২৮ অক্টোবর ২০২২


দলের নাম বাংলাদেশ ইত্যাদি মুসকিল লীগ, বৈরাবরী পার্টি

শেয়ার করুন

আজকের সিলেট ডেস্ক : জাতীয় নির্বাচন এলেই কিছু খুচরা দলের আবির্ভাব ঘটে। দলের নামও বেশ আজগুবি। কাগজে কলমে দলের নাম থাকলেও এসব দলের বেশিরভাগের থাকে না কোনো রাজনৈতিক কার্যালয়। প্যাড সর্বস্ব এসব দলের নেতাও হন এক দুইজন। আবার অনেকে বাসাবাড়ির ঠিকানা ব্যবহার করেন অফিস হিসেবে। অতীতে এমন অনেক দলের সন্ধানও মিলেছে। এবারও তার ব্যতিক্রম নয়।

নির্বাচন কমিশনের আহবানে গত গত পাঁচ মাসে অনেকগুলো দল নিবন্ধন চেয়ে আবেদন করে। তাদের মধ্যে ঢাকা টাইমসের কাছে ত্রিশটি দলের নাম এসেছে। নামগুলো কোনো রাজনৈতিক দলের নাকি কোনো সংগঠনের দেখে বোঝার উপায় নেই।

বাংলাদেশ ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক লীগ (বি.এন.ডি.এল) এর সভাপতি অধ্যক্ষ খন্দকার এনামুল নাসির বলেন, ‘নিবন্ধনের জন্য মঙ্গলবার আবেদনপত্র জমা দিয়েছি। নির্বাচন কমিশনের চাহিদা অনুযায়ী সবকিছু জমাও দিয়েছি। আশা করছি নিবন্ধন পেয়ে যাব।’

আপনার ভিজিটিং কার্ডে দেওয়া দলের অফিসের ঠিকানায় আছি বললে এনামুল নাসির বলেন, ‘একটু সমস্যার কারণে আমরা অফিস পল্টন থেকে রামপুরায় নিয়ে এসেছি।’ তবে রামপুরার নতুন ঠিকানা জানা যায় নি।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. কে এম মহিউদ্দিন বলেন, ‘আমাদের দেশে রাজনৈতিক দলগুলোর কাজ হল শুধুমাত্র নির্বাচন কেন্দ্রিক। নির্বাচন ছাড়া দলগুলোকে অন্যসময়ে তেমন কোনো কাজে দেখা যায় না। ছোট ছোট এ দলগুলো নির্বাচনকে সামনে রেখে বড় দলের সঙ্গে দরকষাকষি করে থাকে। যার মাধ্যমে তারা ক্ষমতার স্বাদ পায়।’

মিলিটারিরা তাদের অধীনে হওয়া নির্বাচনকে প্রতিযোগিতামূলক বুঝানোর জন্য অনেক সময় নামে-বেনামে দলের নিবন্ধন দিয়ে থাকে জানিয়ে জাবির এই অধ্যাপক বলেন, এই টাইপের দলগুলো বেশিরভাগ সময়ই তাদের হলফ নামায় দেয়া আইডিওলজিতে বিশ্বাস করে না। এগুলো সব ব্যক্তিকেন্দ্রিক দল।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে ইচ্ছুক এমন নতুন রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে নিবন্ধন নেওয়ার জন্য আবেদন চেয়ে গত ২৬ মে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। যার শেষ সময় ছিল গত ২৯ আগস্ট। দলগুলোর কাছ থেকে আশানুরূপ সাড়া না পাওয়ায় পরে আরও ২ মাস সময় বাড়ানো হয়। নির্ধারিত সময় শেষ হবে আগামি (২৯ অক্টোবর) শনিবার। তবে শনিবার সরকারি বন্ধ থাকায় রবিবারও নেওয়া হবে আবেদন পত্র।

