২৪ অক্টোবর ২০২২
আজকের সিলেট ডেস্ক : সদ্য বিজয়ী জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যরা শপথ করে দায়িত্ব বুঝে নেয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন। চেয়ারম্যানদের শপথ পাঠ করাবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অপরদিকে সদস্যদের শপথ পড়াবেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী তাজুল ইসলাম এমপি ।
জেলা পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যানদের শপথ ও দায়িত্বভার গ্রহণের বিষয়ে জানতে চাইলে রবিবার সন্ধ্যায় মুঠোফোনে ঢাকাটাইমসকে এ তথ্য জানান স্থানীয় সরকার মন্ত্রী তাজুল ইসলাম।
তাজুল ইসলাম আরও জানান, তাদের শপথের আগে নির্বাচন কমিশন থেকে বিজয়ী হিসেবে তাদের গ্যাজেট প্রকাশ করবে।
কবে নির্বাচন কমিশন গ্যাজেট প্রকাশ করবে- এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘সেটা আমি বলতে পারছি না। নির্বাচন কমিশন তারিখ ঠিক করবে।’
বর্তমানে জেলা পরিষদের যেসব প্রশাসক দায়িত্ব পালন করছেন তারা কবে দায়িত্ব হস্তান্তর কেরবেন- এমন প্রশ্নের জবাবে তাজুল ইসলাম বলেন, ‘আগে পরিষদ গঠন হবে। পরে তারা দায়িত্ব বুঝিয়ে দেবেন। এটা অবশ্যই শপথ পাঠ করানোর পর হবে।’
গত ১৭ অক্টোবর দেশের ৫৭টি জেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওইদিন সকাল নয়টায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়; একটানা চলে দুপুর দুইটা পর্যন্ত। এরপর রাতে মাঠপর্যায় থেকে বিজয়ী চেয়ারম্যানদের তালিকা প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
সারাদেশে জেলা পরিষদ নির্বাচনের বেসরকারি ফলাফল পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, জেলা পরিষদ নির্বাচনে ৪৮ জেলায় আওয়ামী লীগ সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী জয়ী হন। বিদ্রোহী প্রার্থীরা জয় পান ৯টি জেলায়। একটি জেলায় নির্বাচিত হয়েছেন বিরোধী দল জাতীয় পার্টি সমর্থিত প্রার্থী এবং চাঁদপুরে দু’জন প্রার্থী থাকায় কাউকে সমর্থন দেয়নি আওয়ামী লীগ। এখানে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী ও জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি ওচমান গনি পাটওয়ারী।
বেসরকারি ফলাফলে আওয়ামী লীগ সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থীদের মধ্যে সাতক্ষীরায় মো. নজরুল ইসলাম, খুলনায় শেখ হারুনুর রশীদ, নেত্রকোনায় বীর মুক্তিযোদ্ধা অসিত কুমার সরকার, রাজবাড়ীতে এ কে এম শফিকুল মোর্শেদ, মানিকগঞ্জে গোলাম মহিউদ্দিন, যশোরে সাইফুজ্জামান পিকুল, হবিগঞ্জে ডা. মুশফিক হুসেন চৌধুরী, চুয়াডাঙ্গায় মাহফুজুর রহমান মনজু, গাজীপুরে মোতাহার হোসেন মোল্লা, গাইবান্ধায় আবু বকর সিদ্দিক, মাগুরায় পঙ্কজ কুমার কুণ্ডু, নাটোরে সাজেদুর রহমান খান, নীলফামারীতে অ্যাডভোকেট মমতাজুল হক, জয়পুরহাটে অধ্যক্ষ খাজা সামছুল আলম, নড়াইলে অ্যাডভোকেট সুবাস চন্দ্র বোস, মেহেরপুরে অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আল মামুন সরকার, ময়মনসিংহে অধ্যাপক ইউসুফ খান পাঠান, রাজশাহীতে বীর মুক্তিযোদ্ধা মীর ইকবাল, কিশোরগঞ্জে অ্যাডভোকেট মো. জিল্লুর রহমান, চট্টগ্রামে এটিএম পেয়ারুল ইসলাম, কুষ্টিয়ায় সদর উদ্দিন খান এবং বগুড়ায় ডা.মকবুল হোসেন বিজয়ী হয়েছেন।
নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহীদের মধ্যে ফরিদপুরে মো. শাহাদাৎ হোসেন, নরসিংদীতে মো. মনির হোসেন ভূঁইয়া, শেরপুরে মো. হুমায়ুন কবীর, কক্সবাজারে শাহীনুল হক মার্শাল, পঞ্চগড়ে আব্দুল হান্নান শেখ, ঝিনাইদহে হরুন অর রশিদ, রংপুরে মোসাদ্দেক হোসেন, পটুয়াখালী হাফিজুর রহমান, সুনামগঞ্জে নুরুল হুদা মুকুট জয়ী হয়েছে।
দিনাজপুর জেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে জাতীয় পার্টির প্রার্থী দেলোয়ার হোসেন নির্বাচিত হয়েছেন।
এ ছাড়া ২৫ জেলায় চেয়ারম্যান বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন । বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত জেলা হলো- ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, ফেনী, ভোলা, কুমিল্লা, গোপালগঞ্জ, জামালপুর, ঝালকাঠী, টাঙ্গাইল, কুড়িগ্রাম, ঠাকুরগাঁও, লালমনিরহাট, পাবনা, নওগাঁ, পিরোজপুর, বরগুনা, বরিশাল, বাগেরহাট, মাদারীপুর, মৌলভীবাজার, লক্ষ্মীপুর, শরীয়তপুর, সিরাজগঞ্জ ও সিলেট জেলা।
তিন পার্বত্য জেলা বাদে ৬১টি জেলা পরিষদে নির্বাচনের জন্য তফসিল ঘোষণা করেছিল নির্বাচন কমিশন। তবে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নোয়াখালী জেলা পরিষদ নির্বাচন আদালত স্থগিত রয়েছে ।
গত ২৩ আগস্ট দেশের দ্বিতীয়বারের মতো জেলা পরিষদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হয়।
এ ব্যাপারে ফরিদপুর জেলা পরিষদের সদ্য বিজয়ী সদস্য হাসান শিকদার বলেন, ‘আমাদের কবে শপথ পড়াবেন সেটা আমিও জানি না।’