২৯ আগস্ট ২০২২
ক্রীড়া ডেস্ক : ঠিক ১০ মাস ৫ দিন আগে এই দুবাই আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে পাকিস্তানের কাছে ১০ উইকেটে হেরে বিশ্বকাপে নড়বড়ে শুরুটা হয়েছিল ভারতের। এশিয়া কাপে সেটা হতে দিল না রোহিতের দল। বিরাট কোহলির সেঞ্চুরি ম্যাচে পাকিস্তানকে হারিয়ে মধুর প্রতিশোধ নিয়েছে ভারত।
পাকিস্তানের দেয়া ১৪৮ রানের লক্ষ্যমাত্রা ২ বল ও ৫ উইকেট হাতে রেখেই টপকে যায় ভারত। তবে ভারতকে ম্যাচটি সহজে জিততে দেয়নি পাক বোলাররা। শেষ ওভার পর্যন্ত টেনে নিয়ে গেছে ম্যাচ। আর যা সম্ভব হয়েছে অভিষিক্ত তরুণ পেসার নাসিম শাহ ও আরেক তরুণ পেসার শাহনেওয়াজ দাহানির কল্যাণে। এ দুজন ভারতের রানের চাকার লাগাম টেনে রাখেন।
আগে ব্যাটিং করে মোহাম্মদ রিজওয়ানের ৪৩, শেষ দিকে হারিস রউফের ৭ বলে ১৩ রান ও শাহনেওয়াজ দাহানির ৬ বলে ১৬ রানের কল্যাণে সব উইকেট হারিয়ে ১৪৭ রান সংগ্রহ করে পাকিস্তান। জবাবে বিরাট কোহলির ৩৫, রবীন্দ্র জাদেজার ৩৫ ও হার্দিক পান্ডিয়ার অপরাজিত ১৭ বলে ৩৩ রানের কল্যাণে ২ বল ও ৫ উইকেট হাতে রেখে জয় পায় ভারত।
এর আগে টস হেরে ব্যাটিং করতে নামে পাকিস্তান। কিন্তু স্কোরবোর্ডে অর্ধশত রান তোলার আগেই বিদায় নেন দুই ইনফর্ম ব্যাটার বাবর আজম ও ফখর জামান। তৃতীয় উইকেটে সেই ধাক্কা কিছুটা সামাল দেন রিজওয়ান ও ইফতেখার আহমেদ। কিন্তু দলীয় শতরান পেরুনোর আগেই আরও ৩ উইকেট হারায় মেন ইন গ্রিনরা।
দলীয় শতরান পার করার পর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট যেতে থাকে পাকিস্তানের। ভারতের দুই পেসার ভুবনেশ্বর কুমার ও হার্দিক পান্ডিয়া মুড়ি মুরকির মতো উইকেট নিতে থাকেন। এ দুজন মিলে তুলে নেন পাকিস্তানের ৭ উইকেট। শেষ পর্যন্ত পাকিস্তান ১৪৭ রানে গিয়ে থামে শেষ দিকে হারিস রউফের ৭ বলে ১৩ ও শাহনেওয়াজ দাহানির ৬ বলে ১৬ রানের ক্যামিও ইনিংসের কল্যাণে।
পাকিস্তানের দেয়া লক্ষ্যমাত্রায় ব্যাটিং করতে নেমে স্কোর বোর্ডে ১ রান তোলার পরই লোকেশ রাহুলকে বোল্ড করেন অভিষিক্ত নাসিম শাহ। পরের বলেই বিরাট কোহলিও বিদায় নিতেন যদি না স্লিপে ফখর জামান ক্যাচ মিস না করতেন। পরে রোহিত ও কোহলি মিলে দ্বিতীয় উইকেটে ৪৯ রানের জুটি গড়েন। দলীয় সংগ্রহ অর্ধশততে পৌঁছালে রোহিত শর্মা ১২ রান করে মোহাম্মদ নওয়াজের শিকার হয়ে ফেরেন।
রোহিতের বিদায়ের ৩ রান পর নওয়াজের দ্বিতীয় শিকারে পরিণত হন কোহলি। তার আগে কোহলি ৩ চার ও ১ ছয়ে ৩৪ বলে ৩৫ রানের ইনিংস খেলেন। এরপর দলীয় ৮৯ রানে সূর্যকুমার যাদবকে বোল্ড করেন নাসিম শাহ। এটি ছিল ম্যাচে তার দ্বিতীয় উইকেট। দলীয় ১৪১ রানে রবীন্দ্র জাদেজাকে বোল্ড করে ম্যাচে তৃতীয় উইকেট শিকার করেন মোহাম্মদ নওয়াজ। তার আগে জাদেজা ২৯ বলে ২ চার ও ২ ছয়ে ৩৫ রান সংগ্রহ করেন। দলের প্রয়োজনীয় বাকি ৭ রান কোন উইকেট না হারিয়ে তুলে নেন পান্ডিয়া ও কার্তিক।
পাকিস্তানের হয়ে নাসিম শাহ ২টি ও মোহাম্মদ নওয়াজ ৩টি উইকেট শিকার করেন। ব্যাট ও বল হাতে অলরাউন্ড পারফর্ম্যান্সের জন্য প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার পান ভারতের হার্দিক পান্ডিয়া। তিনি বল হাতে ৩ উইকেট ও ব্যাট হাতে অপরাজিত ১৭ বলে ৩৩ রানের ইনিংস খেলেন।
এ হারের ফলে এশিয়া কাপে ১৫ দেখায় ৯ ম্যাচে জয় দেখল ভারত। আর পাকিস্তানের জয় ৫ ম্যাচ। অন্যদিকে টি-টোয়েন্টিতে ১০ বারের মুখোমুখিতে ৭ বার জয় পেলো ভারত। যেখানে পাকিস্তানের জয় ২টিতে।