২ জানুয়ারি ২০২৩
আজকের সিলেট ডেস্ক : আগামী বছরের শুরুতে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এই নির্বাচন ঘিরে নতুন বছর ২০২৩ সাল ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং চ্যালেঞ্জের।
নির্বাচন এক বছর পর হলেও এ বছরই মূলত বিরোধী শিবিরের আন্দোলন নিয়ন্ত্রণের মধ্যদিয়ে নির্বাচনি মাঠ অনুকূলে রাখতে কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হবে আওয়ামী লীগকে।
একই সঙ্গে দলটির জন্য ভোটারদের আকৃষ্ট করে আসন্ন নির্বাচনে দলের জয়লাভ নিশ্চিতের অগ্নিপরীক্ষার বছর এই ২০২৩।
২০২৩ সাল নির্বাচনি মাঠ গোছানোর বছর ও চ্যালেঞ্জের বছর বলেই বিরোধী দলের আন্দোলন, অভিযোগ ও প্রপাকাণ্ডা মোকাবিলা, বিদ্যমান সংকট উত্তরণ, বাজেট বাস্তবায়ন, দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখা, দলীয় কোন্দল নিরসন করে নির্বাচনের প্রার্থী ঠিক করাসহ নানামুখী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে দলটিকে। এছাড়া গত নির্বাচনে ঘোষণা করা ইশতিহারের অবশিষ্ট কাজও এ বছরের মধ্যেই সম্পন্ন করতে হবে আওয়ামী লীগকে।
আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, ‘২০২৩ সাল বাংলাদেশের জন্য নির্বাচনি বছর। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ আছে এবং থাকবে। আগামী নির্বাচনে দেশের মানুষ নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে আবারও আওয়ামী লীগকে বিজয়ী করে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকার গঠন নিশ্চিত করবে।’
নির্বাচন ঘিরে যাতে কোনো সন্ত্রাসী দল ষড়যন্ত্র করতে না পারে, তাই আওয়ামী লীগ নেতকর্মীরা মাঠে আছে বলেও জানান আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর এই সদস্য।
অন্যদিকে, নির্বাচন ঘিরে ইতোমধ্যেই রাজনীতির মাঠে ছড়িয়ে পড়া উত্তাপ ক্রমাগত বাড়ছে। বিএনপি ও তাদের সমমনা সরকারবিরোধী দলগুলো গতকাল শুরু হওয়া ইংরেজি নতুন এই বছরকে সরকারপতন আন্দোলন বেগবানের সুবর্ণ সময় হিসেবে দেখছে।
এছাড়া গত নির্বাচনের ইশতিহারের অসমাপ্ত কাজগুলোও সম্পন্ন করাকেও এক ধরনের চ্যালেঞ্জ বলছেন বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন, নির্বাচনি ইশতিহারে ঘোষণা করা কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে ব্যর্থ হলে নানা প্রশ্নের মুখে পড়তে হবে দলটিকে।
আগামী নির্বাচনে সরকারি দলকে পরাজিত করতে এরইমধ্যে ছোট রাজনৈতিক দলগুলো আওয়ামী লীগ-বিএনপির মতো বড় দলের সঙ্গে জোটবদ্ধ হতে শুরু করেছে। এই বড় দুই দলের বাইরেও বিকল্প জোট গড়ার আলোচনা চালাচ্ছে বাম ঘরোনার কয়েকটি দল।
তবে এর মধ্যে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে বিএনপি ও সমমনারা রাজপথে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। দেওয়া হচ্ছে নতুন কর্মসূচিও। এই আন্দোলন আরও জোরালো করার কথা বলা হচ্ছে ওইসব দলের তরফ থেকে।
এমন প্রেক্ষাপটে বিএনপির আন্দোলনকে রাজপথে রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলার ঘোষণাও দিয়েছে আওয়ামী লীগ। অবশ্য বিরোধী পক্ষের আন্দোলন মোকাবিলা করে সংবিধান অনুযায়ী বিশে^র কাছে গ্রহণযোগ্য সুষ্ঠু নির্বাচন সম্পন্ন করাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছে ক্ষমতাসীন দলটি।
এজন্য চলতি বছরকে নির্বাচনী ও ভোটের বছর ঘোষণা দিয়ে নেতাকর্মীদের মাঠে থাকার নিদেশে দিয়েছে শাসক দল।
দলীয় নিদের্শনা অনুযায়ী ১০ ও ৩০ ডিসেম্বর বিএনপির সমাবেশ এবং গণমিছিল রুখে দিতে মাঠ দখলে রাখা হয়।
বিশ্লেষকরা বলছেন, সব পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখেই শাসক দলকে নির্বাচনমুখী নানান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৪ সালের শুরুতে জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নতুন বছর তথা ২০২৩ সাল খুব গুরুত্বপূর্ণ বছর। নির্বাচনি প্রস্তুতি ছাড়াও ক্ষমতাসীন দল হওয়ায় এ বছর কূটনৈতিক নানা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে আওয়ামী লীগ। বৈশ্বিকভাবে যুক্ত হতে পারে আরও নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ। এসব মোকাবিলা করে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ঠিক রাখা, রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ানো, নতুন বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানোসহ নানান চ্যালেঞ্জ জয় করতে হবে।
এছাড়া দেশের রাজনীতির ক্ষেত্রে বিরোধী পক্ষের আন্দোলন, নির্বাচনমুখী দাবিসহ সব কিছুর জন্য নতুন বছরে নুতন পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে আওয়ামী লীগকে। ফলে এ বছর ক্ষমতাসীন দলের জন্য চ্যালেঞ্জের বছরই বলা চলে।
আওয়ামী লীগ সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, ‘স্বাধীনতা থেকে শুরু করে এ দেশের যত উন্নয়ন অর্জন হয়েছে, সব বঙ্গবন্ধু ও আওয়ামী লীগের হাত ধরেই হয়েছে। দেশের মানুষ বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনাকেই চায় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে। দেশ বিরোধীরা যতই ষড়যন্ত্র করুক- কোনো লাভ হবে না। আগামী ২০২৪ সালের জানুয়ারি মাসে দেশের সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।’
আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, ‘এ বছর হবে দেশের উন্নয়নে আর্থসামাজিক, রাজনৈতিক ধারাকে আরও উন্নত পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার গুরুত্বপূর্ণ একটি বছর। আওয়ামী লীগ স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তোলার যে ঘোষণা দিয়েছে, জনগণের ম্যানডেট নিয়ে আগামী নির্বাচনে আবারও ক্ষমতায় এসে সে লক্ষ্যে কাজ করবে এবং ২০৪১ সালে উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ হবে। এ বছর আমরা জনগণের কাছে এই প্রতিশ্রুতি নিয়ে যাব এবং এই প্রত্যাশার কথা জনগণের কাছে তুলে ধরা হবে।’