১৮ জানুয়ারি ২০১৮


তলিয়ে আছে হাওর, শুরু হয়নি বোরো আবাদ

শেয়ার করুন

হবিগঞ্জ প্র্রতিনিধি : পৌষ মাস গড়িয়ে এখন চলছে মাঘ মাস। প্রতি বছর পৌষ মাসেই শুকিয়ে যায় হাওরের জমি। জমিতে দিতে হয় নতুন করে সেচ। কিন্তু এবার হাওরের তিন ভাগের দুই ভাগ জমি এখনো পানির নিচে তলিয়ে আছে। চাষাবাদের জন্য হালচাষ দিতে পারছেন না কৃষকেরা। নেই বীজতলা করার জায়গা। এতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

গেল বছর বন্যায় তলিয়ে যায় কৃষকের ফসল। আশা ছিল বোরো আবাদে ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে পারবেন তারা। কিন্তু এখনো জমি পানির নিচে তলিয়ে থাকায় কৃষকরা পড়েছেন বিপদে। এখানকার বানিয়াচং, আজমিরীগঞ্জ, লাখাই ও নবীগঞ্জ উপজেলার হাওরগুলোতে এখনো পানি জমে রয়েছে। চাষ দিতে পারছেন না কৃষকরা।

স্থানীয় কৃষকরা জানান, অনেক জমিতেই এখনো পাঁচ ছয় ফুট পর্যন্ত পানি জমে আছে। উঁচু জমিগুলোতেও রয়েছে স্যাঁতস্যাঁতে ভাব। ফলে বীজতলা করা সম্ভব হয়নি। এখন চাষাবাদ শুরু করলে সময়মতো ধান ওঠানো সম্ভব হবে না। এতে চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হবে তাদের।

স্থানীয় কৃষি অফিস জানায়, চলতি বছর হবিগঞ্জ জেলায় এক লাখ ১৯ হাজার ৭০ হেক্টর জমি আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু আবাদ হয়েছে মাত্র ৪৪ হাজার ৭০৫ হেক্টর জমি। গত বছর আবাদ করা হয়েছিল এক লাখ ১৬ হাজার ৫১০ হেক্টর জমিতে। বন্যায় সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল ১৫ হাজার ৯৫৩ হেক্টর জমি।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ আলী জানান, এ বছর হাওরের পানি একটু ধীরে কমছে। গত অক্টোবরে অতিবৃষ্টি হওয়ার কারণে পানির উচ্চতা একটু বেশি। মূলত হাওরের পানি নামে কালনী ও খোয়াই নদী দিয়ে। এ দুটি নদী যেখানে মেঘনায় মিশেছে, সেখানে মেঘনার মোহনায় পলি জমে পানির উচ্চতা বেড়ে গেছে। ফলে পানি স্বাভাবিক গতিতে নামছে না।

তিনি আরও জানান, হাওরে এলজিইডি কিছু রাস্তা নির্মাণ করেছে। এগুলো করতে গিয়ে কোথাও কোথাও স্থানীয়দের অনুরোধে কিছু জায়গা উঁচু করা হয়েছে। কিন্তু উঁচু করার পর সেখানে যে প্রয়োজনীয় সংখ্যক কালভার্ট রাখা হয়নি। ফলে হাওরের জমিগুলোতে পানি কমছে না।

বানিয়াচং উপজেলার সুজাতপুর, মন্দরী, মক্রমপুর, ইকরাম, মুরাদপুরসহ আশপাশের লোকজন জানান, কিশোরগঞ্জ জেলার ভাটি অঞ্চলে একাধিক বাঁধ নির্মাণ করায় আমাদের হাওরের পানি নামতে পারছে না। ফলে এখনো জমি চাষাবাদের জন্য তৈরি করা যাচ্ছে না। এ সপ্তাহের মধ্যে জমির চাষাবাদ করা না গেলে সময়মতো ধান ওঠানোও সম্ভব হবে না। এ অবস্থায় না খেয়ে থাকতে হবে তাদের।

(আজকের সিলেট/১৮ জানুয়ারি/ডি/এসসি/ঘ.)

শেয়ার করুন