৩০ অক্টোবর ২০২২


রাজপথে মুখোমুখি আওয়ামী লীগ-বিএনপি

শেয়ার করুন

আজকের সিলেট ডেস্ক : রাজপথের কর্মসূচিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে দেশের বৃহৎ দুটি রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। আগামী নভেম্বর এবং ডিসেম্বরে ঢাকায় বেশ কয়েকটি বড় সমাবেশ করবে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। আর ১০ ডিসেম্বর ঢাকায় সমাবেশ ডেকেছে বিএনপি। এসব কর্মসূচির মধ্যে দিয়েই এই দুটি রাজনৈতিক দল রাজপথে একে-অপরের মুখোমুখি দাঁড়াবে এবং সংঘাতে লিপ্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছেন আওয়ামী লীগ ও বিএনপির শীর্ষ নেতারা।

তারা বলছেন, বিভাগীয় সমাবেশের মধ্যে দিয়ে বিএনপি রাজপথে আছে। আর আওয়ামী লীগও বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে মাঠে আছে। নভেম্বর এবং ডিসেম্বর মাসে আওয়ামী লীগ আরো বড় ধরনের কর্মসূচি নিয়ে রাজপথে নামবে। সুতরাং এসব কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতাকর্মীরা একে-অপরের মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড়াবে। এটাই স্বাভাবিক। আর এরমধ্যে দিয়ে সংঘাত ও সংঘর্ষসহ বড় ধরণের মারামারির ঘটনা ঘটতে পারে!

গত ২৮ অক্টোবর দলের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারি বাসভবন গণভবনে আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের ২২তম জাতীয় সম্মেলন আগামী ২৪ ডিসেম্বর করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এই সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এদিকে, আগামী ১০ ডিসেম্বর ঢাকায় বিএনপির সমাবেশ। এর আগে ৪ ডিসেম্বর চট্টগ্রামের পলোগ্রাউন্ডে জনসভা করবে আওয়ামী লীগ। দলটির কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি।

আওয়ামী লীগের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, আগামী ৪ ডিসেম্বর চট্টগ্রামে জনসভার মধ্যে দিয়ে আওয়ামী লীগ সারাদেশে সমাবেশ শুরু করবে। এরমধ্যে রাজপথে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করবে দলটি। আর এসব কর্মসূচিতে বিএনপির সমাবেশের চেয়ে বেশি মানুষের উপস্থিতি দেখাতে চায় আওয়ামী লীগ। কারণ এবার বিএনপিকে কোনো ছাড় দেবে না আওয়ামী লীগ।

আওয়ামী লীগের কর্মসূচি নিয়ে বিএনপি বেশ কয়েকজন নেতার সঙ্গে কথা হয় বিবার্তার। তারা বলেন, আওয়ামী লীগের নেতারা তো বলেছিলেন যে- সেপ্টেম্বরে ঢাকার রাজপথ তাদের দখলে থাকবে। কিন্তু সেটা তো হয়নি। কারণ সেপ্টেম্বরে ঢাকার রাজপথ বিএনপির দখলে ছিলো। আগামীতেও বিএনপির দখলে রাজপথ থাকবে। সুতরাং তারা (আওয়ামী লীগ) এসব কর্মসূচি দিয়ে বিএনপিকে রাজপথ থেকে বিতাড়িত করতে পারবে না। বিএনপি মরবে কিন্তু রাজপথ ছাড়বে না।

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বি এম মোজাম্মেল হক বলেন, আওয়ামী লীগকে আরো ঢেলে সাজানো ও আরো সুন্দর করে চালানো, যুগোপযোগিভাবে নেতৃত্ব সৃষ্টি এবং আগামী নির্বাচনে আমাদের বিজয়কে নিশ্চিত করার জন্য আওয়ামী লীগের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মী থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয়, জেলা কমিটিগুলোকে ঢেলে সাজানোর চেষ্টা করছি। আর আওয়ামী লীগ মানুষের কাছাকাছি থাকবে। গণমানুষের পক্ষে কথা বলবে। মানুষের উন্নয়ন ও শান্তি জন্য আওয়ামী লীগ কাজ করবে। আর এই ধারাবাহিক কাজগুলো করার মধ্যে দিয়ে আমরা সকল ষড়যন্ত্র ও চক্রান্ত পদদলিত করে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠার জন্য কর্মসূচি দেবো এবং কাজ করব।

