৫ জানুয়ারি ২০২৩


আশ্রয়ণ প্রকল্পে সবজি চাষ করে স্বাবলম্বী উপকারভোগীরা

শেয়ার করুন

আশফাক জুনেদ, বড়লেখা (মৌলভীবাজার) থেকে : নিজের কোন স্থায়ী আবাসন ছিলো না। থাকতেন শ্বশুর বাড়িতে। এরপর স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা ব্যবস্থা করে দেন প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের একটি ঘর। এখন সেখানেই বসবাস। ঘর পেয়েই বসে থাকেননি। নিজেকে স্বাবলম্বী করতে ঘরের পাশেই পতিত জমিতে গড়ে তুলেছেন নানান জাতের সবজি বাগান। পরিবারের চাহিদা মিটিয়ে সেই বাগানের সবজি এখন বিক্রিও করছেন। বলছিলাম বড়লেখা উপজেলার উত্তর শাহবাজপুর ইউনিয়নের ভবানীপুর আশ্রয়ণ প্রকল্পের নিয়াজ উদ্দিনের কথা।

উপজেলার দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়নের বোবারথল গ্রামের বাসিন্দা নিয়াজ উদ্দিন দীর্ঘদিন থেকে বসবাস করছেন শ্বশুর বাড়ি বোয়ালী গ্রামে। স্ত্রী সন্তান নিয়ে শ্বশুর বাড়িতে আর কতদিন! তাই স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতায় পেয়েছেন আশ্রয়ণ প্রকল্পের একটি ঘর। গত ৬ মাস থেকেই স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে সেখানে বসবাস করছেন তিনি। পেশায় কৃষক। অন্যের জমি বর্গা নিয়ে চাষ করেন। ঘর পাওয়ার পর ঘরের আশেপাশে ও পাশের কিছু জমিতে গড়ে তুলেছেন সবজি বাগান। নিজের কষ্টার্জিত অর্থ ব্যয় করে গড়ে তোলা বাগানে রয়েছে লাউ, ঝিঙ্গে, ফরাস,শিম, লালশাক,কাঁচামরিচ, শসা ও কেরেলা। নিজের পরিবারের চাহিদা মিটিয়ে বিক্রিও করছেন নিয়াজ উদ্দিন। হচ্ছেন স্বাবলম্বী।

শুধু নিয়াজ উদ্দিনই না। এই আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরে বিশাল শিমের চাষ করেছেন আরেক উপকারভোগী সায়াদ উদ্দিন। এছাড়া উত্তর শাহবাজপুরের করমপুর ও চানপুর আশ্রয়ণ প্রকল্পের রাজিয়া বেগম, কোরবান আলী, সুহাদা আক্তার, আব্দুল হাসিমসহ অনেক উপকারভোগীরা তাদের ঘরের পাশেই চাষ করছেন বিভিন্ন জাতের শাক-সবজি। এছাড়া গৃহপালিত হাস মোরগ পালন করেও পাচ্ছেন সফলতা। তবে তাদের অভিযোগ শাক-সবজি উৎপাদনে কোন সরকারি সহযোগিতা পাননি তারা।

নিয়াজ উদ্দিন বলেন, ‘ নিজের কোন ঘরবাড়ি নেই। দীর্ঘদিন থেকে স্ত্রী সন্তান নিয়ে শ্বশুর বাড়িতে থাকতাম। মেম্বার চেয়ারম্যানরা আমাকে এই ঘরটির ব্যবস্থা করে দিয়েছেন৷ এরপর থেকে ঘরের পাশের অল্প জমিতে বিভিন্ন জাতের সবজি চাষ শুরু করি। আলহামদুলিল্লাহ ভালোই ফলন হয়েছে। বিক্রিও বেশ ভালো হচ্ছে।

আরেক উপকারভোগী আব্দুল হাসিম বলেন, ‘নিজেদের কোন ঘর ছিলো না। শেখ হাসিনা ঘর দিয়েছেন। নিজের জমি হয়েছে ৷ সেই ঘরের পাশে সবজি চাষ শুরু করেছি। ‘

এ ব্যাপারে বড়লেখা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুনজিত কুমার চন্দ বলেন, ‘ আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরে অনেক উপকারভোগীরা শীতকালীন সবজি চাষ করে স্বাবলম্বী হচ্ছেন। উপজেলা প্রশাসন সবসময় তাদের পাশে আছে এবং থাকবে। যে কোন সহযোগিতার জন্য তারা সংলিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ করলে আমরা তাদের সর্বাত্মক সহযোগিতা করবো। ‘

শেয়ার করুন