৯ অক্টোবর ২০২২


নবীজী (স.) এর মুজেজা

শেয়ার করুন

মো. আব্দুশ শহীদ নেগালী : মু’জিয়া নবুয়তের প্রমাণ বহন করে। প্রিয় রাসুল (সা.) এর দশ হাজারের বেশি মু’জিযা ছিল। নিম্নে কয়েকটি মু’জিযার উল্লেখ করছি। যেগুলো, খামাইসুল কুবরা, সাওয়াহিদুন নবুয়ত, দালাইলুন নবুয়ত। মাওয়াহিবুল লাদুনিয়া থেকে সংগৃহীত।

প্রিয় রাসুল (সা.) মায়ের উদরে চলে আসার সুসংবাদ আসমান জমিনে ঘোষণা করা হয়েছিল। শুকনা মৃত বৃক্ষরাজি সবুজ সতেজ হয়ে উঠেছিল, ওষধি বৃক্ষরাজি ফলে ভরপুর হয়ে উঠেছিল। রাসুল (সা.) মাতৃগর্ভে চলে আসার পূর্বে কুরাইশরা অভাব অনটনের দরুণ বিপদগ্রস্ত ছিল। মাতৃগর্ভে আসার বছর তাদের স্বচ্ছলতা ফিরে আসে। এজন্য তারা এ বছরের নাম রাখে স্বাচ্ছন্দ্য ও স্বচ্ছলতার বছর।

যে রাত্রে হুজুরে আকরাম (সা.) মায়ের উদরে চলে আসেন, সে রাত্রে কুরাইশদের ঘর এবং স্থানসমূহ নূরে আলোকিত হয়েছিল। হযরত মা আমেনা (রা.) গর্ভাবস্থায় যখন কংকর বা পাথর বিশিষ্ট কোন রাস্তা দিয়ে হেটে যেতেন, তখন তা তুলার মতো নরম হয়ে যেত।
হযরত আমেনা (রা.) গর্ভাবস্থায় যখন কোন কূপ থেকে পানি আনার জন্য বেরিয়ে যেতেন, তখন সে কূপের পানি যতই গভীরে থাকুক না কেন তাহা সাথে সাথে উপরে উঠে যেত, যাতে তিনি অনায়াসে পানি উঠাতে পারেন।

প্রিয় নবী (সা.) মাতৃগর্ভে থাকাকালীন কোথাও বের হলে একখণ্ড নূরানী মেঘমালা তাকে ছায়া দিত এবং পক্ষীকুল ফয়েজ ও বরকত হাসিলের জন্য তার চতুর্দিকে প্রদক্ষিণ করতো।
মহানবী (সা.) পৃথিবীতে আগমনের দিন শয়তানের চেহারা কালো হয়ে যায়। তার গদি উড়ে গিয়ে কৃষ্ণ সাগরে নিপতিত হয়। সকল জালিম বাদশার মসনদ উল্টে যায়। দুনিয়ার সকল মূর্তির মুখ থুবড়ে যায়।

রাসুল (সা.) এর জন্মের মুহূর্তে পারস্য সাম্রাজ্যের রাজ ভবন কেপে উঠে। এর চৌদ্দটি মূল খুঁটি ভেঙে পড়ে। হাজার বছরের প্রজ্জ্বলিত অগ্নি নিভে যায়। কাবা শরীফের ভিতর ৩৬০টি মূর্তি উপুড় হয়ে যায়। কা’বা শরীফ নবীর জন্মস্থানের দিকে ঝুঁকে পড়ে সেজদা করে। আকাশের তারকারাজি কা’বা শরীফের নিকটবর্তী আকাশে নেমে এসে রাসুল (সা.) এর জন্মস্থানের দিকে ঝুঁকে পড়ে।

মা আমেনা বলেন যে, শিশু মোহাম্মদ (সা.) পৃথিবীতে আগমনের সাথে সাথে শাহাদাত আঙ্গুল আকাশের দিকে উঠিয়ে বললেন আল্লাহ ব্যতীত কোন মা’বুদ নাই এবং আমি আল্লাহর রাসুল।
আব্দুল মোত্তালিব বলেন, শিশু মোহাম্মদ (সা.) এর জন্মের মুহূর্তে আমি শুনলাম কা’বা শরীফ থেকে আওয়াজ আসছে আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার। আজ আমি মুশরিকদের অপবিত্রতা থেকে মুক্তি পেলাম।

হযরত উরওয়া (রা.) বর্ণনা করেন- কুরাইশদের একটি দল যাদের মধ্যে ওরাকা বিন নওফল এবং যায়েদ বিন উমরও ছিলেন। রাসুল (সা.) এর জন্মের রাত্রে আমরা দেবতা ঘরে গিয়ে দেখলাম যে দেবতাগুলো উপুড় হয়ে পড়ে আছে। তারা দেবতাগুলো সোজা করলে সাথে সাথে আবার উপুড় হয়ে যায়। তাদের মধ্য হতে একজন বললেন যে, নিশ্চয় পৃথিবীতে নতুন কোন কিছু ঘটে গেছে যার দরুণ এরূপ অবস্থা।

একথা দেবতাগুলো শোনার পর তারা সম্মিলিতভাবে একটি কবিতা আবৃত্তি করতে লাগল অনুবাদ-
উপুড় হয়ে পড়লো দেবতাগুলো শিশু মোহাম্মদের কারণে।
যার নূরে পৃথিবীর পূর্ব হতে পশ্চিম পর্যন্ত আলোকিত হয়েছে। সারা পৃথিবীর দেবতাগুলো তার সম্মানার্থে সিজদাবনত ভাবে পড়ে রয়েছে।
পাঠকগণ রাসুল (সা.) এর মু’জিযার মধ্যে সবচাইতে বড় মু’জিযা হচ্ছে (১) পবিত্র কুরআন শরীফ (২) মে’রাজ এবং (৩) চন্দ্র দ্বিখন্ডিত করা (৪) মৃতকে জীবিত করা।

একটি মু’জিযাকে অস্বীকার করা মানে নবুয়তের একটি অংশকে অস্বীকার করা।

(লেখক : শিক্ষক।)

শেয়ার করুন