বৃহস্পতিবার বিকাল পর্যন্ত ইসিতে নিবন্ধনের জন্য আবেদন করেছে মোট ৪০টি নতুন রাজনৈতিক দল। নিবন্ধনের জন্য আবেদন করা রাজনৈতিক দলগুলো হল- নৈতিক সমাজ, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা লীগ, বাংলাদেশ ন্যাশনাল রিপাবলিকান পার্টি, মুসকিল লীগ, নতুন বাংলা, বঙ্গবন্ধু দুস্থ ও প্রতিবন্দী উন্নয়ন পরিষদ, বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক মুক্তি আন্দোলন (বিজিএমএ), বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক পার্টি (কেএসপি), বাংলাদেশ ইত্যাদি পার্টি, প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক জোট (পিডিএ), বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টি (বিআরপি), বৈরাবরী পার্টি, বাংলাদেশ বিদেশ প্রত্যাগত প্রবাসী ও ননপ্রবাসী কল্যাণ দল, বাংলাদেশ জনমত পার্টি, বাংলাদেশ জাস্টিস এন্ড ডেভেলফমেন্ট পার্টি, বাংলাদেশ আম জনতা পার্টি, বাংলাদেশ ডেমোক্রেসি মুভমেন্ট (বিডিএম), বাংলাদেশ তৃণমূল জনতা পার্টি (বাংলাদেশ টিজেপি), এ বি পার্টি, সম্মিলিত সংগ্রাম পরিষদ, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলন-বিএনএম, বাংলাদেশ এলডিপি, বাংলাদেশ জাস্টিস পার্টি, বাংলাদেশ ন্যাশনাল গ্রীন পার্টি, বাংলাদেশ সর্বজনীন দল, বাংলাদেশ ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক লীগ, গণ রাজনৈতিক জোট-গর্জো, বাংলাদেশ ডেভেলফমেন্ট পার্টি, বাংলাদেশ বেকার সমাজ (বাবেস), নতুন ধারা বাংলাদেশ-এনডিবি ইত্যাদিসহ মোট ৪০টি দল।

তবে রবিবার আবেদন জমা দেওয়ার শেষ দিনে আবেদন প্রার্থী দলের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে ধারনা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এর মধ্যে বিডিপি ও এবি পার্টির সঙ্গে নিবন্ধন বাতিল হওয়া বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে আলোচনা রয়েছে।

নতুন রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার মো. আলমগীর বুধবার সাংবাদিকদের জানান, শর্ত পূরণ করে যেকোন দলই নিবন্ধনের জন্য আবেদন করতে পারে।

পিডিবি’র জামায়াত সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে ইসি আলমগীর বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন কোর্টের আদেশে বাতিল করা হয়েছে। কেউ নিবন্ধিত হতে চাইলে নতুন করে নিবন্ধন নিতে হবে। জামায়াতের নতুন দলে যদি কোনো যুদ্ধাপরাধী না থাকে এবং তাদের গঠনতন্ত্র যদি সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক না হয়, তাহলে শর্ত পূরণ করে ভিন্ন নামে তাদের নিবন্ধন পেতে বাধা নেই।’

২০০৮ সালে দেশে প্রথমবারের মতো দলগুলোকে নিবন্ধন দেয় ড. এটিএম শামসুল হুদার নেতৃত্বাধীন কমিশন। সে সময় ১১৭টি দল আবেদন করলে যাচাই-বাছাই শেষে নিবন্ধন পায় ৩৯টি দল। এরপর ২০১৩ সালে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করলে ৪৩টি দল আবেদন করে। কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ কমিশন সে সময় বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট (বিএনএফ) ও সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট নামে দুটি দলকে নিবন্ধন দেয়।

সবশেষ ২০১৭ সালের ৩০ অক্টোবর দল নিবন্ধনের জন্য গণবিজ্ঞপ্তি জারি করে ইসি। এতে নিবন্ধনের জন্য আবেদন করেছিল ৭৬টি রাজনৈতিক দল। কেএম নূরুল হুদা কমিশন নানা কারণে সবার আবেদন বাতিল করেছিল। পরবর্তীতে আদালতের আদেশে নিবন্ধন পায় জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন (এনডিএম) ও বাংলাদেশ কংগ্রেস।

সবমিলিয়ে গত ১৪ বছরে মোট ৪৪টি দলকে নিবন্ধন দেয় ইসি। নিবন্ধন পাওয়ার পর শর্ত পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় ও আদালতের নির্দেশে পাঁচটি দলের নিবন্ধন বাতিল করা হয়। ফলে বর্তমানে ইসিতে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল রয়েছে ৩৯টি।

নিবন্ধিত দলগুলো হল- বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), গণতন্ত্রী পার্টি, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি), বাংলাদেশের সাম্যবাদী দল (এম.এল), কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ, বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি, জাতীয় পার্টি (জাপা), বিকল্পধারা বাংলাদেশ, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ), জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি), জাকের পার্টি, গণফোরাম, গণফ্রন্ট, বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (বাংলাদেশ ন্যাপ), বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি, ইসলামী ঐক্যজোট, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ কংগ্রেস, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট, বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ), বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি), বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশন, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ (বিএমএল), বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট (মুক্তিজোট), বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট (বিএনএফ), জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন (এনডিএম), বাংলাদেশ মুসলিম লীগ ও ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি)।

নিবন্ধন বাতিল হওয়া দলগুলো হল- বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, ঐক্যবদ্ধ নাগরিক আন্দোলন, ফ্রিডম পার্টি, প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক পার্টি (পিডিপি) ও জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা)।

শেয়ার করুন