২৬ ডিসেম্বর ২০২২


আ.লীগের সামনে কঠিন সময়, আছে নানা চ্যালেঞ্জ

শেয়ার করুন

আজকের সিলেট ডেস্ক : ২২তম জাতীয় সম্মেলনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের নতুন কমিটি ঘোষণা হয়েছে। আগামী জাতীয় নির্বাচন ঘিরে বিরোধী পক্ষের আন্দোলন সংগ্রাম ও দেশের নানাবিধ সংকটসহ বিভিন্ন সমস্যা সামাল দিতে হবে এই নতুন কমিটিকে। তবে এসব সমস্যা মোকাবিলাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন ক্ষমতাসীন দলের নবনির্বাচিত কমিটির নেতারা। সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো মাথায় রেখে বিরোধী মতের রাজনৈতিক দলগুলোর চাপ, আন্দোলন আর ‘ষড়যন্ত্রকে’ মোকাবিলা করে এগিয়ে যেতে চান তারা।

দলের শীর্ষ নেতারা বলছেন, এবার আওয়ামী লীগকে বহু চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। নবনির্বাচিত কমিটির প্রধান কাজ হবে কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত সকল স্তরের কোন্দল মেটানো। দলের ত্যাগী সমর্থক এবং নেতারা যদি দল থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলে আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে।

একই সঙ্গে দলে অনুপ্রবেশকারীদের মদতদাতাদের চিহ্নিত করে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া দরকার বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

তারা বলছেন, ‘এটিও ঠিক যে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যদি সাংগঠনিকভাবে দলে ব্যাপক পরিবর্তন আনা হলে, সেই সিদ্ধান্ত নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে পারে। পাশাপাশি যদি ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন না করে হাইব্রিড নেতাদের মূল্যায়ন করা হয়, তাহলেও ত্যাগীদের মধ্যে হতাশা থাকবে। যা দলের জন্য ভালো ফল বয়ে আনবে না। নেতাকর্মীদের কোন্দল নিরসন করে আওয়ামী লীগ সক্রিয়ভাবে মাঠে না থাকলে বিএনপিকে নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়বে। এসব চ্যালেঞ্জ মাথায় রেখেইে এগিয়ে যেতে হবে।’

দশমবার আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় গতকাল গণভবনে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন শেখ হাসিনা।

এ সময় সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে শেখ হাসিনা বলেন, ‘গণমানুষের আস্থা ও বিশ্বাসই আওয়ামী লীগের সবচেয়ে বড়ো শক্তি। আমাদের আর কোনো শক্তি নেই। আমরা কেবলমাত্র জনগণের শক্তিতেই বিশ্বাস করি। আওয়ামী লীগ সঠিকভাবে যদি জনগণকে পথ দেখাতে পারে, তাহলে দেশের উন্নয়নে কেউ বাধা দিতে পারবে না।’

দলীয়প্রধান প্রত্যেক জেলা-উপজেলায় দলীয় কার্যালয় স্থাপনের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, ‘স্থানীয় আওয়ামী লীগ ইউনিট তাদের অফিস স্থাপনে অক্ষম হলে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ সাহায্য করবে। প্রত্যেক জেলা ও উপজেলায় একটি কার্যালয় থাকা দলের জন্য প্রয়োজন।’

তিনি বলেন, ‘আমরা ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করেছি। অনলাইনের মাধ্যমে পুরো দেশের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ আমাদের রয়েছে। তাহলে এক্ষেত্রে কেন আওয়ামী লীগ পিছিয়ে থাকবে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে যোগাযোগ সহজ করে তুলতে আমি একটি প্রাতিষ্ঠানিক পদ্ধতি গড়ে তুলতে চাই।’

দলকে শক্তিশালী করতে নতুন সদস্য নিয়োগের ওপর গুরুত্বারোপ করে শেখ হাসিনা আরও বলেন, ‘আমরা আটটি বিভাগে আটটি নতুন দল গঠন করব। তারা নতুন সদস্য নিয়োগের বিষয়টি দেখভাল করবে। আওয়ামী লীগই একমাত্র দল, যারা এ দেশের মাটি ও জনগণ থেকে বেড়ে উঠেছে। কিন্তু বিএনপি ও জাতীয় পার্টি সামরিক শাসকদের পকেট থেকে এসেছে, যারা সংবিধান লঙ্ঘন করে অবৈধভাবে রাষ্ট্র ক্ষমতা দখল করেছে। এ কারণে জনগণের প্রতি তাদের কোন দায়বদ্ধতা নেই। যেহেতু গণমানুষের ভাগ্য গঠনের দায়িত্ব আওয়ামী লীগের, তাই এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের প্রত্যেক নেতা ও কর্মীর দায়িত্ব রয়েছে।’ আগামী নির্বাচনে বিরোধীদের আন্দোলন-সংগ্রাম এবং সংকটময় বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় অভিজ্ঞদের ওপর নেতৃত্বের ভার রাখা হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন শেখ হাসিনা।

এর আগে গতকাল ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে আওয়ামী লীগের নতুন কমিটির নেতারা শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

এরপর আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, আগামী নির্বাচন, বিশ্ব পরিস্থিতি সামনে রেখে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে এগিয়ে যেতে হবে। তিনি বলেন, জঙ্গিবাদ-সাম্প্রদায়িকতা, বিএনপির নেতৃত্বে সরকার হটানোর আন্দোলন, এমন পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগের সামনে নানা চ্যালেঞ্জ। তা মোকাবিলায় আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে অভিজ্ঞদের রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন দলের সভাপতি।

শেয়ার করুন