১৪ নভেম্বর ২০২২


প্রধানমন্ত্রীর কাছে ঘর চান পঙ্গু রহিমা

শেয়ার করুন

মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি : দারিদ্র যেন মিতালি পেতেছে রহিমার সাথে। পিছু আর ছাড়ছেই না। দিনদিন তিনি দরিদ্র থেকে আরও দরিদ্র হয়ে পড়ছেন। ১০ বছর আগে স্বাভাবিকভাবে চলতে পারতেন তিনি। কিন্তু একটি সড়ক দুর্ঘটনা তার জীবনকে তছনছ করে দিয়েছে।

হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর উপজেলার দক্ষিন সুরমা গ্রামের মৃত রজব আলীর মেয়ে রহিমা বেগম (৪৫) এখন ভাঙ্গা দুটি পা নিয়ে ক্রাচে ভর দিয়ে মানুষের বাড়িবাড়ি ইট ভেঙ্গে আহার জোগাড় করেন। তবে সবসময় কাজ জোটেনা। তখন বাধ্য হয়ে ভিক্ষাবৃত্তিতে নামতে হয়।

রহিমা খাতুন জানান, প্রতিদিন অনেক কষ্ট করে পেটের দায়ে ইট ভাঙ্গার কাজ করেন। শরীরে নানা অসুখ বিসুখ বাসা বেঁধেছে। সড়ক দুর্ঘটনায় দুটি পা অবশ। পায়ের ওপর ভর দিয়ে দাঁড়ানোর কোন শক্তি নেই। একমাত্র ছেলে তার সংসার নিয়ে ব্যস্ত। স্বামীও সড়ক দুর্ঘটনার পর তাকে ছেড়ে চলে গেছেন। ইট ভেঙ্গে মানুষের কাছ থেকে চেয়ে বসত ঘরের জন্য ৩ শতক জমি ক্রয় করেছেন তিনি। কিছু টিন, কাঠ ও মিস্ত্রি খরচ হলেই ঘরটি নির্মাণ করতে পারতেন।

তিনি বলেন, শুনছি প্রধানমন্ত্রী মানুষকে ঘর দেন। আমি অসহায় মানুষ। আমাকে একটি ঘর দিলে বড় ভালো হতো। নিজের ঘরে থেকে মরলেও কোন কষ্ট হতোনা।

শাহজাহানপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক আবুল কাসেম বলেন, রহিমা একজন সুবিধাবঞ্চিত খুবই দরিদ্র মানুষ। ভাঙ্গা পা নিয়ে মানুষের বাড়িবাড়ি গিয়ে ইট ভেঙ্গে জীবিকা নির্বাহ করেন। তাকে প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অধীনে একটি ঘর দিলে এটি এলাকায় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শেখ মঈনুল ইসলাম মঈন বলেন, রহিমার জীবনযাপন আসলেই বেদনাদায়ক। সরকারি সুবিধার আওতায় তাকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সহযোগীতা করা হবে।

শেয়ার করুন