১৫ জানুয়ারি ২০১৮


আজমিরীগঞ্জে ইউএনও লাঞ্চিত, মামলা

শেয়ার করুন

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি : আজমিরীগঞ্জ উপজেলার উন্নয়ন মেলায় ব্যক্তিগত ব্যানার অপসারণ করায় যুবলীগ নেতার হাতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পুলক কান্তি চক্রবর্তী লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। আজমিরীগঞ্জ থানায় মামলাটি দায়ের করেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী।

মামলায় আজমিরীগঞ্জ উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক বাবুল রায় ও যুগ্ম-আহবায়ক মমিনুর রহমান সজিবের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ১০/১২জনকে আসামী করা হয়। মামলা দায়েরের পরপরই পুলিশ যুবলীগ কর্মী উকেদ মিয়াকে আজমিরীগঞ্জ বাজার থেকে গ্রেফতার করে। এর পূর্বে শনিবার সন্ধ্যায় হবিগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুল মজিদ খানের উপস্থিতিতে সমঝোতা বৈঠক এবং অভিযুক্তরা ক্ষমা চাইলেও বিষয়টির নিষ্পত্তি হয়নি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আজমিরীগঞ্জে তিন দিন ব্যাপি উন্নয়ন মেলা শুরু হলে মেলার মধ্যে এবং উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় কয়েকটি ব্যানার লাগান উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম-আহবায়ক মমিনুর রহমান সজিব। ব্যানারে তিনি স্থানীয় এমপি অ্যাডভোকেট আব্দুল মজিদ খান ও জেলা যুবলীগের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকের ছবি ব্যবহার করেন এবং এমপি আব্দুল মজিদ খানের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের ছবি ব্যবহার করেন।

শনিবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে সকল দলীয় ব্যানার মেলা ও অফিস প্রাঙ্গণ থেকে অপসারণ করা হয়। বিকেলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পুলক কান্তি চক্রবর্তী মেলা পরিদর্শনে গেলে সেখানে উপস্থিত হয়ে উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক বাবুল রায় ও যুগ্ম আহবায়ক মমিনুর রহমান সজিবের নেতৃত্বে যুবলীগের নেতাকর্মীরা তাকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেন এবং হুমকি দেন। এক পর্যায়ে মেলায় থাকা দর্শনার্থীরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে মেলা থেকে তার কার্যালয়ে নিয়ে যান। তখন সেখানে উপজেলার সকল কর্মকর্তা মিলিত হন এবং মেলার কাজ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখেন। এক পর্যায়ে যুবলীগের কতিপয় নেতাকর্মী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে জুতা ছিল বের করে। সন্ধ্যায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে এমপি অ্যাডভোকেট আব্দুল মজিদ খান ও উপজেলা চেয়ারম্যান আতর আলীসহ দলীয় নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে এক সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে বাবুল রায় ও মমিনুর রহমান সজিব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। কিন্তু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এভাবে শেষ করতে অপারগতা প্রকাশ করেন। কারণ বিষয়টি এর পূর্বেই তিনি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করেন।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পুলক কান্তি চক্রবর্তী জানান, সরকারি কাজে কাজে বিঘ্ন সৃষ্টি, মানহানী, অপমান, শান্তিভঙ্গ, হুলুস্থুল ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের জন্য এই মামলা দায়ের করা হয়েছে।

আজমিরীগঞ্জ থানার ওসি ইকবাল হোসেন জানান, এ ব্যাপারে অভিযোগ পেয়ে মামলা এফআইআর করা হয়েছে এবং এক আসামীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্যান্য আসামীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং আসামীদেরকে ধরার জন্য অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক মমিনুর রহমান সজিব বলেন, এমপি ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদকের উপস্থিতিতে আমরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে মাফ চাইলাম। মাফ চাওয়ার ছবি ও ভিডিও ফেসবুক ও মিডিয়ায় ছড়ানো হয়েছে। এরপরও যদি মামলা হয় তাহলে আমরা কোথায় যাব। তিনি আরও বলেন, আমরা রাজনীতি করি। কিন্তু এভাবে আমাদের বিরুদ্ধে মামলা দেয়ায় দলের পক্ষ থেকে সভা করে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

জেলা প্রশাসক মনীষ চাকমা’র সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, প্রশাসন মাঠ পর্যায়ে সরকারের কাজ বাস্তবায়ন করে। যারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে বাজে আচরণ করেছে, পূর্বেও সরকারি কর্মকর্তার সাথে তাদের বাজে আচরণ করার রেকর্ড রয়েছে। তাই এ ব্যাপারে আইনের আশ্রয় নেয়া হয়েছে।

(আজকের সিলেট/১৫ জানুয়ারি/ডি/এমকে/ঘ.)

শেয়ার করুন