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন বলেন, বিএনপি এখন দুর্বল। বিএনপি নির্বাচনকে ভয় পাচ্ছে। কারণ জনগণ তাদেরকে ভোট দেবে না। তাই তারা ভোটে আসতে চাচ্ছে না। কিন্তু এবার তারা সন্ত্রাস এবং সহিংসতার ঘটনা ঘটালে জনগণ তাদেরকে রক্ষা করবে না। জনগণ রুখে দাঁড়াবে এবং প্রতিরোধ গড়ে তুলবে। এটা তাদের বোঝা উচিত। আর তা না বুঝলে বিএনপি ছিন্নভিন্ন হয়ে যাবে।

অন্যদিকে, গত ২৮ সেপ্টেম্বর চাল, ডাল, জ্বালানি তেল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যদির মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে ১০ দিনের গণ-সমাবেশ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি। ওই দিন বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

এরমধ্যে গত ১২ অক্টোবর চট্টগ্রাম মহানগরে, ১৫ অক্টোবর ময়মনসিংহে, ২২ অক্টোবর খুলনায় এবং ২৯ অক্টোবর রংপুরে সমাবেশ করেছে বিএনপি। আর আগামী ৫ নভেম্বর বরিশালে, ১২ নভেম্বর ফরিদপুরে, ১৯ নভেম্বর সিলেটে, ২৬ নভেম্বর কুমিল্লায়, ৩ ডিসেম্বর রাজশাহীতে সমাবেশ করবে বিএনপি। এসব সমাবেশ শেষে ১০ ডিসেম্বর ঢাকায় মহাসমাবেশ করবে দলটি। এই মহাসমাবেশেই আন্দোলনের চূড়ান্ত রূপরেখা ঘোষণা করার কথা রয়েছে।

পাশাপাশি ঢাকায় বিএনপি ইস্যুতে সমাবেশ এবং মহাসমাবেশ কর্মসূচিও করছে। আর এসব কর্মসূচির মধ্যে দিয়ে তারা নিজেদের সাংগঠনিক শক্তির অবস্থানও জানান দিচ্ছে।

আওয়ামী লীগের সমাবেশ এবং ঢাকার কর্মসূচির বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, তাদের (আওয়ামী লীগ) রাজনীতি তারা করবে। এতে আমাদের বলার কিছু নেই। কিন্তু তারা আমাদের কর্মসূচিগুলোতে নগ্নভাবে বাধা দিচ্ছে!

জানতে চাইলে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন, যেকোন রাজনৈতিক দল তাদের নীতি, আদর্শ এবং দাবি- দাওয়া নিয়ে মানুষের কাছে যাবে। কিন্তু গণতন্ত্র, মানুষের অধিকার, দুর্নীতি, হত্যা, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের দাম কমানো এবং বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে আমাদের আন্দোলনে বাধা দেয়ার মানে হলো হত্যাকে সমর্থন করা। এটা গণতান্ত্রিক না। এটা একটা কর্তৃত্ববাদী শাসনের বহিঃপ্রকাশ। আর এটা গণতন্ত্র বিরোধী বলেও আমি মনে করি।

বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, বিএনপি সংঘাত, মুখোমুখি এবং বিবাদ চায় না। আমাদের চলমান আন্দোলনগুলো শান্তিপূর্ণ। আমরা জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলন করছি। বরং তারাই (আওয়ামী লীগ) ভয় পেয়ে পায়ে পা লাগিয়ে ঝগড়া করতে চায়। আর বিএনপি তো আগে কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। এরপরে কর্মসূচি দিয়েছে আওয়ামী লীগ। সুতরাং ডিসেম্বর মাসে আমরা হাতে জাতীয় পতাকা নিয়ে আন্দোলন করব। আর ডিসেম্বর মাস হবে মুক্তি মাস।

শেয়ার করুন