৪ সেপ্টেম্বর ২০২২


হাতের ইশারায় চলছে ডিজিটাল নগরী

শেয়ার করুন

সুবর্ণা হামিদ : বাংলাদেশের প্রথম ডিজিটাল মহানগর সিলেট। কিন্তু সেই নগরীর ট্রাফিক সিগনালে ডিজিটাল করা হয়নি। হাত ও বাঁশির মাধ্যমে দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে ট্রাফিক পুলিশকে। চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন জনসাধারণ, চালক এবং ট্রাফিক পুলিশ নিজেও।

২০২০ সালে সিলেট মহানগরকে দেশের প্রথম ডিজিটাল সিটি’ ঘোষণা করা হয়। মাটির নিচে বিদ্যুতের তার (লাইন), অপরাধী শনাক্তে বিশেষায়িত ক্যামেরা ও নগরজুড়ে ফ্রি ওয়াইফাই সেবা চালু সহ আরো নানা ধরনের উন্নয়ন করা হয় সিলেট নগরীতে। কিন্তু ডিজিটাল কর্মকাণ্ডের ভিড়েও এনালগ পদ্ধতিতে রয়ে গেলো সিলেটের প্রতিটা মোড়ের ট্রাফিক সিগনাল ব্যবস্থা। যার ফলে অনেক কষ্টে দায়িত্ব পালন করতে হয় ট্রাফিক পুলিশকে। ঘণ্টারর পর ঘণ্টা হাত নাড়িয়ে, বাঁশি বাজিয়ে যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করেন তারা। অ্যানালগ সিস্টেমের কারণে রাস্তায় তৈরী হচ্ছে নানা রকম জটিলতা।

নগরীর আম্বরখানা পয়েন্টে দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশ নজরুল ইসলাম জানান, হাত দিয়ে ইশারা করে যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করতে হিমশিম খেতে হয় আমাদেরকে। অনেক সময় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। এই গরমে সারাদিন খুব কষ্ট হয়, কিন্তু সবচেয়ে বেশি সমস্যা হয় রাত ৮ টা থেকে ১০ টা পযর্ন্ত এই সময়ে। তখন শহরের সব মানুষ দোকানপাট বন্ধ করে ঘরমুখো থাকে। আর তখনই তীব্র যানজট তৈরি হয়। এই সময় হাতের ইশারা মানতে চায় না বেশির ভাগ চালকেরা, সৃষ্টি করে বিশৃঙ্খলার।

সিএনজি অটোরিকশা চালক শফিকুল বলেন, সিলেট শহরে আগে এতটা যানজট ছিল না। কিন্তু অনেকটা সময় যানজটে পার হয়ে যায়। তা ছাড়া গাড়ি পেছনে থাকলে সামনে কী হচ্ছে বুঝা যায় না। তখন ট্রাফিকের হাতের ইশারাও দেখা যায় না, অনুমান করে সামনে যেতে হয়। যার কারণে অনেক সমস্যায় পড়তে হয়, নানা কথা শুনতে হয় যাত্রীদের মুখ থেকে। পুলিশের বকুনি তো আছেই।

ডা. ওয়াজিমা চৌধুরী নামে একজন যাত্রী বলেন, সিলেট একটা ছোট শহর, এখানকার রাস্তাগুলো তেমন বড় নয়। তার মধ্যে নেই তেমন কোন ফুটপাত ব্যবস্থা। যা আছে তা যথেষ্ট নয়, এর মধ্যে ফুটপাত জুড়ে থাকেন নানা রকম ভ্রাম্যমান ব্যবসায়ীরা। তাই মানুষ ফুটপাতে হাঁটার জায়গা না পেয়ে রাস্তায় হাঁটে। ছোট ছোট রাস্তায় মানুষ, যানবাহন সব মিলিয়ে এমনিতেই ভরপুর। তার মাঝে এখন সব চেয়ে বড় সমস্যা ট্রাফিক জ্যাম। আর তার একটা কারণ আমি মনে করি ডিজিটাল ট্রাফিক সিগনাল না থাকায় হাতের সাহায্যে যানবাহন নিয়ন্ত্রণ। হাতের ইশারায় নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে অনেক সময় ট্রাফিক পুলিশকে হিমশিম খেতে হয়, আবার কখনও কখনও তারাও উদাসীন হয়ে থাকেন। রাস্তা আটকিয়ে রেখে মোবাইলে কথা বলতেও দেখা যায় ট্রাফিক পুলিশকে।

তিনি বলেন, যদি ডিজিটাল সিগনাল লাইট থাকতো তাহলে হয়তো এতো সমস্যা হতো না। আমাদের মেয়র সাহেব সিলেটের জন্য অনেক কাজ করেছেন, আর যদি এই কাজটা করতে পারতেন তাহলে হয়তো অনেক সময় বাঁচতো আর আমাদেরও অনেক উপকার হতো।

সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, সিলেট কে ডিজিটাল শহর করতে আমি আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। তিনি বলেন, অতীতে প্রায় ৩০ লক্ষ টাকা ব্যয় করে নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে স্হাপন করা হয়েছিল সিগনাল বাতি, কিন্তু এগুলোর কোন অস্তিত্বই নেই। এখন আবার নতুন করে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট গুলোতে ডিজিটাল সিগনাল বাতি লাগানোর পরিকল্পনা আমাদের আছে। তবে এটা যেহেতু বিদ্যুৎ বিভাগের ব্যাপার সেজন্য ঢাকা থেকে অনুমতি পেলেই আমরা কাজ শুরু করবো।

শেয়ার করুন