলেট/২৯ জানুয়ারি/ডি/এসটি/ঘ.)