৩০ আগস্ট ২০২২
নিজস্ব প্রতিবেদক : সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেছেন, ২০০৯ সাল থেকে এখন পর্যন্ত দেশের প্রায় ৬৫০ জন নাগরিককে গুম করা হয়েছে। এরমধ্যে রয়েছেন, সিলেটবাসীর প্রিয় নেতা বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এম. ইলিয়াস আলী, ছাত্রদল নেতা ইফতেখার হোসেন দিনার, জুনেদ আহমদ ও এম. ইলিয়াস আলীর গাড়ি চালক আনসার আলী। যাকে গুম করা হয়, তার প্রিয়জনেরা বিধ্বস্ত, দুর্দশাগ্রস্ত এবং সংকটাপন্ন রয়েছেন।যে গুম হচ্ছে শুধু সেই যে শিকার হচ্ছে, তা নয়। তার পরিবার-পরিজনও একইভাবে অপরাধের শিকার হয়। দিনের পর দিন মাসের পর মাস তারা জানতে পারে না যে তাদের প্রিয়জনের ভাগ্যে কী ঘটেছে। তাই এম. ইলিয়াস আলী, বিএনপির গুম হওয়া সকল নেতাকর্মীদের সহ এখন পর্যন্ত গুম হওয়া দেশের সকল নাগরিকদের অভিলম্বে তাদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিতে হবে।
মঙ্গলবার দুপুরে আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে সিলেট জেলা বিএনপির উদ্যোগে গুম হওয়া সকল নাগরিকদের তাদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেয়ার দাবীতে আয়োজিক র্যালি ও জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি প্রদান পরবর্তী সংক্ষিপ্ত সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উলক্ষে নগরীর সুরমা পয়েন্ট থেকে শুরু হয়ে কোর্ট পয়েন্টে দিয়ে শেষ হয়।
তিনি বলেন, সারা বিশ্বের গুমের প্রকোপে উদ্বিগ্ন হয়ে জাতিসংঘ ২০০২ থেকে কাজ শুরু করে ২০০৬ সালের মাঝামাঝি নাগাদ গুমবিরোধী আন্তর্জাতিক সনদ রচনা করে। যার ইংরেজি নাম—ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন ফর প্রটেকশন অব অল পারসন্স অ্যাগেইনস্ট এনফোর্সড ডিসঅ্যাপিয়ারেন্স। ২০১০ সালের ২১শে ডিসেম্বর এই আন্তর্জাতিক সনদ কার্যকর হয়েছে আর ২০১১ থেকে ৩০ আগস্ট থেকে দিনটিকে গুমের শিকার ব্যক্তিবর্গের জন্য আন্তর্জাতিক দিবস হিসেবে পালিত হচ্ছে। এখন পর্যন্ত বিশ্বের ৪৩টি দেশ সনদটি গ্রহণ করেছে আর ৯৩টি দেশ এতে স্বাক্ষর করেছে। তিনি যেসব রাষ্ট্র গুম করে তারা এই সনদ গ্রহণ করেনি। আমাদের দুর্ভাগ্য প্রিয় জন্মভূমি বাংলাদেশও এই তালিকায় রয়েছে। যা আমাদের জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক ও উদ্বেগজনক।
সিলেট জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী বলেন, দেশে রাষ্ট্রের মদদেই বিএনপি নেতাকর্মীসহ সাধারণ নাগরিকদের গুম করা হয়েছে। যেকারনে বাংলাদেশ গুমবিরোধী আন্তর্জাতিক সনদ গ্রহণ করেনি। গুম ও খুন করে বিএনপির চলমান আন্দোলনকে থামিয়ে দেয়া যাবে না। অভিলম্বে আমাদের গুম হওয়া সকল নেতাকর্মীসহ যেসকল নাগরিত গুম হয়েছেন তাদেরকে ফিরিয়ে দিতে হবে। অন্যতায় দেশের মানুষ নিরিবিচ্ছিন্ন আন্দোলনের মাধ্যমে এই মাফিয়া সরকারকে ক্ষমতা থেকে বিতাড়িত করবে।
এসময় উপস্থিত ছিলেন- জেলা বিএনপি নেতা এডভোকেট আশিক উদ্দিন, এডভোকেট এটিএম ফয়েজ, শামিম আহমদ, ইশতিয়াক আহমদ সিদ্দিকি, মামুনুর রশিদ মামুন, মাহবুবুল হক চৌধুরী, কোহিনুর আহমদ, আজিজুর রহমান আজিজ, এডভোকেট বদরুল ইসলাম, এডভোকেট আতিকুর রহমান সাবু, মইনুল ইসলাম, তাজরুল ইসলাম তাজুল, আব্দুল লতিফ খান, আব্দুর রহমান, নিজাম উদ্দিন জায়গীরদার, এডভোকেট মুজিবুর রহমান মুজিব, রফিকুল ইসলাম শাহপরান, এডভোকেট কামাল হুসেন, আব্দুন নুর চেয়ারম্যান, আনোয়ার হুসেন মানিক, এডভোকেট আল ইসলাম মুমিন, এডভোকেট আবু তাহের চৌধুরী, এডভোকেট এজাজ আহমদ, এডভোকেট মোস্তাক আহমদ, এডভোকেট ওবায়দুর রহমান ফাহমী, আ ফ ম কামাল, শাকিল মুর্শেদ, বুরহান উদ্দিন, ফরিদ উদ্দিন, আব্দুল মালেক, লোকমান আহমদ, আব্দুল আহাদ চৌধুরী শামীম, আজিজ হোসেন আজিজ, মনিরুল ইসলাম তুরুণ, মাহবুব আলম, জালাল খান, বখতিয়ার আহমদ ইমরান, আল মামুন, সোহেল ইবনে রাজা, আকবর আলী, শামছুর রহমান শামীম, রায়হান আলম, সামছুর রহমান সুজা, আশরাফুল আলম বাহার, আব্দুল মজিদ, ময়নুল ইসলাম, কামরুল ইসলাম, মিজানুর রহমান পাবেল, মাজেদ আহমদ, আজহার আহমদ অনিক, রুহুল কুদ্দুস কামরুল, হারুনুর রশিদ, আফজাল হোসেন, জুমেল আহমদ, রাসেল আহমদ, মোঃ সালাহ উদ্দিন, আলি আহমদ প্রমূখ।
এদিকে, বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এম. ইলিয়াস আলীসহ গুম হওয়া নেতাকর্মীদের ফিরিয়ে দেয়ার দাবীতে নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে লিফলেট বিতরণ করেন জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী সহ নেতৃবৃন্দ।