২৯ জানুয়ারি ২০১৮
মাহমুদা খানম : নগর ভবন। সিটি কর্পোরেশনের সকল কার্যক্রম পরিচালিত হয় এখান থেকেই। ২০১২ সালের ২৪ মার্চ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই ১২তলা বিশিষ্ট নগর ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। আর ৩০ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী নিজেই ৫তলা সম্পন্ন হওয়া এই নগর ভবনের আনুষ্টানিক উদ্বোধন করবেন। প্রধানমন্ত্রীর সিলেটের কর্মসূচীতে নগর ভবন উদ্বোধনের বিষয়টি রয়েছে। কিন্তু এই অনুষ্ঠানে থাকছেন না সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি বর্তমানে ব্যক্তিগত সফরে বৃটেনে অবস্থান করছেন। আর এই অতিগুরুত্বপূর্ণ অনুষ্টানে মেয়র আরিফের অনুপস্থিতি নগরবাসী ভালো চোখে দেখছেন না। এই মুহুর্তে তার দেশে বাহিরে যাওয়া নিয়ে নানান আলোচনা সমালোচনার ঝড় বইছে।
সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এনামুল হাবিব আজকের সিলেট ডটকমকে জানান, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী ৩০ জানুয়ারি নগর ভবনের আনুষ্টানিক উদ্বোধন করবেন।
জানা যায়, প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক নগর ভবন উদ্বোধনের সিদ্ধান্ত হওয়ার পর পরই ব্যাক্তিগত সফরে বৃটনে চলে যান মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। এসময় আবারো কর্পোরেশনের মেয়র প্যানেলের কোন সদস্যকে মেয়রের দায়িত্ব না দিয়ে ফের ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন বিএনপির এই নেতা।
নগরবাসী মনে করছেন, প্রধানমন্ত্রী সেই হোন তিনি কোনো দলের নন দেশর প্রধানমন্ত্রী। আর যেখানে সরকার দলীয় মেয়র না থাকার পরও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেভাবে সিলেটের উন্নয়নে বিপুল পরিমান বরাদ্ধ দিয়েছেন সেদিক বিবেচনা অন্তত মেয়র অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকা উচিত ছিল। এসময় মেয়রের দেশের বাহিরে যাওয়া মোটেও সমিচিন নয়। কারন আওয়ামীলীগের সরকারের আমলেই এই নগর ভবন হয়েছে। এবং তিনি নগরীতে যে উন্নয়ন কাজ করছেন তা সবই বর্তমান সরকারের অবদান।
জানা যায়, কয়েক দশক ধরে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে সিলেট পৌরসভা এবং পরবর্তীতে সিটি করপোরেশনের (সিসিক) কার্যক্রম চলে আসছিল। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর সিলেট সিটি করপোরেশনের জন্য নতুন নগর ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। ভবনটি ১২তলা হওয়ার কথা থাকলেও বর্তমানে ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ভবনের কাজ হয়েছে পাঁচতলা পর্যন্ত কাজ শেষ হয়েছে। বাকি কাজ আটকে গেছে অর্থাভাবে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে অর্থ বরাদ্দ পেলে নগর ভবনের বাকি সাততলার কাজ সম্পন্ন হবে।
নগর ভবনের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ঢাকার ‘স্থপতি সংসদ’ নামক স্থাপত্য প্রতিষ্ঠান সিলেট নগর ভবনের ১২ তলা ভবনের নকশা করে; নির্মাণ কাজ পায় সালাম ব্রাদার্স ও মাহবুব ব্রাদার্স নামের দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ২০১২ সালে পুরো ভবনের নির্মাণ ব্যয় ধরা হয় ১০ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। কিন্তু সেই ব্যয় আরো প্রায় ১৫ কোটি টাকা বেড়ে ২৫ কোটি টাকারও বেশি দাঁড়ালেও কাজ শেষ হয়েছে মাত্র পাঁচতলা পর্যন্ত। নতুন ভবনটি ভূমিকম্প সহনীয় করে আধুনিকতার মিশেলে নির্মাণ করা হয়েছে।
(আজকের সিলেট/২৮ জানুয়ারি/ডি/এসটি/ঘ.)