৩ নভেম্বর ২০২২
তাহিরপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি : ছয় বছরের বেশি সময় ধরে হাওর ও খালে দাঁড়িয়ে আছে দুটি সেতু। আজও হয়নি সংযোগ সড়ক। এর ফলে সেতু দুটি এলাকাবাসীর কোনো কাজে আসছে না। মানুষের কাজে না লাগলেও বর্ষায় নৌযান চলাচল ব্যাহত হয়। আর শুষ্ক মৌসুমে কোনো ধরনের যানবাহন চলাচল করতে না পারায় দুর্ভোগে আছে গ্রামের মানুষ। তবে এই দুটি সেতু নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ৬২ লাখ টাকা। সড়ক নির্মাণ না করে কেন দুটি সেতু বানানো হলো তা বোধগম্য হচ্ছে না স্থানীয় এলাকাবাসী ও সচেতন মহলের।
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার সদর ইউনিয়নের জামলাবাজ-টাকাটুকিয়া সড়কের মাটিয়ান হাওরের মধ্যে ডুবন্ত সড়কের খালে ও উত্তর বড়দল ইউনিয়নের শান্তিপুর-বাদাঘাট সড়কের শান্তিপুর খালের ওপর দেখা যাবে অব্যবহৃত দুটি সেতু। গত ১৬-১৭ অর্থবছরে নির্মাণ করা হয় সেতু দুটি।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয় ও এলজিইডি অফিস সূত্রে জানা যায়, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে তাহিরপুর-বাদাঘাট এলজিইডি সড়ক পর্যন্ত মাটিয়ান হাওরের মধ্যে ডুবন্ত সড়কে একটি খালে সেতু নির্মাণ করা হয়।
৪০ ফুট দৈর্ঘ্যের এ সেতু নির্মাণে ব্যয় ধরা হয় ৩০ লাখ ৯০ হাজার টাকা। অপরটি গত ২০১৬ সালে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) হাওরাঞ্চলের অবকাঠামো ও জীবনমান উন্নয়ন প্রকল্পের (হিলিপ) মাধ্যমে উত্তর বড়দল ইউনিয়ন শান্তিপুর নদীতে ৩২ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয়।
জামলাবাজ গ্রামের বাসিন্দা বাবর আলী, গাজীপুর গ্রামের আমির মিয়াসহ অনেকেই বলেন, আমরা চার-পাঁচটি গ্রামের মানুষ সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে রয়েছি গত দুই যুগ ধরে। আগে শুষ্ক মৌসুমে হেঁটে চলাচল করতে পারতাম, সেতু তৈরির সময় মনে হয়েছে আমাদের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন হবে। কিন্তু রাস্তা না হওয়ায় এখন আরও বেশি দুর্ভোগে পড়েছি।
উত্তর বড়দল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুক মিয়া বলেন, শান্তিপুর খালে পাহাড়ি ঢলের পানির চাপ বেশি থাকায় এ ছোট সেতু দিয়ে কাজ হবে না। এখানে বড় সেতু নির্মাণ করে দুপারের সাথে সংযোগ দিতে পারলে সারা বছরই ৪-৫ গ্রামের মানুষ চলাচল করতে পারত সহজে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্থবায়ন কর্মকর্তা কাজী মাসুদুর রহমান জানান, এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ নেওয়া হবে, যাতে ওই এলাকার মানুষের সড়ক পথে চলাচলের সুবিধা হয়। উপজেলা প্রকৌশলী আরিফউল্লাহ খান বলেন, আমি এখানে নতুন যোগদান করেছি। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জানাব।
উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান করুনা সিন্ধু চৌধুরী বাবুল জানান, মানুষের চলাচলের জন্য সড়ক যোগাযোগের উন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলব।