২৪ আগস্ট ২০২২


এক রাস্তায় ১০ গ্রামবাসীর দুর্ভোগ-ভোগান্তি

শেয়ার করুন

ছাতক (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি : বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ছাতক সদর ইউনিয়নের শ্যামপাড়া টু কান্দিগাঁও রাস্তায় গত তিন মাস ধরে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। এ কারণে সেখানকার ১০টি গ্রামের বাসিন্দাদের চলাচলের ক্ষেত্রে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এমনকি এসব গ্রামের বাসিন্দাদের মৃত ব্যক্তিদের দাফন-কাফনে অংশ নেয়াও কষ্টদায়ক হয়ে পড়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ছাতকস্থ আকিজ ফ্যাক্টরির সম্মুখস্থ শ্যামপাড়া থেকে এ রাস্তাটি শুরু হয়েছে। বর্তমানে মধুকুনি থেকে মানসীনগর গ্রামের মধ্যবর্তী রাস্তার অংশের অবস্থা সবচাইতে খারাপ। রাস্তার এ অংশে বড় বড় দুটি খালের সৃষ্টি হয়েছে। চলাচলের জন্য স্থানীয় বাসিন্দারা সেখানে দুটি সাঁকো নির্মাণ করেছেন। বন্যার পানিতে পুরো রাস্তার স্থানে স্থানে পিচঢালা উঠে গেছে। বর্তমানে ছাতক পৌরসভার শিববাড়ি থেকে মধুকুনি অংশ পর্যন্ত সিএনজি অটোরিক্সা ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। এরপর লোকজনকে পাঁয়ে হেঁটে চলাচল করতে হচ্ছে কিংবা বিকল্প পথ দিয়ে গন্তব্যে যেতে হচ্ছে। গত তিন মাস ধরে লোকজনকে এভাবেই চলাচলের ক্ষেত্রে পোহাতে হচ্ছে দুর্ভোগ।

স্থানীয় বাসিন্দা মিজানুর রহমান জানান, গত ২২মে প্রথম দফা বন্যার পর থেকে রাস্তা দিয়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে। এরপর ১৫ জুনের দ্বিতীয় দফা বন্যা রাস্তাটিকে ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন করে ফেলে। এ অবস্থায় মানুষকে বিকল্প আমবাড়ি রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। এতে টাকা পয়সার পাশাপাশি সময়ক্ষেপণ হচ্ছে।

প্রসঙ্গক্রমে তিনি বলেন, কিছুদিন পূর্বে মারা যাওয়া তার এক চাচীর দাফন কাজে অংশ নিতে আসা স্বজনরা অনেক কষ্ট করে যোগ দেন। ফেরার ক্ষেত্রেও তাদেরকে দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

মিজানুর রহমান হাছনু নামের অপর এক বাসিন্দা জানান, শ্যামপাড়া ছাড়াও মধুকুনি, তিররাই, মানসীনগর, রাউতগাঁও, মুক্তিরগাঁও ও কান্দিগাঁওসহ প্রায় ১০ গ্রামের লোকজন এ রাস্তা ব্যবহার করেন। সবমিলিয়ে প্রায় ১০ সহস্রাধিক লোক রাস্তাটি ব্যবহার করেন। কিন্তু, দীর্ঘদিন ধরে রাস্তাটি সংস্কার কিংবা মেরামতের উদ্যোগ না নেয়ায় সেখানকার বাসিন্দাদের অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

যোগাযোগ করা হলে ছাতক স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর উপজেলা প্রকৌশলী আফছার আহমেদ জানান, রাস্তাটি সম্পর্কে স্থানীয় ইউনিয়ন চেয়ারম্যান তাকে অবহিত করেছেন। আজ বুধবার তিনি রাস্তাটি পরিদর্শনে যাবেন এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।

বন্যায় পুরো উপজেলায় এলজিইডি’র রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, সবমিলিয়ে এ উপজেলায় ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তার পরিমাণ ২৩৯ কিলোমিটার। এজন্য ১৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সিলেট ও সুনামগঞ্জের রাস্তাঘাট মেরামত-সংস্কারের জন্য একটি ডিপিপি (ডেভেলপম্যান্ট প্রজেক্ট প্রপোজাল) প্রস্তুত করা হয়েছে। প্রকল্পটি মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

শেয়ার করুন